somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অমিত শাহ বারবার বাংলাদেশকে হেয় করে মন্তব্য করছে

১৫ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


‘বাংলাদেশের গরীব মানুষ এখনও খেতে পাচ্ছে না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপির সাবেক সভাপতি ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) অমিত শাহের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা।বাংলাদেশের গরিবরা খেতে পায় না, তাই ভারতে আসে: অমিত শাহ

গত ১০-১৫ বছরে বাংলাদেশের তো আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে। তাও কেন লোকে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করছে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গরিব মানুষ এখনও খেতে পাচ্ছে না। সে কারণেই অনুপ্রবেশ চলছে। আর যারা অনুপ্রবেশকারী, তারা যে শুধু বাংলাতেই থাকছে, তা নয়। তারা তো ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। জম্মু-কাশ্মীর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। তাতে অমিত শাহ জানান, ক্ষমতায় এসে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ বন্ধ করবে বিজেপি।

বিজেপি নেতার এই বক্তব্যেরর মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশের জনগণকে অপমাণ করা হয়েছে। একইসাথে বাংলাদেশের বিরাট অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবীকারীদেরও হেয় করা হয়েছে। কারণ একটা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন এধরণের কথা বলেন, তখন সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের সাফল্য সম্পর্কে ভুল ও মিথ্যা ধারণার সৃষ্টি হয়। এধরণের আচরণ মোটেই ভালো প্রতিবেশীসুলভ না।

বাংলাদেশও ভারতের বিরুদ্ধে অভিন্ন নদীর পানি না দেয়া, সীমান্তে নীরিহ মানুষ গুলি করে হত্যা এবং ভারতে বাংলাদেশ পণ্য ঢুকতে বাধা দেয়া সহ অনেক অভিযোগ করতে পারে।

মানব উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিটা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের উপরে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও বারবার একথা বলেছেন।

বাংলাদেশে অবশ্যাই দারিদ্র এবং বেকারত্ব আছে কিন্ত তারও ভারতের চেয়ে অবস্থা অনেক ভালো। সামরিক ব্যায় বৃদ্ধি আর চাদ-মঙ্গলে মহাকাশ যান পাঠাতে গিয়ে ভারতের এমন শোচনীয় অবস্থা হয়েছে যে, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী অনাহারী লোক ভারতেই বাস করে। সেদেশের অনেক জায়গায় লোকজন খাবার অভাবে ঘাসও খায়। https://www.indiafoodbanking.org/hunger।

সুতরাং বাংলাদেশীদের কাজেন জন্য ভারতে যাওয়ার তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। বরং প্রায় ৫ লাখ ভারতীয় কোনো অনুমতি ছাড়াই বাংলাদেশে মোটা বেতনে চাকরী করে নিজেদের পরিবার চালাচ্ছে।বাংলাদেশে চাকরি করছে ৫ লাখ ভারতীয়, অধিকাংশের নেই ওয়ার্ক পারমিট!

অমিত শাহ সবসময় মিথ্যা এবং উস্কানীমূলক কথা বলে ।

এর আগে সংসদে দাড়িয়ে সে বলেছে, বলেছে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নাকি অত্যাচার হয়, সেজন্য ভারত এনআরসি করেছে !!https://www.bbc.com/bengali/news-50717116
অথচ সারা পৃথিবীর লোক দেখেছে ভারতে ২০২০ সালেও কিভাবে দিনের আলোতে সংখ্যালঘু হত্যা আর মসজিদে আগুন দেয়া হয়েছে। সেখানে গরু এমনকি মহিষ খাওয়ার অপরাধেও নির্মভাবে মুসলমানদের হত্যা করা হয়।

পৃথিবীর যেকেোন দেশের চেয়ে বাংলাদেশীরা সবচেয়ে বেশী সংখ্যায় ভারতে যায়। ভারতের ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশন দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা প্রতিবছর ২১ থেকে ২২ লাখ। করোনার আগে প্রতিদিন প্রায় ২৫-৩০ হাজার বাংলাদেশী প্রতিদিন ভারতে যেতো। তারাই বলছে যে প্রতিবছর ভারতে শুধু চিকিৎসা করার জন্যই তারা ৫০০০ কোটি টাকা ব্যায় করে। আর অন্যান্য খাতে যে কি পরিমাণ ব্যায় করে, সেটার কোনো সঠিক হিসাব নাই তবে কোনোভাবেই ,মাসে কয়েকশত কোটি টাকার কম হবে না।https://www.bbc.com/bengali/news-48004865

পেট্রাপোলের মুদ্রা ব্যাবসায়ী, কলকাতার হোটেল-রেষ্টুরেন্ট ব্যাসায়ী , নিউ মার্কেট আর বড়বাজারের প্রধান ক্রেতাই ছিলো বাংলাদেশীরা। আর ইএম বাইপাসের এতোতোগুলি হাসপাতালও চলতো বাংলাদেশী রোগীদের উপর নির্ভর করে।

এখন সেখানে হাহাকার ।

বাংলাদেশের লোকরা গত ১৩ মাস ভারতে না যাওয়াতে কলকাতাসহ সারা ভারতের মুদ্রা ব্যাবসায়ী, ট্যাক্সি চালক,হোটেল, রেষ্টুরেন্ট, হাসপাতাল,কলকাতা নিউমার্কেট, বড় বাজারের সবাই না খেয়ে মরছে, সেটা কি সে জানে না?

ভারত সবসময়ই প্রতিবেশীদের সাথে পায়ে পা বাধিয়ে ঝগড়া করতে পছন্দ করে।

এজন্য চীন ও পাকিস্তান ছাড়াও নেপাল, ভূটান,শ্রীলংকার সাথেও তাদের দ্বন্দের সৃুষ্ট হয়।

বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে নির্বিবাদী প্রতিবেশী, যাদের নাগরিকদের নিয়মিত গুলি করে মারলেও পাল্টা গুলি ছোড়া হয়না। তারপরও এধরণের মন্তব্য সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। তাদের মনে রাখতে হবে যে, তারা নিজেদের রাম-লক্ষণ পঞ্চ-পান্ডবের বংশধর মনে করলেও বাংলাদেশ অসুরদের বা ম্লেচ্ছদের দেশ না।

এটা একটা স্বাধীন দেশ।

একদিকে বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বের কথা বলা হবে আবার অন্যদিকে বাংলাদেশীদের হেয় করে কথা বলা হবে, এই নীতিহীনতা গ্রহণযোগ্য না।

এধরণের অশোভন এবং শিষ্টাচার-বহির্ভূত বক্তব্য দেয়া থেকে ভারতীয়দের বিরত থাকা উচিত।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩৮
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাঠ প্রতিক্রিয়া- আনোহা বৃক্ষের জ্যামিতি

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ৯:৫০


কিস মি বেবে!

একটা খুবই দুঃখের কাহিনী বলি আপনাদের। এক গরীব ছেলে আর এক গরীব মেয়ের মধ্যে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠলো। তারা দুজনেই সামান্য চাকুরি করে। মেয়েটাকে তার অফিসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রহস্য গল্পঃ পড়ুয়া খুনী

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:৩৯



আমার বন্ধু রিয়াদ আমার দিকে বেশ কিছু তাকিয়ে রইলো । আমার কথা যেন ঠিক মত বুঝতে পারছে না কিংবা ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না ।
রিয়াদ বলল, তার মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাভারতের গপ্পো - ০১৯ : গান্ধারী, কুন্তী ও মাদ্রীর কাহিনী

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:২৭



ভীষ্ম নিজ ছেলের মতো করে ধৃতরাষ্ট, পাণ্ডু ও বিদুরকে লালন পালন করলেন। ধৃতরাষ্ট্র অসাধারণ বলবন, পাণ্ডু তুখর তীরন্দাজ, এবং বিদুর প্রচন্ড ধর্ম পরায়ণ হল। কিন্তু ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ, বিদুর দাসীর গর্ভজাত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাঠাল পাতা বিশেষজ্ঞ এবং ল্যাদানো টাইপ গল্পকার জনমদাসীকে ব্লগছাড়া করেছে !!!!!!

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:০৪




জানি আমি তুমি রবে... আমার হবে ক্ষয় ____'' পদ্মপাতা একটি শুধু জলের বিন্দু নয়!!! বিবেক কখনো মিথ্যা বলেনা, ধোঁকা দেয়না, আর যার সৎ বিবেক নেই__ সে মানুষ নামে মৃত্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:০৫

প্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
গত কিছুদিন ধরে ব্লগে বিভিন্ন স্যাটায়ার বা সরাসরি লিখিত পোষ্ট ও পাল্টা পোষ্টের মাধ্যমে ব্যক্তি আক্রমণ অত্যন্ত দৃষ্টিকটু পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যা ব্লগের স্বাভাবিক পরিবেশকে নষ্ট করছে এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×