somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্যগল্প: বলবান জামাতা এবং দূর্বল আমি !

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লোকে বলে ভাগ্যই নাকি সব কিছু।বাবুল সাহেবের বেলায় তার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে। বাবুল সাহেব যেমন প্রচন্ড সম্পদশালী মানুষ,তেমনি তার জামাতাও প্রচন্ড বলশালী মানুষ।একেবারে খাপে-খাপ।বাংলা প্রবাদের ভাষায় যাকে বলে- সোনায় সোহাগা।এমন সোনায় সোহাগা জামাতা পেয়েও বাবুল সাহেবের একটি বিষয় নিয়ে আক্ষেপ আছে। জামাতা এক কানে শুনে না। তাকে একটা বললে সে আরেকটা শুনে। অত্যন্ত শক্তিমান জামাতা পেয়েও এই একটুখানি গলদে গাজঁন নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম।তিনি জামাইকে তিনি যদি বলেন সামনে যেতে, সে পিছনে চলে যায়। খালা বললে শালা শুনে। পুরোই বিদঘুটে অবস্থা।

আসলে, কিছু দিন আগেও জামাতার এই বেহাল অবস্থা ছিল না। এই অবস্থা ঘটেছে এক রাজনৈতিক গুরুর চড় খেয়ে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামাতার সেই রাজনৈতিক গুরু তাকে তার কানের উপরে সজোরে চড় মারে। সেই থেকে তার এক কানে শুনাশুনি বন্ধ।গুরুর হাতে যে বলবান জামাতার চাইতেও বেশি বল আছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।তা না হলে তো আর গুরু হওয়া যায় না।
কথা সেটা না। কথা হচ্ছে,সেই দিন থেকে জামাতা নিজেও সেই চরিত্র ধারন করেছে। সে এখন যাকে হাতের কাছে পায় তাকেই তুচ্ছ ঘটনায় চড় মেরে দেয়। এখন পর্যন্ত নিরানব্বই জনকে চড় মেরেছে সে। আরেকটা মারতে পারলেই সেঞ্চুরী পূর্ণ হবে।
বাবুল সাহেবের সাথে সেদিন আমার দেখা হল সকালবেলা। তিনি তখন সোফায় বসে পত্রিকা পড়ছেন। আমাকে দেখে তিনি পত্রিকাটা চোখের সামনে থেকে নামিয়ে রাখলেন। বললেন-‘বসো। আমি তোমাকে ডেকেছিলাম। কারণ আমি একটা বড় সমস্যায় ছিলাম। এখনো আছি। সমস্যাটার কোন সমাধান হয়নি। সমাধান প্রয়োজন। তুমি খুব বুদ্ধিমান ছেলে। আশা করি তুমি পারবে।’
বললাম- ‘সমস্যাটার পুরোপুরি খুলে বলুন দেখি কিছু করতে পারি কিনা।’

তিনি মাথা নিচু করে বললেন- ‘আমার জামাতা বড়ই ভালো মানুষ। সবার সাথে ভালো ব্যবহারই করে। কিন্তু তার বাজে স্বভাব হচ্ছে সে সহজেই রেগে যায়। আর মানুষকে চড় মারে। তার এই চড় মারার স্বভাবের কারণে আমার মান-সম্মান শেষ অবস্থা। তার হাত থেকে এলাকার কেউই নিস্তার পায়নি। এখন তার এই বদ স্বভাবটা দূর করার কোন উপায় আছে কিনা থাকলে বল।’
আমি বললাম-‘বড়ই জটিল সমস্যা। সমস্যার মূল যেখানে সেখানেই নির্মূল করতে হবে। আপনার জামাতার সাথে আগে কথা বলি। তারপরে ভেবে দেখি কি করা যায়।’
বাবুল সাহেব অন্যমনস্ক হয়ে বললেন- ‘সোজা ছাদে উঠে যাও। সে এখন সেখানেই আছে। তাকে বেশি ঘাটাবে না। ঘাটাঘাটি তার পছন্দ না।’
আমি চুপচাপ সিড়ি বেয়ে ছাদে উঠে গেলাম। ছাদে উঠে আমি অবাক। সেখানে সে নেই, মোনালিসা একাকী দাড়িয়ে আছে। মোনালিসা বাবুল সাহেবের ছোট মেয়ে। আমার সাথে তার এত বেশি চেনাজানা নেই। আমি তাকে কিছু বলতে যাবো এর আগেই সে বলল- ‘ভাইয়া,আপনি ভীষণ বোকা। আপনাকে বাবা যা বলে তাই আপনি করেন। এতটা বোকা হবেন না।’
‘মানে?’
সে হেসে বলল- ‘আপনাকে বাবা দুলাভাইয়ের সাথে দেখা করতে বলেছে না? আমি সব জানি । দুলাভাই যে আমেরিকা চলে যাচ্ছেন আপুকে নিয়ে, সেই খবর জানেন?’
বললাম- ‘নাতো।’
শুনে সে আবারও হাসল- ‘ভাইয়া. আপনাকে যে আমি বোকা বলেছি সেটা কি ভুল বলেছি বলেন? আপনি আসলেই বোকা। দুলাভাই আমেরিকা যাচ্ছেন। এই খবর আপনি জানলে আপনি দুলাভাইয়ের সাথে দেখা করবেন না। এটা বাবা জানেন। বাবা চান আপনি দুলাভাইয়ের হাতে চড় খান। একশতম চড় ! কারণ দুলাভাই আমেরিকা চলে গেলে আর চড় মারার সেঞ্চুরী পূর্ণ করতে পারবেন না। আপনাকে চড় মেরে একশ পূর্ণ করে তারপরে তিনি আমেরিকা যাবেন।’
শুনে আমি আতংকিত বোধ করলাম। বললাম- ‘কিন্তু তোমার দুলাভাই আমাকেই চড় মারবেন কেন? আর তোমার বাবাই বা এমনটা করবেন কেন?’
মোনালিসা মুচকি হাসল। তারপর আমার মুখোমুখি দাড়িয়ে বলল-‘কারণ আপনি বাবাকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলে বেড়ান লোকের কাছে। বাবা সেটা জেনে মনে মনে আপনার উপরে খুব রাগ করে আছেন। কাল দুলাভাইকে বলেছেন কথাটা। দুলাভাই বলেছেন আপনাকে চড় মেরে সেঞ্চুরি র্পূণ করে এরপরেই তিনি আমেরিকা যাবেন। নিজেরও শখ পূর্ণ হবে, বাবারও ইচ্ছা র্পূণ হবে।’
আমি এক মূর্হূত ভাবলাম। মোনালিসা একটু ভুল বলেনি। প্রচুর লোকের কাছে বাবুল সাহেবের দোষক্রটি বলে বেড়িয়েছি। এসব ভুলে গেলাম কি করে? আশ্চর্য!

আমাকে ঠায় দাড়িয়ে থাকতে দেখে মোনালিসা ধাক্কা দিয়ে বলল- ‘এখানে দাড়িয়ে- দাড়িয়ে হাবাগোবার মত কি ভাবছেন? এক্ষুনি পালান। নয়তো বড় বিপদে পড়বেন। বাবা বলেছেন- গরীব হয়ে বড়লোককে নিয়ে আজেবাজে কথা বলে বেড়ানোর ভূত তিনি আপনার ঘাড় থেকে জম্মের মত নামিয়ে দেবেন। কিছু একটা হয়ে যাওয়ার আগেই পালান,এক্ষুনি।’ তার কথা শুনে আমার হুশ ফিরল। আমি দৌড়ে পালালাম। মেইনগেট খোলাই ছিল। দৌড়ে বের হতেই দারোয়ান বলল- আরে ভাই, এইভাবে দৌড়ায়া বাইর হইতাছেন ক্যান?’ আমি চারপাশ দেখে নিয়ে দ্বীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললাম- ‘সেটা তুমি বুঝবে না ভাই। আমি গরীব মানুষ, বড়লোকের ক্যাচালের মধ্যে গিয়ে পড়ছি। এখন না দৌড়ায়া উপায় আছে?’ সে কি বুঝল জানি না।আমার কথা শুনে সে দাড়িয়ে-দাড়িয়ে মাথা চুলকাতে লাগল।আমি তাকে ব্যাপক দ্বিধা-দ্বন্ধের মধ্যে রেখেই দ্রুতপায়ে হাটঁতে শুরু করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি চক্ষু ভূতের গল্প.....

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:০৪



ভূতের চোখ পেত্নির চোখ ওমা!
চোখের ভুতে ধরছে
এই তোমরা কী-জানো বাপু
কান্ডটা কে করছে?

একচোখা এক পেত্নির চোখে
রঙের ডিব্বা ঢেলে
রঙ আকাশে উড়ছে কে রে
রঙীন ডানা মেলে?

আবার দেখি রঙধনু চোখ
রঙ লেগেছে চোখে
এমনতরো পাগলামিতে
বলবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মসূত্রে সৌভাগ্য ও আল্লাহর দায়মুক্তি

লিখেছেন ফরিদ আহমদ চৌধুরী, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৭:৪৫



জন্মসূত্রে কেউ মানুষ, কেউ বড় লোক, কেউ মুসলমান, কেউ সুদর্শন, কেউ নিকৃষ্ট প্রাণী, কেউ গরিব, কেউ অমুসলিম, কেউ কূৎসিৎ, কেউ প্রতি বন্ধী, কেউ নারী, কেউ পুরুষ। সবার প্রাপ্তি সমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমার স্পর্শ উল্লাসে!

লিখেছেন হাবিব স্যার, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:০০


ছবি:গুগল থেকে....

তোমাকে নিয়ে লিখতে গিয়ে দেখি
চতুর্দশপদী কবিতারাও বেয়াড়া হয়ে যায়,
শব্দেরা আর অষ্টক-ষষ্টকে বাঁধা পড়তে চায় না।
অষ্টক ছাড়িয়ে যায় তার গন্ডি.....
ষষ্টকও মিশে যায় অষ্টকে!
চতুর্দশপদী কবিতা তখন খিলখিল করে হাসে,
আমিও হাসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরলা পঞ্চানুভব

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:০৪




একদিন শেষ হবে সকল ব্যস্ততা
মুছে যাবে গোধুলির রং
স্মরণের আঁধারে কেবলই স্মৃতিতে
চোখের জলেই খুঁজো বরং।


না সোনা, সীতা হয়োনাকো- পারবনা হতে রাম
পারবনা নিতে অগ্নি পরীক্ষা- অগ্নিসম
জ্বলবে আমারই বুক-তোমার অগ্নি... ...বাকিটুকু পড়ুন

দলবাজি, তৈলবাজিরে হ্যা বলুন !!! (দলবাজ, তৈলবাজ ব্লগারদের প্রতি উৎসর্গিত !)

লিখেছেন টারজান০০০০৭, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:০২



১। সাহেব ও মোসাহেব

---- কাজী নজরুল ইসলাম।


সাহেব কহেন, “চমৎকার! সে চমৎকার!”
মোসাহেব বলে, “চমৎকার সে হতেই হবে যে!
হুজুরের মতে অমত কার?”

সাহেব কহেন, “কী চমৎকার,
বলতেই দাও, আহা হা!”
মোসাহেব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×