somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিলেট ভ্রমণ - জাফলং

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১৯শে অক্টোবর ২০১৪ইং তারিখে সিলেটে একটা ফ্যামিলি এন্ড ফ্রেন্ড ভ্রমণের আয়োজন করেছিলাম। আমাদের গাড়ি ছাড়া হল ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে। পথে তখনও কর্মব্যস্ততা শুরু হয়নি। পথের ধারের চিরচেনা গ্রামবাংলার আবহমান দৃশ্যাবলী দেখতে দেখতে আমরা এগিয়ে চলি। “শ্রীমঙ্গলের পথে” চলতে চলতে আমরা যখন লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে পৌছাই তখন ঘড়িতে সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট। “লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ” শেষে আমরা পৌছাই মাধবপুর লেকে। কিছুটা সময় “মাধবপুর লেক ভ্রমণ” শেষে আমারা যাই মাধবকুণ্ড ঝর্ণা দেখতে। বিকেলটা কেটে যায় “মাধবকুণ্ড ঝর্ণা ভ্রমণ” করে। সেখান থেকে ভ্রমণ শেষে পৌঁছই সিলেটে।

পরদিন ২০শে অক্টোবর সকালে “হযরত শাহজালাল (রঃ) দরগা”তে কিছুটা সময় কাটিয়ে আমরা চললাম ৬০ কিলোমিটার দূরের বিছনাকান্দির উদ্দেশ্যে। অচেনা রাস্তা বলে সময় কিছুটা বেশী লাগায় হাদারপাড় বাজারে যখন পৌছাই তখন ঘড়িতে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। একটি ট্রলার ভাড়া করে চললাম পিয়াইন নদীর অল্প জলের বুক চিরে ”বিছনাকান্দির” দিকে। বিকেলের মধ্যে বিছনাকান্দির মহনীয় রূপ উপভোগের পালা শেষে রাতে ফিরে আসি আমাদের আস্তানা সিলেট শহরে।

পরদিন ২১শে অক্টোবর সকালে নাস্তা শেষে সোয়া ১১টার দিকে পৌছাই ”হজরত শাহপরানের মাজারে”। মাজার জিয়ারত শেষে পৌনে ১২টা নাগাদ বেরিয়ে পরবর্তী গন্তব্য ”হরিপুরের পরিত্যাক্ত গ্যাস ফিল্ড” দেখে এগিয়ে চলি লালাখালের পানে। নীলজলের “লালাখাল ভ্রমণ” শেষে আমাদে সেদিনের শেষ ভ্রমণ গন্তব্য “জাফলং”।

তাই আমাদের আবার ছুটে চলা শুরু হয় জাফলং এর পথে। গুগল ম্যাপের কল্যানে দেখতে পেলাম যে রাস্তায় লালাখালে এসেছি সেই রাস্তায় না ফিয়ে আরেকটি শর্টকাট রাস্তা আছে হাইওয়েতে উঠার জন্য। চললাম সেই পথেই। কিছু দূর যেতেই বুঝতে পারলাম এটি কাচা মাটির রাস্তা। একেবারে গ্রামের ভিতর দিয়ে বসতির পাশ দিয়ে ঝোপের মাঝ দিয়ে চলেছি আমরা। একসময় উঠে আসি মূল পিচঢালা রাস্তায়।



বিকেল সারে তিনটার দিকে পৌছাই জাফলং। অফ সিজন হওয়াতে দেখলাম এখানেও টুরিস্ট কম, সেই সাথে নদীর জলও কম। নদীর চল অনেকটাই নিচে নেমে গেছে।



তাই আমরা পায়ে হেঁটেই নদীর তীর ধরে এগুতে থাকি ডাউকির সেই সেতু দেখতে। হেঁটেই পৌছেযাই মূল স্পটে। বর্ষায় এখানে থাকে অথৈ জল, এখন বসেছে হরেক রকম সদাই নিয়ে নানান দোকান পাট। ঝাল মুড়ি থেকে কসমেটিক্স, মিনারেল ওয়াটার থেকে ঝান্ডুবাম সবই মেলে এখানে। বসেছে ভাসমান রেস্তরাও। আছে ভ্রম্যমান ফটোগ্রাফারও।

শুর হয় পায়ে হেঁটে চলা


নৌকয় আছে অল্পকিছু ভ্রমণার্থি


জাফলং এর কর্ম ব্যস্ততা

জাফলং এর সেই চিরায়ত দৃশ্য নদীর জলে চলছে পাথর উত্তলন। ভারতের ঐপারে অনেকটা অংশের টলমলে জলে নৌকয় বসে চলছে বড়শী ফেলে মাছ ধরা। ডান দিকের তীরে পাহারি লোকেরা গোসল আর কাপর কাচার কাজ করছে নদীর জলে। দেখলাম কিছু ভারতিয় টুরিস্টও ওদের ঐদিক দিয়ে এসেছে বেরাতে। পাশের টিলায় বিজেবির সৈন্য বসে আছে প্রস্তুত হয়ে। আমরা টলমলে স্বচ্ছ জলে নেমে পরলাম পা ভেজাতে সব কিছু অগ্রাজ্য করে।





ভাসমান রেস্টুরেন্ট


ওপারের বিদেশ


ডাউকি ব্রিজ


ডাউকি ব্রিজ


মরুভূমির জলদস্যু পরিবার


হাঁটু পানির জলদস্যু


প্রেমিকার সাথে ফোনালাপে ব্যস্ত স্বপন


জাফলং-এ জল-পাথরে

দুপুরে খাওয়া হয়নি আজও তাই প্যাট মহাশয়কে বোকা বানাতে ঝাল মুড়ি আর সিংগারা খেলাম সকলে নদীর শীতল জলে পা ডুবিয়ে বসে। অনেকটা সময় এখানে কাটিয়ে ফিরতি পথ ধরলাম। পথের ধারে দূরে একটা বিশাল গাছ দেখে যাওয়ার চেষ্টা করতেই বুঝতে পারলাম ওটা দাদাদের এরিয়াতে আছে, আমাদের যাওয়া নিষেধ। তখন সূর্যে ঢলে পরছে পশ্চিম আকাশে। আমাদেরও জাফলং বেরানো সাঙ্গো হয়েছে। আঁধার নামার আগেই এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে।

এমন চিত্র বাংলাদেশেই সম্ভব


ফিরতে হবে তীরে


এই সময় বন্ধু সাইফুলের ফোন, একে একে সবাই কথা বলে ভ্রমণ বিত্তান্ত নিয়ে।

জাফলং-এ সূর্যাস্ত


নদীর পরে গাড়ির পাশে দাড়িয়ে সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখলাম। এবার সিলেটের রাতের আস্তানায় ফেরার পালা। হোটেলে ফেরার আগে রাতের খাবার শেষ বরলাম পালকি রেষ্টুরেন্টে। তারপর আবার হেটেলে ফিরে স্বপ্নের রুমে বসে আড্ডা।
চলবে.......


পূর্বের পর্ব গুলি :
শ্রীমঙ্গলের পথে
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ
মাধবপুর লেক ভ্রমণ
মাধবকুণ্ড ঝর্ণা ভ্রমণ
সিলেট ভ্রমণ - হযরত শাহজালাল দরগাহ
সিলেট ভ্রমণ - বিছনাকান্দি (১ম পর্ব)
সিলেট ভ্রমণ - বিছনাকান্দি (২য় পর্ব)
সিলেট ভ্রমণ - হযরত শাহপরান দরগাহ
সিলেট ভ্রমণ - হরিপুর পরিত্যাক্ত গ্যাস ফিল্ড
সিলেট ভ্রমণ - লালাখাল

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:২৯
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মকিম গাজী ভাই

লিখেছেন কুশন, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ২:০৪



আমি এখন বাফেলো শহরে থাকি।
আমেরিকার সেরা দশ শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাফেলো। এখানে হালাল মার্কেট, হালাল রেস্তোরাঁ আর অনেক মসজিদ। এই শহরে বাঙ্গালীদের অভাব নেই। অনেক বাঙ্গালীকে লুঙ্গি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোলকাতার একটি দৈনিকে একটি বিজ্ঞাপনঃ

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ভোর ৬:০৫

কোলকাতার একটি দৈনিকে একটি বিজ্ঞাপনঃ

“আমি ৭০ বছরের একলা মানুষ। তবে এখনো সক্ষম, নিজের সব কাজ, বাজার হাট, রান্নাবান্না ও নিজের দেখাশোনাটাও নিজেই করতে পারি। তেমন কোন রোগব্যাধিও নেই। অবসরপ্রাপ্ত, মাসিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

খুচরো ব্লগিং চারঃ এ চাইল্ডস লজিক

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৫৮



কয়েক দিন আগে অনলাইনে দেখা একটা একটা ফানি ভিডিওর কথা মনে পড়লো । সেখানে দেখা যায় একজন স্ত্রী তার স্বামীর কাছে জানতে চাইছে, আচ্ছা হানি, যদি আমি মোটা হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষ্টেশন ভাগাভাগি' র গল্প

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:০৯


শৈশব থেকে পথ হারিয়েছি বহুবার, তবুও আশ্চর্য এক কারনে নতুন পথের সন্ধানে নামতে হয় বারংবার। খেলার সাথী বন্ধুমহল কিংবা অগ্রজ অনেকেই বেশ নির্ভার থাকেন আমার দেখানো পথে। তাদের ভাবনায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিফিউজী সমস্যা ও সামুর ব্লগারদের সচেনতা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৫:৪৫



রোহিংগাদের নিয়ে পোষ্ট লেখেননি, এই রকম কোন ব্লগার যদি সামুতে থেকে থাকেন, আপনি হাত তুলুন! রোহিংগাদের নিয়ে আমি নিজেই আনুমানিক ৫০'টার মতো পোষ্ট লিখেছি। বর্তামন বিশ্বের হিংসার রাজনীতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×