somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ স্বাধীনতা আমার অহংকার!

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিশেষ দ্রষ্টব্য- এই গল্পের পটভূমি আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগের, প্রায় ১৯৯১/১৯৯২ সালের। সম্মানিত পাঠকদের এই গল্প পড়ার সময় সেই সময়ের পারিপার্শ্বিক এবং সামাজিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে পড়ার জন্য অনুরোধ করছি, ধন্যবাদ।

সকালে ঘুম থেকে উঠার পর আজকে রাইমা'র ভার্সিটিতে যেতে ইচ্ছে করছিল না। নাস্তা না করে, বেডের উপর চুপচাপ বসে আছে ও। সামনে, বেডের উপর পড়ে আছে একটা বড় রক্তলাল গোলাপ ফুল আর কাঁচের লাল চুড়ির একটা বাক্স। গতকালকে রাশেদ প্রায় সরাসরিই ওকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় দশ মাসের সম্পর্ক ওদের। রমনা পার্কে গতকালকে রাশেদ ওকে নিয়ে যখন হাঁটছিল, তখন প্রায় পুরোটা সময়ই রাইমার ডান হাতটা ধরে রেখেছিল রাশেদ। এত বেশি আবেগ নিয়ে রাশেদ কথা বলছিল দেখে, তখনই ওর মনে সন্দেহ হচ্ছিল। চাকরিটা পার্মানেন্ট হয়েছে এটা সেলিব্রেট করার জন্য কালকে যখন ওকে বাসায় ফোন করে দেখা করতে চাইল রাশেদ, তখন আর ও মানা করতে পারেনি। পার্কে ফাঁকা এক জায়গা দেখে ঘাসের উপর বসার প্রায় সাথে সাথেই রাশেদ বিয়ের কথা তুলল। বড় রক্তলাল একটা গোলাপ ফুল আর কাঁচের লাল চুড়ির একটা বাক্স, ব্যাগ থেকে বের করে রাইমার হাতে তুলে দিয়ে আচমকাই বলে বসল-
-রাইমা, আমাদের ভালোবাসা বাসি যথেষ্টই গভীর হয়েছে, এখন সময় এসেছে এটাকে পূর্ণতা দেবার। আমি তোমাকে আমার বাসায় নিয়ে আম্মার সাথে পরিচয় করে দিতে চাই। আর তুমিও পারলে বাসায় আমার কথা বল।

লজ্জায় রাইমা লাল হয়ে গেল। এই বিশেষ মুহূর্ত যে একদিন আসবেই সেটা ও জানত। শত প্রস্তুতির পরও জীবনে কিছু কিছু মুহূর্তে নিজেকে সামলান যায় না। বাকি সময়টা রাইমা প্রায় মাথা নীচু করে বসেই ওর প্রেমিক প্রবরের একগাদা ভবিষ্যতের প্ল্যান শুনে গেল……

এক
তিন দিন পরে, অফিস থেকে বাসায় ফিরে এসে রাশেদ দেখে ওর নামে রেজিস্ট্রি ডাকে একটা চিঠি এসেছে। ফ্রেস হয়ে নিজের রুমে এসে চিঠিটা খুলে দেখল রাইমা পাঠিয়েছে। ভাঁজ খুলে রাশেদ পুরো চিঠি পড়ার পর ও একেবারেই অপ্রস্তুত আর হতভম্ব হয়ে গেল! এটা ও কখনোই কল্পনা করেনি।

রাশেদ,
আমার এই চিঠি পেয়ে চমকে উঠবে না। তোমাকে ভয় দেখানো বা তোমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবার ইচ্ছে নিয়ে আমি এই চিঠি লিখি না। জীবনে কিছু কিছু কথা থাকে, যেই গুলি সামনা সামনি বলা যায় না। আর কিছু চরম সত্য থাকে যেই গুলি গোপন রাখা উচিৎ না। আমি জানি না, সবটুকু পড়ার পর তুমি কি সিদ্ধান্ত নেবে? তবে আমি তোমাকে ঠকাতে পারব না। যাকে আমার হৃদয়ের সিংহাসনে বসিয়েছি, তাকে আর যাই হোক, সত্য গোপন করে বিয়ে আমি করতে পারব না।

আমার পৈত্রিক নিবাস আসলে বগুড়ায়, কুমিল্লা না। এটা আমি তোমাকে আগে বলিনি। বাবা স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কুমিল্লায় এসে সেটেল হন, কিছু পারিপার্শ্বিক আর সামাজিক সমস্যার কারনে। আমি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার পর সবাই মিলে ঢাকায় চলে আসি। আমার বয়স যখন শুনেছি প্রায় দুই বছর, তখনই বাবা আমাদেরকে নিয়ে চিরতরে বগুড়া থেকে সব কিছু ছেড়ে কুমিল্লায় চলে আসেন। কেন এসেছেন সেটা অবশ্যই তোমার জানা উচিৎ।

প্রিয় রাশেদ, আমি একজন ওয়ার বেবি। অর্থাৎ যুদ্ধ শিশু। আমার প্রাণপ্রিয় মা একজন স্বাধীনতার যুদ্ধের বীরাঙ্গনা। আমার মাকে পাকিস্তানী সৈনিকরা বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল যুদ্ধের সময়। মার বয়স ছিল তখন মাত্র সতের বছর। সেই সময় আমার মার উপর অমানুষিক নির্যাতন করে পাকিস্তানের সেনা বাহিনী। এক সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্যাম্প থেকে বের করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে যায়। পরিচিত লোকজন মা'কে চিনতে পারলে ধরাধরি করে বাসায় এনে দিয়ে যায়।

বাবা'র বাসা ছিল বেশ কাছাকাছি। যুদ্ধ শুরু আগেই বাবা মা'র বিয়ে পারিবারিক ভাবে ঠিক হয়। বাবা মা'কে পছন্দ করেই বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। হঠাৎ স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হলে, বিয়ে পিছিয়ে দিয়ে বাবা যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে ভারতে চলে যান আর তারপরে ফিরে এসে চট্টগ্রাম আর কুমিল্লা এলাকায় যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ শেষ হলে বাবা যখন বগুড়ায় ফিরে আসেন, তখন মা প্রায় তিন মাসের গর্ভবতী। চরম আত্মগ্লানির কারনে বারবার আত্মহত্যার চেস্টা করার জন্য মাকে মোটামুটি বাসায় বেঁধেই রাখা হতো। বাবা ফিরে এসে মার এই কাহিনী শুনার পর, সোজা নিজের বাসায় যেয়ে নিজের মাকে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু করতে বলেন, কিন্তু কেউ সমাজের লোকলজ্জার ভয়ে রাজি হয় না। পরের দিনই বাবা মসজিদের ইমাম সাহেবকে ডেকে এনে মাকে বিয়ে করে আলাদা বাসায় সংসার শুরু করেন। যুদ্ধের শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর আমার জন্ম হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর বাবা আবার মাকে নিয়ে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ, জীবনের যুদ্ধ শুরু করেন সমস্ত পৃথিবীর বিপরীতে দাঁড়িয়ে!

আমি আমার আসল জন্মদাতা পিতাকে চিনি না আর চিন্তেও চাইনা। আমি জন্মের পর চোখ মেলে যাকে বাবা হিসেবে চিনেছি, তিনিই আমাকে পরম মমতায় আর পিতৃস্নেহে বড় করেছেন। এই জন্য তাকে সব কিছু, এমন কি নিজের পরিবার পর্যন্ত ত্যাগ করতে হয়েছে। কিন্তু উনি কখনোই এক পাও পিছিয়ে যান নি। আমরা কখনো বগুড়ায় যাই নি। আমাদের পিতৃনিবাস আমরা কখনো দেখিনি। বাবা কখনোই বগুড়ার কথা আমাদের সামনে বলেন না মা কষ্ট পাবেন সেজন্য।

আমি তোমাকে খুব বেশী পছন্দ করি। তাই আমার জন্ম ইতিহাসের সত্যটা খুলে বললাম। জানি না এরপরও তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাইবে কিনা, তবে অন্ততঃ আমি আমার নিজের বিবেকের কাছ তো পরিষ্কার থাকলাম। আমি আমার অতীত ইতিহাস আর বর্তমান বাবা কে নিয়ে গর্বিত। কোন কিছুরই বিনিময়েই আমি এই ব্যাপারে কোন ছাড় দিব না। আশা করি আমার মনের অবস্থা তুমি বুঝবে। ভালো থেকো, সব সময়।

ইতি,
রাইমা


চিঠিটা পড়া শেষ করে রাশেদ স্তুব্ধ হয়ে জীবন্ত পাথরে মতো নিজের বেডে বসে রইল। কি করবে আর কি এখন ওর করা উচিৎ কিছুই ও বুঝতে পারছে না…….

দুই
রমনা পার্কের সবুজ ঘাসের উপর বসে রাশেদ রাইমার দিকে তাকিয়ে আছে। প্রায় বিশদিন পর দেখা হলো আজ। অফিস থেকে হাফ বেলা ছুটি নিয়ে রাইমাকে ইউনিভার্সিটি থেকে পিক করে এখানে এসেছে। আজকে যে কি সুন্দরী লাগছে রাইমা'কে? মেয়েটা দিন দিন দুর্দান্ত আকর্ষনীয়া হয়ে উঠছে। কবে যে ওকে ঘরে বউ করে নিয়ে যেতে পারবে ও? ওকে দেখলেই মনটা আইঢাই করতে থাকে! কিন্তু তার আগে একটা বিরাট সমস্যার সমাধান করতে হবে-
-রাইমা তোমার পরিচয় নিয়ে আমি বাসায় বেশ ভালো বিপদে পড়েছি। সরাসরি না বলে, মা কে বলেছিলাম আমার এক বন্ধু তোমার মতো একজন যুদ্ধশিশুকে বিয়ে করতে চাচ্ছে। মা সাথে সাথেই এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাল। বাবা তো আরও বেশী কট্টর। তোমার কথা আর পরিচয় বলার সাহসই তো পাচ্ছি না। পরিচয়টা নিয়ে কি কোন কমপ্রোমাইজ করা যায় না? অন্ততঃ আমার জন্য? আমাদের ভালোবাসার জন্য। আমি তোমাকে পৃথিবীর সবচাইতেও বেশি ভালোবাসি। তোমার এই জন্ম পরিচয় আমার কাছে কোন ব্যাপারই না।

-রাশেদ, কিছু অপ্রিয় সত্য কথা আজ তোমার শুনতেই হবে। আমি কোন মিথ্যা কথা বলতে পারব না, কোনদিনও না। এটা সত্য যে, বাবা মায়ের গভীর ভালবাসায় জন্ম নেয়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি, প্রেমবিহীন এক চরম নিষ্ঠুর প্রক্রিয়ায় এই পৃথিবীতে আগমন আমার। আমার আসল পরিচয় হলো আমি একজন যুদ্ধ শিশু। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের করুণতম পরিণতি আমি, যাকে সবাই জেনেও অস্বীকার করে যায়। কিন্তু তারপরও আমি আমার এই জন্ম নিয়ে একবিন্দুও কুন্ঠিত নই। এই দেশের স্বাধীনতা আমার অহংকার। আমার জন্ম পরিচয় আমার অহংকার। আমার জন্ম পরিচয় এই দেশের পতাকার লাল রং এর সাথে মিশে আছে। এই লাল সবুজের পতাকার দিকে তাকালেই আমি বাবার জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ, মা'র কঠিন আত্মত্যাগ আর আমার জন্ম পরিচয় দেখতে পাই। আমি কেন এটা নিয়ে কমপ্রোমাইজ করব? প্রশ্নই উঠে না। তাহলে তো স্বাধীনতা যুদ্ধকে অস্বীকার করা হয়! আমার বাবা জীবন বাজি রেখে যে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন সেটাকে অস্বীকার করা হয়! মা'র এত বড় আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা হয়! তুমি কি পাগল হয়ে গেছ? কি বলছ তুমি এসব আবোলতাবোল?

রাশেদ স্তব্ধ হয়ে রাইমার কথাগুলি শুনার পর বেশ ভালোই ভয় পেল। রাইমার সাথে যুক্তি আর আবেগ কোনটা দিয়েই তর্কে ও পারবে না। ও তো মেনে নিয়েছে কিন্তু ওর বাবা মা'কে এইগুলি কে বুঝাবে? শীতল একটা ভয়ের শিরশির করা স্রোত রাশেদের সারা শরীরে বয়ে যাচ্ছে। রাশেদ নিশ্চিত বাবা মা ওর কথা এই বিষয়ে পাত্তাই দিবে না। রাইমা যেভাবে গো ধরে বসে আছে তাতে কোন সমাধানই রাশেদের মাথায় আসছে না। প্রায় মাথায় হাত অবস্থা ওর! আচ্ছা মেয়েটা এত অবুঝ কেন? ওর ছোট্ট মাথায় সব কিছু যেন তালগোল পাঁকিয়ে যাচ্ছে!

সেইদিন রাইমার সাথে যতক্ষন ছিল, বাকি সময়টা রাশেদ বেশ চুপচাপ থেকেই পার করে দিল…..

তিন
অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে রাশেদ আকাশ পাতাল অনেক কিছু চিন্তা করতে করতে ফিরল আজকে। প্রায় দশ দিন হয়ে গেল বলব বলব করেও রাইমা'র কথা বাসায় বলা হয় নি। রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ হবার পর মায়ের রুমে ঢুকল ও। বাবাও শুয়ে আছে বেডে। দুই জনকে একসাথে পেয়ে সাহস করে নিজের বিয়ের কথা তুলল। রাইমা'কে পছন্দের কথা বলতেই মা আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইল মেয়েটা দেখতে কেমন। সাথে ছবি নিয়েই এখানে এসেছে রাশেদ। ছবি দেখে বাবা মা দুইজনই মেয়ের পরিবারের সবার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইল। রাইমা'র আবেগের কথা রাশেদের মনে পড়তেই, কিছুক্ষন চুপ করে থেকে সব কিছু খুলে বলল ও। আর শুনার সাথে সাথেই মা প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল-
-তোর মাথা খারাপ হয়েছে নাকি? আমি কিভাবে এই কুলাঙ্গার মেয়েকে আমার একমাত্র ছেলের বৌ করে ঘরে তুলে আনব?
-অযথা রাইমাকে কুলাঙ্গার বলে গালি দিচ্ছ কেন? ওর কি দোষ?
-তুই সারাদেশে আর মেয়ে পেলি না? মেয়ের আর এর মায়ের যা কাহিনী শুনলাম, তাতে আত্মীয় স্বজনের কাছে, সমাজের কাছে মুখ দেখান যাবে না। অসম্ভব।
-কেন, এরা কি অপরাধ করেছে? যা হয়েছে সেজন্য তো এরা তো দায়ী নয়! রাইমাকে আমার খুবই পছন্দ। আমি ওকে ছাড়া আর কাউকেই বিয়ে করতে পারব না। তোমরা ওর বাসায় কথা বল। আমি ওকেই বিয়ে করতে চাই!
এবার রাশেদের বাবা কথা বললেন
-আমরা কোনদিনও এই মেয়েকে মেনে নিব না। তোর যদি এই মেয়েকেই বিয়ে করতে হয়, তাহলে আমরা আলাদা হয়ে গ্রামে চলে যাব। এই মেয়ের সাথে আমরা থাকব না। এটাই আমার শেষ কথা।

হতম্ভব হয়ে রাশেদ এই দুই জনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল! কি বিপদে পড়ল ও! এখন কোনদিকে যাবে ও? জন্মদাতা বাবা মাকে ছাড়া কিভাবে বেঁচে থাকবে ও। আবার রাইমা ছাড়া অন্য কিছুই চিন্তা করা অসম্ভব! জীবন এতই জটিল কেন? সবাই এত জটিল ভাবে সব কিছু চিন্তা করে কেন? ওর ছোট্ট মাথায় এখন আর অন্য কিছু চিন্তা করতে ইচ্ছে করছে না।
-মা, আমি এই মেয়েকেই বিয়ে করব! তোমরা সময় নাও৷ দরকার হলে রাইমা'র বাসায় কথা বল। মনে রেখ, বিয়ে যদি করি আমি, এই মেয়েকেই করব। দরকার হলে আমি সারা জীবন ওর জন্য অপেক্ষা করব, তাও আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করব না!

এবার ছেলের জিদ দেখে রাশেদের বাবা মা অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে…….

চার
দেখতে দেখতে প্রায় তিন মাস কেটে গেল। রাশেদ এখনও রাইমার ব্যাপারে কোন স্থির সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। লজ্জায় রাইমার সামনেই ও এখন যেতে পারছে না ও। রাইমার বাসায় ফোন করে যে কথা বলবে, সেটারও উপায় নেই। রাইমা ওকে বাসার সাথে কথা বলে রাজি করিয়ে যোগাযোগ করতে বলেছে, এর আগে না। বাসায় একদিন আলমিরার কাপড় গুছাতে যেয়ে ওর আর রাইমা'র একটা যুগ্ম ছবি কাপড়ের নীচে পেল। ছবিটা দেখে মনটা একদম অন্য রকম হয়ে গেল। ইশ, কতদিন ধরে দেখা হয়না, কথাও হয়না। সাথে সাথেই যেয়ে রাইমা'র বাসায় টিএনটিতে ফোন দিল। কেউ ফোন ধরল না। অবাক হলো রাশেদ! সেই দিন প্রায় বিশ বারের মতো চেস্টা করেও ফোনে কাউকে পেল না রাশেদ।

পরের দিন অফিস থেকে ফেরার পথে রাশেদ রাইমাদের বাসায় রওনা দিল। অ্যাড্রেসটা ওর কাছে আছে, রাইমা'ই একদিন ওকে দিয়েছিল। রিকশা থেকে নেমে বেশ অবাক হলো ও। সন্ধ্যা হয়ে গেছে কিছুক্ষন আগেই অথচ পুরো বাসা এখনো অন্ধকার। একটা লাইটও জ্বলছে না, ঘটনা কি? রিকশা ভাড়া দিয়ে বাসার সামনে এসে রাশেদ হতম্ভব। সদর দরজায় বিরাট একটা তালা ঝুলছে। রাইমা তো বলেছিল, ওরা কোথায় খুব একটা বেড়াতে যায় না। বাসাটার চারপাশে হাঁটতেই বাসার কেয়ারটেকারের সাথে দেখা হলো। সেই দিনই রাশেদ ওর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দুঃসংবাদটা শুনল যে রাইমাদের পুরো পরিবার এখানে থেকে একবারে চলে গেছে, তবে কোথায় গেছে সেটা কেয়ারটেকার জানে না। এক বুক ভরা হাহাকার নিয়ে রাশেদ বাসার সামনে অনেক, অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকল। ওর এখন কি করা উচিৎ সেটা ও বুঝতে পারছে না…….

পাঁচ
বেশ কিছুদিন পরে, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাশেদের কাছে একটা ফোন আসল। ফোন ধরে হ্যালো বলতেই রাইমা'র গলা চিনতে পারল রাশেদ। অস্থির হয়ে বার বার জিজ্ঞেস করল ও
-রাইমা তুমি এখন কোথায়? আমাকে না বলে কেন চলে গেল? আমি কি দোষ করেছি? কেন আমাকে এত কষ্ট দিচ্ছ?

রাইমা বেশ সময় নিল কথা শুরু করার আগে। আজকে সব প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্যই রাইমা ফোন করেছে রাশেদকে…….
-তুমি কেমন আছ, রাশেদ? কত দিন হলো তোমাকে দেখি না, জানি না আর কখনো দেখা হবে কিনা তোমার সাথে।
-কি যা তা বলছ এই সব তুমি? দেখা হবে না মানে? এখন কোথায় তুমি?
-আমি এখন সুইডেনে।
-কি? কবে গিয়েছ সুইডেনে তুমি?
-তা প্রায় দেড় মাস তো হবেই। ওহ, তোমাকে বলা হয়নি, বাবা কিছুদিন আগে মারা গেছেন। স্বাভাবিক মৃত্যু। রাতে আমাদের সাথে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমাতে গেল। মা'র পাশেই শুয়ে ছিল, সকালে মা ডাক দিয়ে দেখেন উঠছে না। জোরে ডাক দিয়ে ধাক্কা দিতেই….
-এরপর অল্প কিছুদিন দেশে ছিলাম আমরা। মামা সুইডেনে থাকেন। বাবা মারা যাবার পর বিষয় সম্পত্তি আর আমাদের আসল পরিচয় নিয়ে চারপাশের পরিবেশ খুব খারাপ হয়ে উঠে, সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার কোন উপায় ছিল না।
-আমাকে কেন বলনি? আমাকে কেন একবারও ডাক নি?
-কি হবে ডেকে রাশেদ? সামান্য নিজের বাসাই তো সামলাতে পার নি। পুরো সমাজ কিভাবে সামলাবে? তোমাকে আমি কোন দোষ দেই না। তোমার প্রতি আমার কোনই অভিযোগ নেই। শুধু তোমার জন্য এই বুক ভরা হাহাকার ছাড়া আজ আর নিজের বলে কিছুই নেই আমার।
-কি এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে হুট করে সব ফেলে এত দূরে চলে যেতে হলো?
-আত্মসম্মান নিয়ে ঐখানে বেঁচে থাকা যেত না। আমরা নাকি সমাজের কলংক? বাবা বেঁচে থাকতে সাহস পেত না সামনা সামনি বলার। বাবা চলে যাবার পর…
-কি বলছ এসব তুমি?
-রাশেদ, আমার বাবা আর মা'র এত বড় আত্মত্যাগের পরও ঐ দেশে নিজের আসল পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকার কোনই অধিকার নেই আমার। বল তো, আমি কি পাকিস্তানী কোন ধর্ষক সৈনিকের ঘৃণ্য একজন জারজ সন্তান, নাকি এই দেশের স্বাধীনতায় অবদান রাখা এক নির্যাতিতা বীরাঙ্গনা মায়ের গর্বিত সন্তান? কোন পরিচয়টা আমার আসল পরিচয়, বল? কেন নিজের দেশে প্রতিটি মুহূর্তে আমাকে আমার জন্ম পরিচয় নিয়ে কুন্ঠিত হতে হবে? বল, চুপ করে আছ কেন? কথার উত্তর দাও!
-রাইমা, তুমি দেশে ফিরে আস! প্লীজ, প্লীজ। দেশে ফিরে আস। আমার কাছে ফিরে আস। আমার ভালোবাসাকে অন্তত মনে করে ফিরে আস?
-কেন আমি তোমার দেশে ফিরে আসব? এটা কি সত্যই আমার দেশ? আমার তো সেটা এখন আর মনে হয় না। আমার মতো মাকে স্পর্শ করার আর মায়ের সাথে কথা বলার সৌভাগ্য বেশির ভাগ যুদ্ধ শিশুরই হয়নি। এই সব বীরাঙ্গনা মায়েরা যেমন গোপনে হারিয়ে গেছে তোমাদের কুৎসিত এই সমাজের অতল গহবরে, তেমনি এই সব বেশির ভাগ যুদ্ধ শিশুরাও হারিয়ে গেছে এই বিশাল পৃথিবীর সুবিশাল ব্যাপ্তিতে। স্বাধীনতা পাবার পর কেউ মনে রাখে নি আমাদের কথা, আমাদের মায়েদের আত্মত্যাগের কথা। সবাই দিব্যি ভুলে গেছে স্বাধীনতার এই রক্তাক্ত ইতিহাসের কথা!
-এটা তুমি ভুল কথা বলছ। আমরা কেন তোমাদের কথা ভুলে যাব?
-আমি ভুল বলিনি। একটা কথাও ভুল বলিনি। বলতে পারবে, স্বাধীনতার সময়ে ঠিক কতজন মেয়ে এভাবে ধর্ষিতা হয়ে গর্ভবতী হয়েছিল? কতজন গোপনে গর্ভপাত করিয়েছিল? কতজন শিশু জন্মগ্রহন করেছিল? আমি জানি, তুমি কেন, এটা কেউ ভালো ভাবে বলতে পারবে না। কারন এদের কোন খোঁজ খবর রাখার চেস্টাও করা হয়নি। আশ্চর্য হলেও এটা চরম সত্য কথা। অস্বীকার করতে পারবে এটা? আজ কি পরিচয় নিয়ে আমি বা আমার মা ঐ দেশে বাস করব, বল?
-তাই বলে তুমি নিজের দেশ ছেড়ে এইভাবে একবারে চলে যাবে?
-কেন যাব না? তোমরাই এটা চেয়েছ? তোমাদের নেতারাই তো চেয়েছে? কেন জান না, স্বাধীনতা পর শেখ মুজিব সাহেব তো নিজেই বলেছেন যে, আমি এসব নষ্ট রক্ত দেশে রাখতে চাই না। দেশ থেকে আমাদেরকে বিতারিত করে উনি বিদেশে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছেন। (সূত্রঃ কৃতজ্ঞতা ১, ১৯৯৮-পৃষ্ঠা ১৮) আমরা তো সেটাই করেছি, যেটা উনি চেয়েছেন। এখন কেন এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছ?
-আমি উনার কথা মানি না। উনি কি বলেছেন সেটা উনার ব্যাপার। আমি তোমাকে দেশে ফিরে আসতে বলছি, আমার কাছে ফিরে আসতে বলছি।
-তুমি বললেই তো আর হবে না। অনিচ্ছুক এবং অবাঞ্চিত হয়ে নিজের দেশে থাকার চেয়ে নতুন পরিচয়ে বিদেশে থাকাও ভালো। অন্ততঃ এখানকার মানুষদের মন তোমাদের মতো এত সংকীর্ন না, কলুষিত না।
-তুমি মিথ্যা দোষারোপ করছ!
-তাই! তোমরা ৭১এর রাজাকারদের বাচ্চার সাথে বিয়ে দিতে পার, রাজাকারদের মন্ত্রী বানাতে পার, রাজাকারদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিতে পার। আবার এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে সবাই মিলে আবার রাজাকারদের পক্ষে সাফাই গাও। প্রতি বছর নতুন নতুন মুক্তিযোদ্ধা পয়দা কর। বাবা মজা করে বলত, দেশে যত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা শুনা যায় তত গুলি নাকি সত্যই যুদ্ধ করলে ডিসেম্বর না জুন মাসেই দেশ স্বাধীন হয়ে যেত! লজ্জা লাগে না এসব করে বেড়াতে? আবার বলো মিথ্যা দোষারোপ করছি?
-কিছু বেজন্মা আর বেঈমানদের জন্য তুমি সবাইকে দায়ী করতে পার না।
-করতাম না, যদি সাধারন জনগনকে এর তীব্র প্রতিবাদ করতে দেখতাম। কই, এইসব অপকর্মের কোথাও প্রতিবাদ দেখছ? বীরাঙ্গনা আর যুদ্ধশিশুরা থাকলে তোমাদের সমাজ, দেশ নষ্ট হয়ে যায়, কলংকিত হয়ে যায়, অথচ জন্মগত ভাবে আমরা তোমাদের মতোই এই স্বাধীন দেশের নাগরিক। কিন্তু রাজাকারদের বাচ্চাকে জামাই বানালে বা ছেলের বৌ করে আনলে সম্মান বেড়ে যায়। তোমাদের মতো বেঈমান জাতীর জন্য রাজাকাররাই উপযুক্ত। তোমরা এদের সাথেই থাক, আমরাই নিরবে বিদায় নিলাম চিরতরে।
-চিরতরে মানে? কি বলছ এসব তুমি? আমি এইসব রাজনৈতিক ভন্ড আর ইতর লোকজনের কথা মানিনা। আমি তোমাকে চাই, একমাত্র তোমাকেই চাই। আমার সব কিছু দিয়ে শুধুই তোমাকে চাই!
-তুমি চাইলেই তো হবে না! তোমার বাসায় কি চায়? আমার সম্পর্কে তারা কি ভাবেন? সেটা ভুলে গেছ, না আমার কাছে লুকাচ্ছ? বাবা বেঁচে থাকতেই তোমার মা একদিন আমাদের বাসায় ফোন দিয়ে আমার মা'র সাথে কথা বলেছে। উনি সব কিছু শুনার পর যা বলেছেন, সেটা আর তোমাকে বলতে চাইনা। বাস্তবতা আসলেও অনেক কঠিন। নির্মম সত্য যখন মুখোমুখি হয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন আবেগ অনেক দূরে পালিয়ে যায়। তোমার প্রতি আমার আবেগের মোহ সেদিনই কেটে গেছে। যা স্বাভাবিক ভাবে হবে না, সেটা জোর করে করলেও হবে না। মাঝখান থেকে শুধুই আমরা দুইজন এই স্বার্থপর পৃথিবীতে যুদ্ধ করতে করতে শেষ হতে যাব।
-হলে হব, তারপরও আমি শুধুই তোমাকে চাই। তোমাকে ভালোবাসতে চাই, তোমার কাছে থাকতে চাই।
-রাশেদ, তোমার সীমাবদ্ধতা আর আবেগ দুইটাই অনেক বেশি। তুমি বাবা মার একমাত্র ছেলে, তোমার ছোট দুইটা বোন আছে। তোমার বাবা সম্প্রতি চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করেছেন। পুরো পরিবার তোমার উপর নির্ভরশীল। এদের সবার কাছ থেকে তোমাকে আলাদা করাটা খুব অন্যায় হবে। এত বড় অন্যায় আমি তোমার সাথে করতে পারব না। এই জীবনে তোমার কাছে যা পেয়েছি সেটাই আমার জন্য অনেক।
-তোমার কথা আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা, কি বলছ এসব তুমি?
-রাশেদ, তোমাকে আমি মুক্ত করে দিলাম আমার ভালোবাসার শৃঙ্খল থেকে। তোমার প্রথম প্রথম অনেক কষ্ট হবে, কিন্তু আমাদের মাঝে দূরত্ব আস্তে আস্তে তোমাকে সব ভুলিয়ে দেবে। বয়ে যাওয়া সময় এসে স্মৃতিগুলি করে দেবে ঝাপসা। তোমার হৃদয়ের হয়ত কোন এক চোরা কুঠুরিতে আমার নামটাই লেখা থাকবে শুধু।
-আমি মুক্তি চাইনা, আমি তোমাকে চাই। তোমার কাছে, তোমার পাশে থাকতে চাই।
-আমি তোমাকে অনেক, অনেক ভালোবাসি রাশেদ। নিজের জীবনের চেয়েও বেশি। কোথায় যেন পড়েছিলাম একটা লাইন, তখন বুঝিনি এর মানে। আজ নিজের ভালোবাসা বিসর্জন দিয়ে এর মানে বুঝলাম।
-কিসের লাইনের কথা বলছ? কি বুঝেছ তুমি?
-বড় ভালোবাসা সব সময় শুধুই কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলে দেয়। বিদায় রাশেদ, ভালো থেক, সব সময়। আর চেস্টা করো যত তাড়াতাড়ি পারো আমাকে ভুলে যেতে…

রাশেদ কিছু বলার আগেই ঐপাশ থেকে হুট করে ফোনের লাইনটা কেটে গেল। তারপরও রাশেদ ফোনটা কানে অনেকক্ষন লাগিয়ে রাখল, যদি আরেক বার রাইমা'র কন্ঠটা শুনা যায়! ওর অতৃপ্ত তৃষিত মনটা ব্যাকুল হয়ে কান খাড়া রইল! আর একবার যদি….…..

ছয়
অনেক দিন হয়ে গেছে রাইমা'র সাথে কোন যোগাযোগ নেই রাশেদের। দেখতে দেখতে প্রায় দশ বছর পার হয়ে গেছে। প্রথম দিকে রাশেদ পাগলের মতো সারা ঢাকা আর বগুরায় রাইমা'র আত্মীয় স্বজনের বাসায় ঘুরাঘুরি করেছে রাইমা'র প্রবাসের ঠিকানার জন্য। অনেক কষ্ট করে একটা ঠিকানা যোগাড় করে বেশ কয়েকটা চিঠি লেখার পরও, রাইমা'র পক্ষ থেকে কোনই উত্তর আসে নি। এই বিশাল পৃথিবী ব্যাপ্তিতে সত্যই বাকি যুদ্ধশিশুদের মতো রাইমাও একবারেই হারিয়ে গেল রাশেদের জীবন থেকে।

ইতিমধ্যেই রাশেদ ওর পারিবারিক সব দায়িত্ব শেষ করেছে। দুই বোনের বিয়ে দিয়েছে প্রায় অনেকদিন হলো। বাবা মা দুই জনই গত হয়েছেন। পাঁচ বছর আগে নিজের বুকে পাথর বেঁধে একটা বিয়ে করেছিল, কিন্তু সেটা টেকেনি। বিয়ে টেকেনি ওরই দোষে। বুকের ভিতর একজনকে রেখে আরেকজনের সাথে অন্ততঃ ঘর সংসার করা যায় না। দুই বছর অনেক ত্যাগ স্বীকার করার পর, সেই মেয়ে অবশেষে ডির্ভোস নিয়ে চলে গেছে। রিক্ততায় ভরা শুন্য এক বুক হাহাকার নিয়ে কিভাবে কিভাবে যেন দিনগুলি কেটে যাচ্ছে রাশেদের, সেটা ও নিজেও বলতে পারবে না।

সাত
রাশেদের মনে বড় কোন দুঃখ নেই এত কিছু হারানো পরও। এই সব কিছু রাইমা'র সাথে ওর মা বাবা যা করেছে সেটার প্রায়শ্চিত্ত আর দেশের জন্য পাপমোচনের দায়িত্ব বলে ও মেনে নিয়েছে। এই নিষ্ঠুর পৈশাচিক সমাজ যুদ্ধশিশুদের সাথে সামাজিক শুদ্ধতা বজায় রাখার নামে যে জঘন্য পাপ কাজ করেছে, সেটার কাউকে না কাউকে প্রায়শ্চিত্ত তো করতেই হবে। তবে একটা কষ্ট ওর বুকের মাঝে হাহাকার করে বেড়ায়। রাইমাকে যে চিঠিগুলি ও পাঠিয়েছিল, সেখানে শেষ একবার হলেও ওর প্রিয়তমা ও দেখতে চেয়েছিল। অন্ততঃ শেষ একবার হলেও রাইমাকে ও নিজের চোখে দেখতে চায়। রাশেদ মনপ্রান দিয়ে বিশ্বাস করে, ওর যখন এই প্রায়শ্চিত্ত আর পাপমোচনের দায়িত্ব এই জীবনে শেষ হবে, ঠিক তখনই রাইমাকে ও আবার দেখতে পাবে।

রাইমা ফোনে ওকে শেষ যে কথা গুলি বলেছিল, সবগুলিই ভুল প্রমাণিত হয়েছে ওর জীবনে৷ এক মুহূর্তের জন্যও রাশেদ রাইমাকে ভুলতে পারে নি। রাইমা'র স্মৃতি কোন ভাবেই ঝাপসা হয়ে যায়নি ওর মনে। সেজন্য এই নিঃসঙ্গ জীবনে খুব বেশি একাকীত্ব অনুভব করে না রাশেদ। চোখ বন্ধ করলেই রাইমা'র সাথের সেই অসম্ভব মধুর স্মৃতিগুলি দেখতে পায় ও। মধুর প্রেমের মাখামাখি সেই সব স্মৃতি বুকে নিয়ে রাশেদ অধীর আগ্রহে এই জীবনে আরেকবার রাইমাকে দেখার জন্য অপেক্ষা করে আছে। ভালোবাসাময় এত এত মধুর স্মৃতিই বা কয়জনের থাকে ছোট্ট এই জীবনে?

উৎসর্গঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নির্যাতিতা সকল বীরাঙ্গনা নারী এবং যুদ্ধ শিশুদেরকে এই লেখা উৎসর্গ করা হলো।

কৃতজ্ঞতাঃ
১. নিলীমা ইব্রাহীমের লেখা বই – আমি বীরাঙ্গনা বলছি
২. আমাদের বীরাঙ্গনা নারী এবং যুদ্ধ শিশুরাঃ পাপমোচনের সময় এখনই - ফরিদ আহমেদ
৩. যুদ্ধ শিশুদের নিয়ে ইন্টারনেট পাওয়া বিভিন্ন লেখা।
৪. বীণা ডি’কস্টার লিখিত বীরাঙ্গনা নারী এবং যুদ্ধ শিশুদের উপর প্রবন্ধসমূহ।


সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত @ নীল আকাশ, জানুয়ারি, ২০১৯



সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১০:৩৩
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেলফোর রোড টু কাশ্মীর ! : সভ্যতার ব্লাকহোলে সত্য, বিবেক, মানবতা!

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

ফিলিস্তিন আর কাশ্মীর! যেন আয়নার একই পিঠ!
একটার ভাগ্য নিধ্যারিত হয়েছিল একশ বছর আগে ১৯১৭ সালে; আর অন্যটি অতি সম্প্রতি ২০১৯ এ!
বর্তমানকে বুঝতেই তাই অতীতের সিড়িঘরে উঁকি দেয়া। পুরানো পত্রিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চামড়ার মূল্য- মানুষ ভার্সেস গরু

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৪


২০১০ সালের কথা; তখন পূর্ব লন্ডনের ক্যানরি ওয়ার্ফ (Canory Wharf) এর একটি বাসায় ক্লাস নাইনে পড়া একটি ছাত্রীকে ম্যাথমেটিকস্ পড়াতাম। মেয়েটির আঙ্কেল সময়-সুযোগ পেলে আমার সাথে গল্পগুজব করতেন। একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাদীজান ও হ্যাজাক লাইট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০০



সময় ১৯৮০ এর দশক, প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের শেষ শুক্রবার আমার দাদাজানের মৃত্যুবার্ষিকী’তে বড় চাচা, আব্বা বেশ খরচ করে গ্রামবাসী ও আত্মীয় পরিজনদের খাবারের একটা ব্যাবস্থা করতেন, বড় চাচা আর আব্বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত কিছু সময়ে সামুতে যা যা হয়েছে, ব্লগারদের ওপর দিয়ে যা গিয়েছে, সেসকল কিছু স্টেজ বাই স্টেজ বর্ণনা!

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:১৪



কনফিউশন: ধুর! কি হলো! ব্লগে কেন ঢুকতে পারছিনা? কোন সমস্যা হয়েছে মনে হয়, পরের বেলায় চেক করে যাব। বেলার পর বেলা পার হলো, সামুতে ঢোকা যাচ্ছে না! কি সমস্যা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

আড্ডাঘরের বর্ণনা

লিখেছেন আনমোনা, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৩৩

সামু ব্লগে ছিলো এক সামুর পাগল
সারাদিন করে সে যে মহা হট্টোগোল। ।
খুলিলো আড্ডাবাড়ি আড্ডারি তরে।
জুটিলো পাগল দল তাড়াতাড়ি করে। ।
সরদার হেনাভাই, তার এক হবি।
প্রতিদিন আপলোডে মজাদার ছবি। ।
সকল পাগলে তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×