somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহজমপুর শাহী মসজিদ ভ্রমণ চিত্র

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখ শুক্রবার ফেসবুক গ্রুপ Save the Heritages of Bangladesh তাদের ২৫তম ইভেন্ট পরিচালনা করছিলো। অন্য সব সদস্যদের সাথে আমি আমার বড় কন্যা সাইয়ারাও ঐদিন অংশ নিয়েছিলাম ডে ট্যুরে আড়াইহাজার ও সোনারগাঁয়ের কিছু প্রাচীন জমিদার বাড়ি, মন্দির, মঠ, মসজিদ ঘুরে দেখার জন্য। এখানে বলে রাখা ভালো এই ট্যুর গুলিতে শুধু প্রাচীন স্থাপত্যগুলি দেখার তালিকায় স্থান পায়।




ভোর ৬.৩০ মিনিটে আমাদের যাত্রা শুরু হয় লালমাটিয়ার আড়ং এর সামনে থেকে, প্রায় ৩০ জনের গ্রুপ ছিলাম। আমাদের প্রথম গন্তব্য ছিল আড়াইহাজারের “বালিয়াপাড়া জমিদার বাড়ী”। সকাল ৮টার দিকে আমরা পৌছাই বালিয়াপাড়া জমিদার বাড়ী। ৩০ মিনিটে আমরা বালিয়াপাড়া জমিদার বাড়ী দেখা শেষ করে রওনা হই আমাদের দ্বিতীয় গন্তব্য “পাল পাড়া মঠ” দেখতে। সকাল ৯টার সময় পৌছাই আমরা পাল পাড়া মঠের সামনে। ২০ মিনিট সময় লাগে পাল পাড়া মঠের পরিদর্শন শেষ হতে। এরপরে আমরা যাই আমাদের তৃতীয় গন্তব্য “বীরেন্দ্র রায় চৌধুরী বাড়ি”তে। মিনিট বিশেক সেখানে কাটিয়ে আমরা রওনা হই “মহজমপুর শাহী মসজিদ” দেখতে।


“মহজমপুর শাহী মসজিদ”



বাংলাদেশের প্রাচীনতম টিকে থাকা মসজিদগুলির মধ্যে মহজমপুর শাহী মসজিদ একটি। মসজিদটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মহজমপুর গ্রামে মহজমপুর বাজারের কাছে, রাস্তার ঠিক পাশেই অবস্থিত। মদনপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এর অবস্থান।







যতদূর যানা যায় “সুলতান শামসুদ্দীন আহমদ শাহ” এর শাসনকাল ১৪৩২ থেকে ১৪৩৬ খ্রিস্টাব্দের কোনো এক সময় মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে। আবার অন্য একটি তথ্য মতে মসজিদের গায়ে একটি শিলালিপি ছিল। শিলালিপিটি ভেঙ্গে গেলেও কিছু অংশ পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। শিলালিপি অনুসারে মসজিদটি সুলতান জালাল-আল-দীন মোহাম্মদ শাহ এর পুত্র সুলতান শামস-আল-দীন মোহাম্মদ শাহ এর শাসনামলে ফিরোজ বা ফিরুজ খান নামে জনৈক ব্যক্তি নির্মাণ করেন।



ছাদের উপরে ভ্রমণসঙ্গীদের ছবি তোলার সময়।




ছাদের উপরে ভ্রমণসঙ্গীদের ছবি তোলার সময়।

মসজিদটি দৈর্ঘ্যে কমবেশী ৪২ ফুট এবং প্রস্থে কমবেশী ৩০ ফুটের মত। মসজিদের সামনের অংশে ছাদের উপরে দুই কোণে রয়েছে অষ্টভুজাকৃতির ছোট ছোট দুটি মিনার।






মিনার কোনে আমার বড় কন্যা সাইয়ারা সোহেন



মিনার কোনে আমার বড় কন্যা সাইয়ারা সোহেন


মসজিদে প্রবেশের জন্য পূর্বদিকে রয়েছে তিনটি প্রবেশপথ যার মাঝের প্রবেশপথটি পাশের দুটির তুলনায় সামান্য বড়। মসজিদের পশ্চিমদেয়ালের মধ্যবর্তী মূল মেহরাবটি দেয়াল থেকে পশ্চিম দিকে বাইরের বেরিয়ে আছে এবং বাইরের মেহরাবের অংশটিতে পোড়ামাটির ফলকে চমৎকার দৃষ্টনন্দন কারুকাজ করা আছে।





মসজিদের ছাদের উপরে গম্বুজ সংখ্যা ৬টি। গম্বুজগুলি উত্তর দক্ষীণ বরাবর দুটি সারিতে রয়েছে।





মসজিদের ছাদে সাইয়ারা



মসজিদের ছাদে সাইয়ারা



দলের কনিষ্ঠ সদস্য সাইয়ার সাথে প্রবিনতম সদস্য কবি সৈয়দ তারিক ভাই।








তবে মূল মসজিদটি কয়েকদফায় সংস্কার তরা হয়েছে। বর্তমানে মূল মসজিদের তিন দিকেই নতুন করে কাজ করে মসজিদের আয়তন বাড়ানো হয়েছে। মসজিদটি বর্তমানে জামে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।



এই নোটিশের কোন মূল্য আছে বলে বুঝার কোন উপায় নেই, এখনো কাজ চলছে সেটা আমার ছবি দেখেই বুঝা যাচ্ছে। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই নোটিশ ঝুলিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করে।



আগামী পর্বে দেখা হবে পরবর্তী গন্তব্য বারদীর লোকনাথ ব্রক্ষমচারীর আশ্রমের সামনে।
তথ্য সূত্র : উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট।
বর্ননা : নিজ
তারিখ : ২৮/১০/২০১৬ইং
জিপিএস কোঅর্ডিনেশন : 23°44'06.0"N 90°36'18.4"E


পথের হদিস : দেশের যেকোন যায়গা থেকে মদনপুর বা ভুলতা বা অড়াইহাজার বাজারে আসতে হবে। সেখান থেকে যেতে হবে মহজমপুর বাজার। বাজারের কাছে পথের ধারে রয়েছে “মহজমপুর শাহী মসজিদ”।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হন্টেড হোটেল : বেনফ স্প্রিংস হোটেল,কানাডা

লিখেছেন নাফি ইমতি, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:৪৫

ব্যানফ স্প্রিংস হোটেল, কানাডার আলবার্টাতে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক হোটেল। অনেকেই বিশ্বাস করেন ১৮৮৮ সালে নির্মিত এই হোটেলটি ভুতুড়ে। বছরের পর বছর ধরে, কর্মচারী এবং অতিথিরা অস্বাভাবিক ভৌতিক ঘটনার কথা জানিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মকিম গাজী ভাই

লিখেছেন কুশন, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ২:০৪



আমি এখন বাফেলো শহরে থাকি।
আমেরিকার সেরা দশ শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাফেলো। এখানে হালাল মার্কেট, হালাল রেস্তোরাঁ আর অনেক মসজিদ। এই শহরে বাঙ্গালীদের অভাব নেই। অনেক বাঙ্গালীকে লুঙ্গি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোলকাতার একটি দৈনিকে একটি বিজ্ঞাপনঃ

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ভোর ৬:০৫

কোলকাতার একটি দৈনিকে একটি বিজ্ঞাপনঃ

“আমি ৭০ বছরের একলা মানুষ। তবে এখনো সক্ষম, নিজের সব কাজ, বাজার হাট, রান্নাবান্না ও নিজের দেখাশোনাটাও নিজেই করতে পারি। তেমন কোন রোগব্যাধিও নেই। অবসরপ্রাপ্ত, মাসিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

খুচরো ব্লগিং চারঃ এ চাইল্ডস লজিক

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৫৮



কয়েক দিন আগে অনলাইনে দেখা একটা একটা ফানি ভিডিওর কথা মনে পড়লো । সেখানে দেখা যায় একজন স্ত্রী তার স্বামীর কাছে জানতে চাইছে, আচ্ছা হানি, যদি আমি মোটা হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষ্টেশন ভাগাভাগি' র গল্প

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:০৯


শৈশব থেকে পথ হারিয়েছি বহুবার, তবুও আশ্চর্য এক কারনে নতুন পথের সন্ধানে নামতে হয় বারংবার। খেলার সাথী বন্ধুমহল কিংবা অগ্রজ অনেকেই বেশ নির্ভার থাকেন আমার দেখানো পথে। তাদের ভাবনায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×