somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের কীর্তিকলাপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ পর্ব-২

০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্ব-১

মতিউর রহমান নিজামীঃ সমস্ত রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের মূল নায়ক এবং বিভিন্ন মুজাহেদীন এবং জিহাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষক


আল-বদর বাহিনীর কর্মকান্ডের প্রধান মতিউর রহমান নিজামী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অথবা মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত হাজার হাজার বাঙ্গালী নিধনে দায়ী ছিল।পাবনা জেলার সাথিয়া থানার অধীন মনমথপুর গ্রামের খন্দকার লুতফর রহমানের পুত্র মতিউর এর তার নিজামী উপাধির পেছনে কোন যৌক্তিকতা ছিলনা। অন্যান্য ইসলামী সহকর্মীর মত মতিউরও নিজের নামকে আরো সন্মানিত বানাতে এবং নিম্ন জন্ম উৎস লুকাতে নিজামী উপাধিটি গ্রহণ করেছিল । তার গ্রামের লোকেরা তাকে এতই ঘৃণা করতো যে, নিজের দেশের মানুষের প্রতি নির্লজ্জ বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তারা তাকে এখনও মইত্যা দালাল বলে ডাকে।

১৯৭১-এ নিজামীর যুদ্ধাপরাধঃ

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে মতিউর নানারকম কর্মকান্ড পরিচালনা করে।জামায়াতের যুব ফ্রন্ট ইসলামী ছাত্র সংঘ (বর্তমান ইসলামী ছাত্র শিবির) এর প্রেসিডেন্ট ছিল মতিউর। স্বাধীনতা আন্দোলনের যোদ্ধা এবং সমর্থকদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য মতিউরের সরাসরি তত্ত্বাবধান এবং পরিচালনায় আল-বদর বাহিনী সংগঠিত হয়।মতিউর ছিল আল-বদর বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সমর্থকদের হত্যা করা ছাড়াও আল-বদর বাহিনীর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা।আল-বদর বাহিনীর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ধর্মনিরপেক্ষ বাঙ্গালী বুদ্ধিজীবিদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরী করা ও তাদের নিশ্চিহ্ন করা। স্বাধীনতা যুদ্ধচলাকালীন ও তৎপরবর্তী সময়ে দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন সংবাদপত্রে মতিউরের আল-বদর বাহিনী দ্বারা বুদ্ধিজীবি হত্যার ভয়ংকর কাহিনী প্রকাশিত হয়ঃ

১. যুদ্ধ চলাকালীন মতিউর জামাতের অন্যতম আদর্শিক নেতা হিসেবে তার দলের সমর্থকদের সংবাদপত্রে প্রবন্ধ এবং জনসভায় ভাষণের মাধ্যমে প্ররোচিত করতো মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকদের হত্যায় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সমর্থনে প্ররোচিত করতো। জামাতের মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামের একটি সংখ্যায় মতি্উর লিখেছিল, “সেইদিন বেশী দূরে নয় আল-বদরের তরুনরা সশ্রস্ত বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে হিন্দু শক্তিকে পরাজিত করবে এবং ভারত ধ্বংসের পর ইসলামের বিজয় পতাকা সারাবিশ্বে উত্তোলন করবে।” (দৈনিক সংগ্রাম, নভেম্বর ১৪, ১৯৭১)

২. ১৯৭১ সালের ১২ই এপ্রিল পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের জন্য গোলাম আযম এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় সহযোগী, যেমন সবুর খানের সাথে মতিউর ঢাকায় একটি মিছিলে নেতৃত্ব দেয়। শান্তি কমিটির ব্যানারে এই মিছিল পাকিস্তানের বিজয়ের জন্য বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে শেষ হয়। (দৈনিক সংগ্রাম, এপ্রিল ১৩, ১৯৭১)

৩. সীমান্ত শহর যশোরে রাজাকার বাহিনীর জেলা সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বাহিনীর একটি সভায় ভাষণ দানকালে মতিউর বলে, “জাতীয় সংকটের এই মুহুর্তে যারা পাকিস্তান এবং ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত, তাদের সকলকে নিশ্চিহ্ন করার জাতীয় দায়িত্ব পালন করা প্রত্যেক রাজাকারের কর্তব্য।” (দৈনিক সংগ্রাম, সেপ্টেম্বর ১৫, ১৯৭১)

৪. মতিউরের নিজ জেলা পাবনার জনগণ হত্যা, ধর্ষণ, অবৈধভাবে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের সাথে মতিউরের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ আনে। সেরকম একজন ব্যক্তি হচ্ছেন বেড়া থানাধীন ব্রিশ্লিকা গ্রামের আমিনুল ইসলাম ডাবলু। ডাবলু বলেন, তার বাবাকে মতিউরের আদেশে হত্যা করা হয়। ডাবলু আরও বলেন, ঐ এলাকার আরও লোকদেরকে মতিউরের নির্দেশে হত্যা করা হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন, প্রফুল্ল প্রামাণিক, ভাদু প্রামাণিক, মানু প্রামাণিক এবং শষ্ঠি প্রামাণিক। ডাবলু বলেন, ঐসব হত্যাকান্ডের বহু প্রত্যক্ষদর্শী ছিল।

৫. পাবনার মাধবপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস এক অসম যুদ্ধে গ্রেফতারের পর আল-বদরের নির্যাতন কক্ষে দুই সপ্তাহ অতিবাহিত করেন। কুদ্দুস বলেন, মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধের স্থানীয় সমর্থকদের হত্যার ব্যাপারে মতিউরের তত্ত্বাবধানে আল-বদর বাহিনীর পরিকল্পনার কথা তিনি শুনেছেন।

..............................(চলবে)

ছবিঃ মতিউর রহমান নিজামী, ১৯৭১ সালে
সূত্র
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৩১
৩৩টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাসিত এক রাজপুত্রের গল্প

লিখেছেন জুন, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২১ সকাল ১০:৫২



এক দেশে আছেন এক রানী যিনি নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের অধীনে দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে দুনিয়ার বহু দেশ সহ নিজ দেশকেও শাসন করে চলেছেন। সেই রানীর স্বামী, ছেলেমেয়ে নাতি-পুতি নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পাপেট শো করোনা ভাইরাস এবং হাবু - উৎসবহীন এই বৈশাখে ছোট্টমনিদের জন্য আমার ছোট্ট প্রয়াস

লিখেছেন শায়মা, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ১:৩৩



সুখে ও শান্তিতেই দিন কাটছিলো এই পৃথিবীবাসাীদের। হঠাৎ করোনার করাল থাবায় গত বছরের মার্চ মাস হতে আমাদের দেশ তথা সারা বিশ্ববাসীর সুখ শান্তি আনন্দ ভালোবাসা আর ভালো লাগায় ছেদ পড়লো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের আবহাওয়া একটু শান্ত হইছে মনে লয়, আহেন, আমরাও একটু বান্দরবানের পাহাড় থেইক্যা শান্তিতে ঘুইরা আহি...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৩:০৭


বর্ষার পরপর বান্দরবানের ল্যান্ডস্কেপ এমনই সবুজ ও মনোরম। ফটোগ্রাফারের নাম উল্লেখ না থাকা ছবিসূত্র

আমাদের যাওয়ার কথা ছিলো গত বছরের মার্চে। হুট করে লকডাউনের খাড়ায় পড়ে সে দফায় ক্ষ্যান্ত দিলেও মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাদের যা কিছু খাবার সাধ হয় পহেলা বৈশাখে

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:০৮

তোমাদের যা কিছু খাবার সাধ হয়,
খেয়ে নিয়ো প্রথমা বৈশাখে
গরম ভাতে পানি ঢেলে পান্তা, মচমচে ইলশে ভাজা
নতুন কেনা মাটির বাসনে চুমুক দিয়ে
চুকচুক করে পান্তার পানি খেয়ো, আর উগড়ে দিয়ো তৃপ্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্যান্ডোরার বাক্স: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে অমিত শাহ’র ভুখানাঙ্গা থিউরি ও ...পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টয়লেট সমাচার!!!

লিখেছেন আখেনাটেন, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ১০:৩৩



গ্রীক রূপকথার বড় চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে আকাশ ও বজ্রের দেবতা তথা দেবরাজ জিউস এবং আগুনের দেবতা প্রমিথিউস। দুজনের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক নানা কারণে। একদা আগুনের দেবতা প্রমিথিউস মানুষকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×