somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এখন আর কাউকে হাসাতে পারি না

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৩:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জন্মের পর থেকেই শুনে এসেছি, সবার সাথে ভালো ভাবে কথা বলা, হাসি-ঠাট্টা করা ভদ্র সমাজের রীতি এবং মহত্বের লক্ষণ। যখন পাঠশালাগুলিতে পড়েছি, সহপাঠী ও বন্ধুদের বেশীরভাগকেই এভাবে কথা বলতে দেখেছি। কিন্ত এসব যে খারাপ, আর ইতরের মতো অন্যকে আঘাত করে কথা বলা মানে যে ব্যাক্তিত্ব,সেটা জীবনে প্রথম শুনেছিলাম ২০০৬ সালে ষ্ট্যামফোর্ডে চলচ্চিত্র নিয়ে এম এ পড়ার সময় একদল নীচ আর নিকৃষ্টের কাছে।

এরা সবাই যদি গ্রামের নোংরা পারিবারিক বা সামাজিক পরিবেশ থেকে আসতো, তাহলে বলার কিছু ছিলো না। যদিও গ্রাম আর গ্রাম্য নোংরামী এক জিনিস না। গ্রামে থাকলেই যদি সবাই নোংরা হতো, তাহলে শহরে থাকলেও সবাই সভ্য আর ভদ্র হতো। ১৪ পুরুষ ধরে শহরে থেকেও যারা পরশ্রীকাতরতা, দলাদলি, পরচর্চা,পরনিন্দার উর্ধে উঠতে পারে না, তারাও নোংরা গ্রাম্য সংস্কৃতি বহন করে। আমাদের অনেকের পূর্ব পূরুষরা আরব, ইরান,ইরাক,তুরস্ক, আফগানিস্তান থেকে আসলেও তাদের বেশীরভাগই প্রথম গ্রামেই বসবাস শুরু করেছিলেন।কিন্ত এদের মধ্যে দিগন্ত টিভি’র মালিক, ফাসীতে ঝোলা রাজাকার কাসেম আলীর পোষা ভৃত্যর মতো গ্রামের ক্ষ্যাত যেমন ছিলো, তেমনই ছিলো দেশের বিখ্যাত এক চলচ্চিত্র ও টিভি অভিনেতা ও ‍পরিচালকের পেশাদার পতিতা মেয়ে , বর্তমানে টিভি নাটকে ভাড়ের চরিত্রে অভিনয় করা এক নকলবাজ, নষ্ট, লম্পট, যে এখন আবার নীতি-আদর্শ শেখানোর দোকান খুলে বসেছে আর এক শিষ্টাচার জ্ঞানহীন স্বঘোষিত বিরাট ‘‘জ্ঞানী-গুণী’ সহ ঢাকায় বসবাস এবং পড়াশোনা করা ২/১ জন।

শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতাম আমি। শিক্ষকরা পৃথিবীর যেকেনো দেশের চলচ্চিত্রসহ যেকোনো বিষয় সম্পর্কে তথ্যের দরকার হলেও আমাকেই জিজ্ঞেস করতেন। তাদের শিক্ষা সহকারী হিসেবে কাজ করতাম, যেটা ‍উন্নত দেশে চালু আছে । ইত্তেফাক এবং যুগান্তরে নিয়মিত গবেষণামূলক লেখা লিখতাম। এদের সভ্য বানানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার আমার লেখা অনেক বই দিয়েছিলাম।এরা যেকোনো বিপদে পড়লে আমার সাহায্যই নিতো, কিন্ত বিপদ শেষ হওয়া মাত্র অভদ্রতা শুরু করতো।

আর শিক্ষকরা চলচ্চিত্র বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলে এরা উত্তর দিতে না পেরে হা করে তাকিয়ে থাকতো। পথের পাচালীর মতো একটা নীম্নমানের বাংলা চলচ্চিত্র দেখেও সমালোচনা লিখতে পারতো না, দশম শ্রেণীর নোটবই থেকে নকল করে লিখতো, এমনই শোচনীয় ছিলো এদের জ্ঞান-বুদ্ধির অবস্থা।

এদের একমাত্র দক্ষতা ছিলো নীচতা,অসভ্যতা, যোগ্যদের হেয় করা আর প্রচন্ড পরশ্রীকারতায়।এরা এসবই করতো যোগ্যতায় ধারে-কাছে আসতে না পেরে হীনমণ্যতার কারণে ।

এদের আচরণ সম্পর্কে জানতে পেরে শিল্প নির্দেশনা শিক্ষক উত্তম গুহ একদিন শ্রেণীকক্ষে দীর্ঘসময় ধরে এদের বকাবকি করে বলেছিলেন, ‘‘মানুষকে হাসানো একটা ঐশ্বরিক গুণ আর দু:খ দেয়া বা কাদানো নোংরা নীচতা, যেটা সবাই পারে।’’
কিন্ত এদের কারনে হাসির কথা বলা যে বন্ধ করেছিলাম, এখনো সেটা থেকে মুক্ত হতে পারিনি। তাই এখন আর হাসির কিছু বলতে বা লিখতে পারিনা।

হাজার বছরের গোলামীর ফলে বাঙ্গালীর মানসিকতার যেসব ক্ষতিকর পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, সেগুলির একটা হচ্ছে ভদ্রতা ও নম্রতাকে দূর্বলতা বলে ভাবে। তাই এরা শক্তের ভক্ত আর নরমের যম। এরা চাবুক পেটা খেলে ঠিক থাকে। অথচ ইউরোপ-এ্যামেরিকার রাষ্ট্রপতিরাও সবার সাথে হাসি-ঠাট্টা করে। ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী সেদিনও এক অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবী ভাংড়া নাচ নেচেছেন। এজন্য কেউই তাদের ব্যাক্তিত্বহীন ভাবে না। Justin Trudeau Bhangra Dance

গত কয়েকমাস ধরে চেষ্টা করেও একটা হাসির নাটক লিখতে পারছি না।

ব্লগে লেখা পড়ে অনেকেই মনে করে খুবই নিরস এবং খুব রাগী একজন লেখক।

আমি রাগী ঠিকই কিন্ত সেটা শুধু অপরাধীদের বিরুদ্ধে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সেখানে পড়ার সময়ও সবসময়ই করেছি। এজন্য দুর্নীতিবাজ,মাদক ব্যবসায়ী এবং বিরাট সন্ত্রাসী দলের বিরুদ্ধেও একাই লড়তে হয়েছে। এরা এটা দেখেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেয়ার পরিবর্তে প্রকাশ্যে নিজেদের মীরজাফরের মতো বিশ্বাসঘাতক প্রমাণ করে সমর্থন করেছিলো এইসব সন্ত্রাসীদের।

কিন্ত এছাড়া সবসময়ই শান্ত ও কৌতুকপ্রিয় ছিলাম, যেটা এই সব নীচদের কারণে ছাড়তে হয়েছে।

এভাবেই অসভ্যরা সভ্য লোক এবং সভ্যতা -সবই নষ্ট করে., শুধু নিজেদের ব্যার্থতা ও অপদার্থতার কারণে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ ভোর ৪:৩৫
২৮টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খ্যাপাটে ট্রাম্প প্রস্থান করতে গিয়েও জো বাইডেনকে খোঁচা মারলেন।

লিখেছেন দেশ প্রেমিক বাঙালী, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:৫৭



খ্যাপাটে ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন না। বুধবার (২০/০১/২০২১) সকাল সকালই হোয়াইট হাউজ ছেড়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের পর থেকেই নিজের পরাজয় অস্বীকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বনলতা সেন কে ছিলেন?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:২৫



জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কবিতাটি পড়েননি এমন পাঠক খুব কমই পাওয়া যাবে। অদ্ভুত একটা কবিতা। বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দকে বলেছিলেন- ‘প্রকৃত কবি এবং প্রকৃতির কবি’। কবিতাটি প্রথম প্রকাশ করেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট শপথ গ্রহন ছবি ব্লগ

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১:০৭





ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকার ৪৬ তম
প্রেসিডেন্ট হিসাবে জোসেফ রবিনেট "জো" বাইডেন
শপথ নিলেন ঢাকা সময় কাল রাতে । খুব উৎকণ্ঠা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রকৃতি যখন মাতাপিতা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৪



আমাদের গ্রামের দরিদ্র মামা-মামীর সংসারে বড় হওয়া এক কিশোরীর জীবনের কষ্টকর একটি রজনীর কথা।

আমাদের গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় আমাদের একটা ছাড়া-বাড়ী ছিল; বাড়ীটি বেশ বড়; ওখানে কোন ঘর ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দুত্ববাদ ও অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের কন্ডম পরানো

লিখেছেন মুজিব রহমান, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৮


উন্মুক্ত লিঙ্গ দেখে কারো অনুভূতিতে আঘিত লাগে না অথচ সেই লিঙ্গে কন্ডম পরানোতেই ধর্মানুভূতিতে প্রচণ্ড আঘাত লাগলো৷ বিষয়টি নিয়ে ক্ষেপে উঠেছে উগ্রপন্থী হিন্দুরা৷ কলকাতায় হইচই শুরু হয়েছে অভিনেত্রী সায়নী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×