
১৯৪৮ সালে ঢাকা সফরকালে রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর বক্তব্যকে আবুল মনসুর আহমেদ পীড়াদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন। তার লেখা থেকেই উদ্ধৃত করছি : ‘কায়েদে আযমের আর যে কথাটি আমাকে পীড়া দিয়াছিল, তা বাংলা ভাষা সম্পর্কে তাঁর ঢাকার বক্তৃতা। পঁচিশ বছর ধরিয়া জিন্নাহ সাহেবকে চিনিতাম। এই পঁচিশ বছরের মধ্যে মাত্র পাঁচ বছর তাঁর বিরোধী ছিলাম। বাকী কুড়ি বছরই তাঁর সমর্থক ছিলাম। তাঁর মুখে এমন গুরুতর ব্যাপারে এমন অবিবেচকের কথা আশা করি নাই। তিনি বাংলা বা উর্দু কোনো ভাষাই জানিতেন না। তবে এটা তিনি জানিতেন যে বাংলা অধিকাংশ পাকিস্তানীর মাতৃভাষা। আর জানিতেন তিনি গণতন্ত্রে মাতৃভাষার তাৎপর্য। কাজেই কায়েদে আযমের মুখে মাত্র একবারের মতো ঐ গণতন্ত্রবিরোধী কথার মানে আমি আজও উপলব্ধি করি নাই।’ অতএব, এটা নিয়ে আজ আর কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই যে, জিন্নাহর ১৯৪৮ সালের বক্তব্য এক বিরাট রাজনৈতিক ভুল ছিল, যার পরিণতিতে ২৩ বছর পরে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।
জিন্নাহ যেহেতু ১৯৪৮ সালে ইন্তেকাল করেছিলেন, তাই ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে প্রাদেশিক পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার দায় তার ওপর চাপানোর কোনো যুক্তি নেই। তাহলে জিন্নাহর প্রতি বাংলাদেশের জনগণের একাংশের কেন এত তীব্র বিদ্বেষ? ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ অথবা শেখ মুজিবুর রহমানের বয়ানে জিন্নাহবিরোধী কোনো প্রচারণা খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রকৃতপক্ষে আমাদের স্বাধীনতার পর থেকেই এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিদ্বেষ ক্রমেই বিস্তার লাভ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের নাম পরিবর্তন করে ব্রিটিশ উপনিবেশকালের ভারতীয় মুসলমানদের অবিসংবাদিত নেতা জিন্নাহর জায়গায় কট্টর হিন্দু সূর্য সেনের নাম বসানো হয়েছে।
সূর্য সেন একজন কট্টর হিন্দুত্ববাদী ছিলেন অথচ দেশের প্রধানতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেক্যুলার চিন্তাধারার মুসলমান জিন্নাহর জায়গায় ধর্মীয় হিন্দু চরমপন্থি সূর্য সেনের নাম প্রতিস্থাপিত হয়েছে! চলবে...............।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




