somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসল হত্যাকারী পালিয়ে গেলো, সবাই অন্যের দিকে হাত উঠালো!

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ আগে, কোন একটি দল ইস্যু পেলেই হরতাল করতো। পত্রিকায় কার্টুন ছাপা হতো যে একজন ঝুড়িতে অনেক ইস্যু নিয়ে বসে আছে; আর একজন কিনছে। সেটা বেশ পুরাতন। তখন মূলত সোশ্যাল মিডিয়া না থাকায় বড় বড় রাজনৈতিক দলই ইস্যু কাজে লাগাতো। আর চায়ের দোকানের আড্ডায় মুরব্বীটাইপের অকর্মা জনগন সেই ইস্যুর মধ্যে হিসু করে চায়ের দোকানের আয় এবং গ্যাঞ্জাম দুইটাই বাড়াতো।

কালে কালে সোশ্যাল মিডিয়া এলো; এখন জনগন একটা ভয়েস (voice) পেয়েছে। এখন জনগনও কথা বলে। ফেসবুকে দুই-চার-দশ লাইনের একটা স্ট্যাটাস মেরে মনে করে কি না জানি হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে মনে হয় একটা স্ট্যাটাস দিয়ে কারও কারও দুই চারটা বা*ও ছিড়ে ফেলছে!

আমিও ভাই এই অকর্মা জনতার মধ্যে; তবে পিছনের সারির দিকের! যার কারণে বেশীরভাগ ইস্যুর মধ্যে হিসু করি না; এড়িয়ে যাই। তবে ঘাটাঘাটি একটু যে করি না তা নয়।

আসেন বর্তমান ইস্যুতে! এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে; সবাই বলছে শিক্ষকরাই নাকি দায়ী। তারা বড়ই সৈরাচারী ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আমি দেখি উল্টা। আপনারা দেখছেন গাছের ফল, আমি দেখছি গাছের সিকড়। যে গাছে প্রতি বছরই মাকাল ফল ধরে, সেই মাকালফল ভালো কি খারাপ হিসাব না করে, সেই ফল পেড়ে ফেলে না দিয়ে সিকড় সহ উপড়ে ফেলতে পারলেই কিন্তু সমাধান ভালোভাবে হয়।

আমি আমার লেখার মধ্যে বার বার মেয়েটার কথা বলবো; কিন্তু সচেতন পাঠক আশাকরি শুধু এই মেয়েটার কথা ধরে নিবেন না; বরং মেয়েটিকে বর্তমানের অবস্থার মুখপাত্র ধরে নিবেন। সেহেতু আমি কোনখানে মেয়েটা বললে আপনারা পড়বেন "আমাদের বাচ্চাদের" বা এমন কিছু। এটা বলে দেবার পরও যদি কোন গর্দভ মনে করেন যে আমি মেয়েটার দিকে আঙ্গুল তুলছি; তাহলে আপনার সেই আঙ্গুলে মানুষের কাঁচা বিষ্ঠা পড়ুক।

মেয়েটাকে কে হত্যা করেছে? বেশ কয়েকজন আসামীঃ
১. মেয়ের বাবা-মায়ের বড় বড় স্বপ্ন
২. মেয়ের বাবা-মায়ের ইগো
৩. মেয়ের বাবা-মায়ের আত্মবিশ্বাসের অপ্রতুলতা
৪. এরপর, এরপর অন্য সবাই! সমাজ, শিক্ষক, ইত্যাদি ইত্যাদি!

একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো কি? আমার বিশ্বাস 'না!'

কি যেন একটা কাজ করে আমরা যারা অভিভাবক তাদের মধ্যে। ভালো স্কুল ভালো স্কুল করে মাথা খারাপ করে ফেলে। মানিকগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ছেলে কে নিয়ে আসে রাইফেলস স্কুলে পড়াবে বলে। মা চাকরী ছেড়ে দিয়ে মেয়ের জন্য ভিকারুন্নেসার সামনে বসে খালি ভাবী ভাবী শুনেন, আপা আপা শুনেন করতে থাকে! তবুও এই ভালো স্কুলে পড়াতে হবে! নাম বলতে হবে না; আমার ছেলে/মেয়ে ঐ অমুক স্কুলে পড়ে। না হলে যে সমাজে নাক কাঁটা যাবে।

একটা ছেলে গ্রামের নাম না জানা স্কুল থেকে জিপিএ ৫ পাওয়া আর দেশের নাম করা স্কুল থেকে জিপিএ ৫ পাওয়ার মধ্যে সামন্যতম কোন পার্থক্য নাই। নাকি ভুল বললাম? হ্যাঁ, আছে..... তবে ফলাফলটা গ্রামের ছেলের দিকেই যাবে!

গ্রামের ছেলেটা যখন জিপিএ ৫ পেয়েছে, সে সুযোগে সে গরু চরাতে পারে, ধান বুনতে পারে, ধানের ক্ষেতে নিড়ানি দিতে পারে, পুকুর তো পুকুর যমুনা নদীতে ছেড়ে দিলেও সাঁতার কাটতে জানে। আর শহুরে ছেলেটা জিপিএ ৫ পেয়ে 'আই এ্যাম জিপিএ ৫' ছাড়া কিচ্ছু পারে না। রাস্তা পার হতে দিলে ভ্যাঁ করে কেঁদে দিতে পারে যে কোন সময়।

আমাদের ভাব খানা এমন যে ভালো স্কুল আসলে পাঠ্যবই পড়ায় না; পড়ায় কি ভাবে নাসার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যাবে। আমাদের ধারণা ভালো স্কুলে পড়লে পাশ করেই ৫০ হাজার টাকার স্যালারী পাওয়া যাবে। তাই আমরাও লেগে পড়ে থাকি।

ধর্ষণের অভিযোগ আসে যে স্কুলে, ধর্ষককে বাঁচাতে তৎপর যে ক্যাম্পাসের সবাই, তারপরও মেয়েকে সেই ক্যাম্পাসেই পড়াতে চাই। পড়িয়ে শান্তির ঢেকুর তুলি। সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠে রাত ১২টা পর্যন্ত স্কুল আর প্রাইভেট টিউটরের পিছে দৌড়াতে বাধ্য করে যে স্কুল, সেই স্কুলে দিয়ে আমরা শান্তিতে পা দোলাই। যে স্কুলের ৮৫% এর বেশী ছাত্র-ছাত্রীর কাছে পর্ণগ্রাফী পাওয়া যায়, সেই স্কুলে নিজে ছেলেকে আর মেয়েকে ভর্তি করে মনে করি তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করলাম।

আমার বাচ্চাটার বয়স ২ বছর ৭মাস। এখনই তাকে নিয়ে ইঞ্চিনিয়ারিং চলছে, তাকে ২০১৯ এ না হলেও ২০২০ এ স্কুলে দেওয়া মিস করা যাবে না। ততদিনে সে ৩ বছর ৮ মাসে পা দিবে; জীবনের নাকি বড় অংশই তার চলে যাচ্ছে!

একটা নামকরা স্কুলের সামনে একবার বাচ্চাদের কান্নাকাটি দেখে মনে করেছিলাম যে এটা মনে হয় কোন কান্নাকাটির প্রতিযোগীতা; পরে জানলাম এগুলি নাকি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছে! তাও নাকি আগে বেশ কয়েক মাস কোচিং করিয়েছে।

আপনাদের কারও কি মনে হয় এগুলি বাবা-মা? আমার মনে হয় না! আমি মনে করতে পারি না। হয়ত আমি নিজেই জানোয়ারের পর্যায়ে পড়ি, তাই তাদেরকে আমি জানোয়ার মনে করি। হয়ত ভদ্রভাবে বলা যেতো যে অসুস্থ প্রতিযোগীতা! কিন্তু সমাজের বড় একটা অংশই যখন অসুস্থ প্রতিযোগীতায় নেমে পড়ে; তখন সবাই মিলেই জানোয়ারে পরিণত হয়!

৩/৪ বছরের বাচ্চার স্কুল নয়, দরকার তার বাবা-মা কে; আর দুঃশ্চিন্তা মুক্ত একটা বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। সকালে উঠে ক্লাসের মিসকে হোমওয়ার্ক দেখাতে হবে; এই প্রেসার নিয়ে কোন ৩/৪ বছরের বাচ্চাই সুস্থস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারে না।

গার্ডিয়ানদের হাতে পায়ে পড়ি, আপনারা আপনাদের সন্তানদের বাঁচান; তাদের ২৪ ঘন্টা দৌড়ের উপরে রেখে কোন লাভ নাই। তাদের কোন উপকার নাই!

আচ্ছা, মেয়েটাকে টিসি দিয়ে দিচ্ছিলো দিক না; বাবা-মায়ের কি এতটুকু বিশ্বাস সন্তানের উপর থেকতে পারে না যে আমার সন্তান অবৈধ্য উপায় অবলম্বন করবে না? এতটুকু আত্মবিশ্বাস যদি নিজর সন্তানের উপর না থাকে; তাহলে সন্তান বাঁচবে কেন? বেঁচে লাভ কি? নিজের সন্তানের উপর আত্মবিশ্বাস যদি সামান্যতম থাকে, তাহলে বাবা-মায়ের কেন মেয়ের টিসি ঠেকাতে অনুনয় বিনয় করতে হবে? বরং বাবা-মা-তো জোর গলায় বলে আসবে যে আপনারা মিথ্যাবাদী! এতটুকু আত্মবিশ্বাস নাই? আপনি বাবা? আপনি মা? আপনি আপনার সন্তানকে কি মিথ্যার মধ্যে বড় করেছেন?

ধিক্কার জানাই সেই পিতৃত্বের, যে পিতা তার সন্তানকে বিপদের মুখে ইচ্ছা করে ঠেলে দিয়ে গল্প দিয়ে বেড়ায় আমার সন্তান অমুক স্কুলে পড়ে।
ধিক্কার জানাই সেই মাতৃত্বের, যে মা নিজের মেয়েকে ধর্ষকের ডেরায় ঠেলে দিয়ে গল্প করে বেড়ায় আমার সন্তান অমুক স্কুলে পড়ে।
ধিক্কার জানাই সেই অসুস্থ প্রতিযোগীতার, যে প্রতিযোগীতা কোমল শিশু গুলিকে বাবা-মায়ের গর্ব বা লজ্জার বস্তুতে পরিনত করে!

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:০২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফাউন্টেন পেন আর কালির দোয়াত... (জীবন গদ্য)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৫০



ফাউন্টেন পেন আর দোয়াতের কালিতে আমরা কত সুখি ছিলাম। কত উচ্ছ্বল শিক্ষাজীবন,হই হুল্লোড় আর সুখ আনন্দে ভরা ছিল জীবন। নীল সাদা স্কুল ড্রেস,কালির ছিটার কালো নীল রঙ ছাপ,আহা আমাদের সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশী থেকে বাংলাদেশ, মুক্তির কন্টকিত পথে (তেইশ জুন স্মরণে)

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২৩ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:২৫



বিষাদ আঁধার এক
কেড়ে নেয় শক্তি সাহস
হতাশা, জোকের মতো নিভৃতে চোষে খুন;

অনিশ্চিত আশায়
বিপ্লবীর অকাল বোধন স্বপ্নে
ব্যার্থতার দায় ঢাকে ‘কিন্নর’ সুধিজন!

তেইশ জুন, সতেরশো সাতান্ন
প্রতারণা, শঠতা আর মিথ্যেতেই
রাতের আঁধারে ডুবে যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহুরে ফোকলোর

লিখেছেন কিবরিয়া জাহিদ মামুন, ২৩ শে জুন, ২০১৯ রাত ৯:৫৫



ক্লাশ থৃ তে পড়ি । প্রয়াত মিনু স্যার একদিন ক্লাশে বল্ল, তোরা আজকের শিশু তোরা একদিন বড় হবি । বড় হয়ে এই দেশ চালাবি । আজকে এরশাদ সাহেব দেশের প্রেসিডেন্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (তৃতীয় তথা শেষ পর্ব)

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৪ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৪



মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ১)
মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ২)


ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে বের হয়ে একটা লম্বা হাটা দিতে হবে। অবশ্য চাইলে মেট্রোও (আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেন) ব্যবহার করা যায়, কারন ডে-ট্রাভেল কার্ড এমনিতেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিণয়

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২৪ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:১০


আদরণীয়, কোথায় দিলে ডুব?
পানকৌড়ি যেমন অন্ন অন্বেষণে—
সরোবরজল তলে
তুমিও কী ঠিক তেমন কারণে?
চোখের আড়ালে থেকে রহিলে নিশ্চুপ…
বলো কোথায় দিলে ডুব?

চলছিলো ভালই প্রিয়ংবদা বলছিলে মধুকথা
কাটছিলো সময় মধুময়
গাড়ি চালনায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×