somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

" সংবিধান থেকে একচুলও নড়া হবে না" - নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাস্তবতা। (আম জনতার সমসাময়িক ভাবনা - ১০ / ০১)

১৭ ই আগস্ট, ২০২৩ দুপুর ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি - usip.org

১৮ ই আগস্ট রোববার, সন ২০১৩ - আজ থেকে ১০ বছর আগে শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকার-পদ্ধতি সম্পর্কে বলেছিলেন (গণভবনে দেশি পাটের জীবন- রহস্য উন্মোচনের ঘোষণা দেওয়া উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে) "আমি সংবিধানে বিশ্বাস করি। যা হবে সংবিধান মোতাবেক হবে। তার থেকে একচুলও নড়া হবে না" এবং নির্বাচনকালে সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে কি না, এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, " এ ব্যাপারে সংবিধানে স্পষ্ট লেখা আছে। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংসদ থাকে" । তিনি আরো বলেন, " সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন।" ঠিক তেমনি ১০ বছর পরে ২০২৩ সালে এসেও সেই একই ঘোষনা দিয়ে যাচছেন তিনি এবং তার দলের নেতা-সুবিধাভোগীরা। তাদের মতে, ** সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী (যার মাধ্যমে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন পদ্ধতি উনি এবং উনার দলই বাতিল করেছেন) ** অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেনা। তাতে একচুলও নড়-চড় হবেনা" (তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো ১৯ আগস্ট ২০১৩) । (আহা কি আনন্দ :P আকাশে-বাতাসে)।

বাংলাদেশের সকল বিরোধী দলের নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে আন্দোলন এবং দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জনের কারনে বর্তমানে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে । ** যার প্রমাণ মিলে ভারত-আমেরিকা-চীন-রাশিয়া কিংবা ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সরকারদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এবং দেশ বিদেশের সংবাদপত্র ও এর সম্পাদকীয়তে।

চরমভাবে বিভক্ত দেশের রাজনীতি, ক্ষমতাশীন জোট বনাম বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এবং দেশ নিমজ্জিত গভীর রাজনৈতিক সংকটে (রাজনৈতিক সংকট রেখে নির্বাচন কীভাবে - Click This Link) । বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে বর্তমানে এতটা বিভক্ত যে দুজন মানুষও যে কোন বিষয়ে একমত হতে পারছেনা। কোনো দুজন নাগরিককে একটি বিষয়ে প্রশ্ন করলে সম্পূর্ণ ভিন্ন উত্তর পাওয়া যাবে। যদি আওয়ামী জোট কিংবা ক্ষমতাশীন দলের কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘"দেশ কেমন চলছে"? তিনি/তারা অবশ্যই উত্তর দেবেন, ‘"দেশ খুব ভালো চলছে। এ রকম মুক্ত গণতন্ত্র দেশে কখনো ছিল না। উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসছে এবং দেশে এগিয়ে চলেছে অর্থনীতির সব সূচক"।

তেমনি বিএনপি কিংবা সরকার বিরোধী কাউকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সম্পূর্ণ ভিন্ন উত্তর পাওয়া যাবে এবং তিনি/তারা অবশ্যই জবাব দেবেন,"দেশে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। প্রশাসনিক অনিয়ম-দুর্নীতি-অর্থ পাচার দেশ ও অর্থনীতিকে শেষ করে দিয়েছে। এই সরকার আর কিছুদিন ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে"। একের সাথে অন্যের সব বিষয়ে ও দেশের সর্বক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে এমন বিরোধীতা লক্ষ্য করা যাচছে। বিরোধীদল শুধু বিরোধীতার খাতিরে সরকারের সমালোচনা করেনা,যৌক্তিক কারনেও করে বা সরকার ও তার বিরোধীতার কারনের বিষয়ে একমত হতে না পারলেও একটা বিষয়ে সবাই একমত যে - বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন যে কোন দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন কখনোই সুষ্ঠু হয় না।

বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও, এ দেশে যে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের অধীন কখনো সুষ্ঠু হয় না এটি একটি চরম সত্য ও বাস্তবতা। বাংলাদেশ তথা সকল দেশের সংবিধান প্রণয়নে জন-আকাঙ্ক্ষা বা জনগণের চাওয়াকেই প্রাধান্য দেয়া হয় এবং গণতন্ত্র, শোষণমুক্ত সমাজ, আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, সাম্য ও সুবিচার নিশ্চিতের উদ্দেশ্যেই সংবিধান প্রণীত হয়ে থাকে। "বাংলাদেশের নির্বাচনে ক্ষমতাশীনরা বিশেষ সুবিধা ভোগ করে এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচন ও এর আয়োজন ব্যবস্থায় নানা রকম কারিগরী ফলিয়ে নির্বাচনী ফলাফলকে বদলে দেয়" - এ অভিযোগ সকল সময়ে সকল বিরোধীদলের - সরকারী দলের প্রতি। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশে এ যাবৎকাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে সাতটি নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত সাতটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটিতেই ক্ষমতাসীনরা বিজয়ী হয়েছে। নানা কারনে দলীয় সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ায় যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য চরিতার্থের মানসে দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার প্রয়াস নেয়া হয়েছিল তা বারবার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি পালা করে ৫২ বছর ধরে বাংলাদেশ শাসন করেছে এবং গত ১৫ বছর যাবত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। এর আগে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। তার আগে জাতীয় পার্টি। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা নির্বিচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশ চালাবে, সেটাই জনগণের প্রত্যাশা। কিন্তু প্রতিবারই মেয়াদ শেষে দেখা যায়, তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিপরীতেই কাজ করেছে। ফলে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতা গ্রহণের সময়ে তাদের যে জনপ্রিয়তা থাকে, ৫ বছর পর তাদের সেই জনপ্রিয়তাতে ভাটা পড়ে যায়। এ কারণেই ক্ষমতাসীন সব দলকে ভোটযুদ্ধে জেতার জন্য নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিতে দেখা যায়।

এসব কারনেই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাংবিধানিক কাঠামোয় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। নির্বাচনী ফলাফলকে গ্রহনযোগ্য করতে এবং সকল বিরোধীদলের আন্দোলন-দাবীর প্রেক্ষিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংবিধানে নিরপেক্ষ-নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন বেগম খালেদা জিয়া তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। এর পর এই নিরপেক্ষ-নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যতগুলো ( সপ্তম, অষ্টম এবং নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত হয় ) নির্বাচন হয়েছে এর সবগুলিরই দেশ-বিদেশে গ্রহনযোগ্যতা ছিল এবং জনগন নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। এখানে আরেকটি প্রধান লক্ষনীয় বিষয় হলো প্রতিবারই ক্ষমতাশীন দল নির্বাচনে হেরেছে এবং বিরোধী দল নির্বাচনে জিতেছে। । এবার আসুন দেখি , নিরপেক্ষ-নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কি ?


তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলো একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ এবং অরাজনৈতিক সরকার ব্যবস্থা। সাধারণত যেকোন প্রতিষ্ঠিত সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্ব পর্যন্ত বিদায়ী সরকারের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথা লক্ষণীয়। এ স্বল্পস্থায়ী সরকার শুধু দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে এবং রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকে, যাতে এ সরকারের কার্যাবলী নির্বাচনের ফলাফলে কোনোরূপ প্রভাব সৃষ্টি না করে। এ অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করার জন্য নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকে। সহজ কথায় - একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধানের পদত্যাগ ও বর্তমান সরকার ব্যবস্থা ভাঙার পর নতুন করে সরকার গঠন করতে যে সরকার ব্যবস্থা তৈরি হয় এবং একটি নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে নতুন সরকার ব্যবস্থা আনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের এবং সরকার ব্যবস্থাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলা হয়।


ছবি - উইকিপিডিয়া

বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রেক্ষাপট

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইতিহাস কিংবা বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পটভূমি শুরু হয় ১৯৮১ সাল থেকে। এরশাদ সরকারের শাসনামলে নিরপেক্ষ-স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য দেশের সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল একযোগে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অবতীর্ণ হয় ( ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত) এবং ৯ বছর পর ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর দীর্ঘ আন্দোলনের পর এরশাদ সরকারের পতন হয়। এরপর দেশের সকল রাজনৈতিক দলের দাবীর ভিত্তিতে সেই সময়ের প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে। শাহাবুদ্দিন আহমেদ এর অধীনে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয় লাভ করে এবং সরকার গঠন করে। তবে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা সামান্য ভোট চুরির কথা বলেন। তারপরও বিএনপি সরকার গঠন করে শপথ নেন।

বিএনপি সরকার গঠনের পরে থেকে বিভিন্ন দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান স্থায়ীভাবে সংবিধানে সংযোজন এর জন্য বা বিল পাস করার জন্য খালেদা জিয়া সরকারকে চাপ দিতে থাকে। ১৯৯৩ সালে সর্বপ্রথম জামায়াত এবং তারপর আওয়ামীলীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত দাবী পেশ করেন। কিন্তু বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী অগ্রাহ্য এবং এটিকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করে। তবুও ১৯৯৪ সালের ২৭ জুন জাতীয় সংসদে জামায়াত এবং আওয়ামী লীগ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করেন। সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই রূপরেখাকে অসাংবিধানিক এবং অবাস্তব বলে ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তখন বলেছিলেন, "একমাত্র পাগল ও শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ হতে পারে না"।

তারা (আওয়ামীলীগ-জামাত) তখন ওই রূপরেখায় এও বলেছিলেন যে, "তত্ত্বাবধায়ক সরকার মূলতঃ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠ এবং সামগ্রিকভাবে ক্ষমতাসীন সরকারের প্রভাব মুক্ত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর বিধান সংসদে পাস করা এবং সংবিধানে সংযোজন করা উচিত"। তখন এ বিষয়ে কমনওয়েলথের মহাসচিবের প্রতিনিধি স্যার নিনিয়ান, সরকার ও বিরোধী দল গুলোর মধ্যে সমঝোতা করার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয় এবং পরে দেশ-বিদেশের কুটনৈতিক সকল ধরনের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। এরপর শুরু হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের ধারাবাহিক আন্দোলন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দকলগুলোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলনের ধারাবাহিকতা-

তৎকালীন বিএনপি সরকার কে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ত্যাগ ও সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার স্থায়ীভাবে সংযোজনের দাবীতে ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯৪ থেকে শুরু করে প্রধান দুটি বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একযোগে বিভিন্ন আন্দোলন। দীর্ঘ দিনের নানা রকম আন্দোলন ও সংগ্রামের পর ৯ মার্চ সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অসহযোগ্য আন্দোলন চলতে থাকে বাংলাদেশে।

এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি, সরকার ও বিরোধী দল গুলোর সঙ্গে সংলাপের আহ্বান করেন,যার ফলে প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী নেত্রীর মধ্যে চিঠি বিনিময় হয়। পাঁচজন বুদ্ধিজীবীকে নিয়ে তারা সমঝোতার চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হয়। এরপর শুরু হয় সরকার বিরোধী তীব্র আন্দোলন যা একসময় সহিংস হয়ে উঠে এবং সরকারী কর্মচারীদের দ্বারা তৈরি করা হয় জনতার মঞ্চ এবং তারাও যুক্ত হন সরকার পতনের দাবিতে আন্দোলনে।

জনতার মঞ্চ

বিরোধী দলের তীব্র আন্দোলনের মাঝেই ১৯ মার্চ খালেদা জিয়ার সরকারের অধীনে ষষ্ঠ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। এরই মাঝে বিশৃংখল হয়ে ওঠে সারা দেশ। তারপর ২১শে মার্চ সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল উত্থাপন করা হয়। ২৩ শে মার্চ প্রেস ক্লাবের সামনে সচিবালয়ের কর্মকর্তারা চাকরির নিয়ম ভঙ্গ করে সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেয় "জনতার মঞ্চ" নাম দিয়ে। যার ফলে তৎকালীন বিএনপি সরকার প্রশাসন থেকেও নানা বাঁধার ও তীব্র আন্দোলনের সম্মুখীন হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ

অবশেষে ১৯৯৬ সালের ২৬ শে মার্চ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল সংসদে পাস হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ৩০ মার্চ রাষ্ট্রপতি ষষ্ঠ সংসদ ভেঙে দেন এবং প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি,সাবেক বিচারপতি হাবিবুর রহমান কে প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ দান করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক উদ্দেশ্য কি ছিল -

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় প্রশাসন নিশ্চিত করা। এটি নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন সরকারের কাছ থেকে সাময়িকভাবে দেশের শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং তারপর নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি প্রধান উপদেষ্টা (প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের অনুরূপ) নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়ে গঠিত হবে যিনি একটি উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান হবেন। বিভিন্ন সরকারি সেক্টরের অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে এই কাউন্সিল গঠিত হবে। এ ধারণাটি ছিল মূলতঃ ক্ষমতাশীন/বর্তমান সরকার যাতে তার অবস্থান ব্যবহার করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে তার পক্ষে প্রভাবিত করতে না পারে।

এই সরকারের মেয়াদ কাল ধরা হয় ৩ মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট হতে সর্বশেষ অবসর গ্রহনকারী প্রধান বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর সামরিক বাহিনী অর্থাৎ সেনা, নৌ, বিমান ও অন্যান্য বাহিনীর দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব থাকে রাষ্ট্র্রপতির হাতে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ অভিনব পদ্ধতি প্রথম প্রস্তাব করেন আশির দশকের জামায়াতের আমির গোলাম আযম। তবে বিএনপির নেতা নাজমুল হুদা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রস্তাবক হিসেবে দাবি করেন। আবার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্যোক্তা তারাই।

বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ২৬ শে মার্চ ,প্রায় ২৭ বছর আগে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন শাহাবুদ্দিন আহমেদ (১৯৯১) সালে এবং সর্বশেষ ফখরুদ্দিন আহমেদ (২০০৭) সালে। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশে ২০০৭ - ২০২৩ সালের মধ্যে কোন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হয়নি। ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে ২০১১ সালের ১০ই মে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট কিছু সুপারিশ সহ শর্তসাপেক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেয়। এছাড়াও বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামীলীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কে বাতিল করে দেয়। আর এসবের সুফলের ( সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল ও ক্ষমতাশীন দলের অধীনে নির্বাচন) কারনেই, বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনা টানা ৩ মেয়াদে তথা ১৫ বছর ক্ষমতায় এবং আজীবন তা চলতেই থাকবে যদিনা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন পদ্ধতি বাতিল না করা হয় এবং এর পর থেকে দেশে শুরু আবার শুরু হয় নির্বাচনী সংঘাতের।


ছবি - উইকিপিডিয়া

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম সুফল আওয়ামীলীগের বিজয় -

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় নীতির কারনেই এবং জনগনের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের ফলেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দ্বিতীয় প্রজন্মের তথা শেখ হাসিনার ১৯৯৬ - ২০০১ প্রথম মেয়াদের শাসনকাল ( প্রথম প্রজন্ম - শেখ মুজিবের শাসনকাল - ১৯৭১ - ১৯৭৫) শুরু হয়, নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার পরাজয়ের মাধ্যমে।


ছবি - উইকিপিডিয়া

পরের নির্বাচনও যথারীতি নিরপেক্ষ-নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয় এবং শেখ হাসিনার সরকার পরাজয় বরণ করে বেগম খালেদা জিয়া বিজয়ী হয়ে ২০০১ - ২০০৬ সালের সরকার গঠন করে।


ছবি - উইকিপিডিয়া

নানা ঘটনা- দূর্ঘটনায় পরের ২ বছর (২০০৭ - ২০০৮) বাংলাদেশকে অনির্বাচিত সরকার শাসন করে যার প্রধান ছিল ফখরুদ্দীন আহমদ (ফখরুদ্দীন আহমেদ হলেন একজন বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ, সাবেক সচিব এবং বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর। দেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ৯ ই জানুয়ারি ২০০৯ সাল নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন)।

যথারীতি নিরপেক্ষ-নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনের নির্বাচনে শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে পুনরায় বিপুল ভোটে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শাসনের দ্বিতীয় মেয়াদকাল (২০০৯-২০১৪) শুরু করেন। সেই তিনিই এবং তার এ শাসনামলেই ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে নিরপেক্ষ-নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চিরতরে বিলুপ্ত করেন। যার ফলে জনগনের ভোটাধিকার সংকুচিত হয়ে পড়ে, ভোট ও ভোটাধিকার নিয়ে আবারো দেশে তৈরী হয় রাজনৈতিক সংকট এবং খুলে যায় সীমাহীন মেয়াদের ক্ষমতার দ্বার ক্ষমতাশীন দল তথা আওয়ামীলীগের সামনে।

- তার ফলেই

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারিতে একটি বিরোধীদলবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে তৃতীয় মেয়াদকালের শাসন শুরু হয় শেখ হাসিনার (২০১৪-২০১৯) এবং তিনি তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হন। সেই নির্বাচনটি দেশের সকল বিরোধীদল কর্তৃক বর্জিত ছিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিল। সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় নির্বাচনটি নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

এবং তারই ধারাবাহিকতায়

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বিরোধী দলের সহিংসতাপূর্ণ ব্যাপক আন্দোলন ও সরকার কর্তৃক বিরোধীদলকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করে প্রশাসন কর্তৃক সাজানো একটি নির্বাচনে এবং দিনের ভোট আগের দিন রাতে করে আওয়ামী লীগ ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৮৮টি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করে এবং শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মত সরকার গঠন করেন। (Bangladesh Prime Minister Wins 3rd Term Amid Deadly Violence on Election Day,The New York Times - Dec. 30, 2018 - Click This Link ) শেখ হাসিনার চতুর্থ মেয়াদকালের শাসন শুরু হয় ২০১৯ সালে যা এখনো চলমান-বর্তমান আছে। এটি ছিল একাধারে তৃতীয়বারের জন্য শেখ হাসিনার শাসন মেয়াদকাল। বিরোধীদলীয় প্রধান নেতা কামাল হোসেন (জোট প্রধান) নির্বাচনকে "প্রহসনমূলক" বলে ঘোষণা করেন এবং ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন। নির্বাচনের পূর্বে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠন সরকারকে বিরোধীদলের বিরুদ্ধে আতঙ্কজনক পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয় নির্বাচনকে প্রহসনমূলক বলে বর্ণনা করে, সম্পাদকীয়তে বলা হয়," পরিস্থিতি এমন ছিল যে, ভোট কারচুপি ছাড়াই হয়তো হাসিনা জিতে যেতেন, তবে কেন তিনি এমন করলেন তা বোধগম্য নয়"?

এতসব কিছুর ধারাবাহিকতায় ৫ বছর পর আবারো ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কিংবা ২০২৪ এর জানুয়ারী মাসে বাংলাদেশে আয়োজন হতে যাচছে সংসদ নির্বাচন যেখানে আগের দুবারের মত একই রকম দৃশ্যের অবতারনা হতে দেখা যাচছে । যেখানে সংবিধানের দোহাই দিয়ে এবং সেই একই রকম ঘটনার পূণরাবৃত্তি ঘটিয়ে (গ্রেফতার-হামলা-মামলায় বিরোধীদলকে বিপর্যস্ত রেখে বিরোধীদল বিহীন ও প্রশাসনিক-দলীয় সরকারের সুবিধায় , Bangladesh Arrests Opposition Leaders as Crackdown Intensifies -The New York Times, Dec. 9, 2022 - Click This Link ) নির্বাচন আয়োজন করতে চাচছে আওয়ামীলীগ সরকার এবং নিশ্চিত করতে চাছে তাদের পঞ্চম মেয়াদের শাসনকাল । তবে সরকারের এ চাওয়ায় বাঁধ সেধেছে দেশের সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল সহ আমেরিকা-ইউ-জাতিসংঘ সহ সকল উন্নয়ন সহযোগী। তাদের সকলের চাওয়া সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে, প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত , ভর-ডর বিহীন পরিবেশে স্বাধীনভাবে জনগনের ভোটাধিকার প্রয়োগ তথা নিরপেক্ষ নির্বাচনের।

এখন আসুন আমরা দেখি, সংবিধান কি এবং ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগ যে সংবিধানের এবং সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর + আদালতের রায়ের দোহাই দিয়ে, একই ঘটনার পূণরাবৃত্তি বার বার করে, জনগণকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করে তাদের শাসনক্ষমতার মেয়াদকাল সীমাহীন করতে চাচছে - সেই সংবিধান কি এবং তাদের ঘোষনাকৃত একচুল না নড়া সংবিধানকে বিগত ৫২ বছরে কোন শাসক কত বার/ কত চুল (সংশোধন) নাড়িয়েছে ?

সংবিধান কি?

সংবিধান হলো রাষ্ট্রপরিচালনা সংক্রান্ত বিধি বা নিয়ম। এক কথায় বলতে গেলে - সংবিধান হলো কোন দেশের শাসনব্যবস্থার মূল গ্রন্থ যাতে, স্বায়ত্তশাসিত কোন রাজনৈতিক সত্তার কর্তব্য নির্ধারণের মৌলিক নিয়ম ও সূত্রসমূহ লিপিবদ্ধ থাকে। সংবিধানকে বলা হয় রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি। সংবিধান ছাড়া কোন রাষ্ট্রই ভালভাবে পরিচালিত হতে পারেনা।রাষ্ট্রের ক্ষমতা নির্ধারন এবং সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যের সম্পর্ক ও ক্ষমতার প্রয়োগের রুপরেখা সংবিধানে বিশদভাবে বলা থাকে। সহজ কথায়, সংবিধানে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ও এর প্রয়োগের কথাই বলা থাকে এবং সমাজে-জনগনের দাবী ও সময়ের প্রয়োজনে কোন অবস্থার পরিবর্তন হলে সংবিধান পরিবর্তনের দাবী উঠে এবং জনদাবীর উপর ভিত্তি করে এর পরিবর্তন ও সংশোধনও করা হয়-যায় সময়ে সময়ে।


ছবি - assignmentpoint.com

বাংলাদেশের সংবিধান

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন এবং এটি একটি লিখিত দলিল। ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এই সংবিধান গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ই ডিসেম্বর অর্থাৎ বাংলাদেশের বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকী হতে এটি কার্যকর হয়। এটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিদ্যমান তবে ইংরেজি ও বাংলা ভাষার মধ্যে অর্থগত বিরোধ দৃশ্যমান হলে বাংলা রূপ অনুসরণীয় হবে।

বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনী -

১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত (২০২৩) এটি'র ১৭টি সংশোধনী (সার্জারী/ পরিবর্তন) করা/আনা হয়েছে। এ সময়কালে বসা ১০টি সংসদের মধ্যে সপ্তম সংসদ বাদে প্রতিটি সংসদেই সংবিধান সংশোধন হয়েছে (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদকালের সপ্তম সংসদে সংবিধানের কোনও সংশোধন হয়নি), অপরদিকে প্রথম সংসদের মেয়াদকালে (শেখ মুজিবের শাসনামলে) সব থেকে বেশি ৪ বার সংবিধানে সংশোধনী আনা হয়েছে।

কিভাবে বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনী (সার্জারী/ পরিবর্তন) করা হয়ে থাকে -

কোন মানুষ যখন কোন রোগে আক্রান্ত হয় তখন সে ডাক্তার এর কাছে যায় । ডাক্তার প্রথমে ঔষধের সাহায্যে সেই রোগীর রোগ নিরাময় করতে চান এবং কোন কোন সময় ও কিছু রোগ আছে যেগুলি ঔষধে নিরাময়যোগ্য নয় ।তখন সেখানে ডাক্তার সার্জারী তথা অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন রোগীর জীবন বাঁচাতে । আর এ অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে এবং তাতেই রোগীর মংগল নিহিত থাকে। ঠিক তেমনি, সকল দেশেরই দেশ পরিচালনার জন্য একটি লিখিত সংবিধান আছে এবং দেশের পরিবর্তীত পরিস্থিতির কারনে সেই সংবিধানের একচুল নয় বরং কোন কোন সময় মূল কাঠামো ঠিক রেখে (কিছু বিষয় আছে যেগুলি পরিবর্তন যোগ্য নয়) অনেক কিছুরই সংশোধনী (সার্জারী/ পরিবর্তন) করা হয় জনগনের দাবীতে বাধ্য হয়ে কিংবা শাসকদলের আগ্রহে ।আর এসবই হয়ে থাকে সময়ের প্রয়োজনে ও পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে।

বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদ সদস্যদের মোট সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয় যা সংবিধানের **১৪২** নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। তবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭খ তে বলা আছে, "সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদে যাই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদের বিধানবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হবে"।(অর্থ্যাৎ-সংবিধানের মূল কাঠামো পরিবর্তন যোগ্য নয়,এ ছাড়া সব পরিবর্তন করা যায়/যাবে)। আর তাইতো ৫২ বছরে ১৭ বার অর্থ্যাৎ গড়ে প্রতি ৩ বছরে বাংলাদেশের সংবিধান ১ বার করে সংশোধনী (সার্জারী/ পরিবর্তন) করা হয়েছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৩৪ বছরে তাদের সংবিধান সংশোধন করেছে ২৭ বার। এবার আসুন দেখি বাংলাদেশের সংবিধানের সব সংশোধনী সমুহ কি ছিল এবং কে বা কারা তা করেছে।

এক নজরে বাংলাদেশের সংবিধানের সব সংশোধনী সমুহ -

প্রথম সংশোধনী - ১৫ জুলাই, ১৯৭৩

সংবিধানের প্রথম সংশোধনী বিল পাস হয় ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই। সংবিধানের প্রথম সংশোধনীটি ছিল যুদ্ধাপরাধীসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরে এই সংশোধনীর মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। ২৫৪-০ ভোটে বিলটি পাস হয়। তিনজন ভোটার ওই সময় ভোটদানে বিরত থাকেন। পরে এটি ১৯৭৩ সালের ১৭ জুলাই রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়। তখন দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান বা আওয়ামীলীগ।

দ্বিতীয় সংশোধনী - ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩

১৯৭৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী বিল পাস হয়। এতে সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদে (২৬, ৬৩, ৭২ ও ১৪২) সংশোধন আনা হয়। অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমণে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার বিধান চালু করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে ২৬৭-০ ভোটে তা পাস হয়। সংসদের তৎকালীন বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সাংসদরা বিলটি পাসের সময় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিলটি পাসের দুইদিনের মাথায় ২২ সেপ্টেম্বর এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়।তখনও দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান বা আওয়ামীলীগ।

তৃতীয় সংশোধনী - ২৩ নভেম্বর, ১৯৭৪

১৯৭৪ সালের ২৩ নভেম্বর সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনী আনা হয় ভারত ও বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণী একটি চুক্তি বাস্তবায়ন করার জন্য। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন এবং চুক্তি অনুযায়ী ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি বিনিময় বিধান প্রণয়ন করা হয়। আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর উত্থাপিত বিলটি ২৬১-৭ ভোটে পাস হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায় ১৯৭৪ সালের ২৭শে নভেম্বর। তখনও দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান বা আওয়ামীলীগ ।

চতুর্থ সংশোধনী - ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫

বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী নানা কারনে আলোচিত-সমালোচিত এবং এর ফলে দেশের রাজনীতি-শাসনব্যবস্থার গতিধারাই পালটে যায়। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হয়। দেশে সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন এবং বাকশাল গঠন এই সংশোধনীর মূল কথা। আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর সংশোধনীর বিষয়টি উত্থাপন করেন। বিলটি ২৯৪-০ ভোটে পাস হয়। তখনও দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান বা আওয়ামীলীগ।


ছবি - উইকিপিডিয়া

বিলটি পাসের সময় সরকারি দলের সদস্য এমএজি ওসমানী (মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, যিনি জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী নামে অধিক পরিচিত এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে '৭০-এর নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিলেট-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ভোটে বিজয়ী হয়ে ডাক, তার, টেলিযোগাযোগ, অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ, জাহাজ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একদলীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিরোধিতা করে ১ মে ১৯৭৪ সালে তিনি সংসদ সদস্য, মন্ত্রিত্ব এবং আওয়ামী লীগের সদস্যপদ ত্যাগ করেন)। এবং


ছবি - alchetron.com

ব্যারিস্টার মঈনুল ইসলাম (ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন একজন বাংলাদেশী আইনজীবী এবং তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।মইনুল হোসেন ১৯৭৩ সালে পিরোজপুর থেকে আওয়ামিলীগ এর মনোনয়ন নিয়ে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রচলন করলে তিনি তার পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন),সংসদ বর্জন করেন এবং বিলটি পাস হওয়ার দিনই ২৫ জানুয়ারিই তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়।(এ এক বিরল ঘটনা বাংলাদেশের জন্য, যেখানে সরকারী আইনের বিরুদ্ধে সরকারি দলের সদস্য সংসদ বর্জন করেন এবং আইন সংসদে উত্থাপন-আইন পাস এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন একই তারিখ বা একই দিনে অস্বাভাবিক দ্রুততার সাথে সব কিছু সম্পূর্ণ করা হয়)।

পঞ্চম সংশোধনী - ৬ এপ্রিল, ১৯৭৯

জাতীয় সংসদে এ সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। যার মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দানসহ সংবিধানে এর মাধ্যমে " বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহিম"সংযোজন করা হয়। সংসদ নেতা শাহ আজিজুর রহমান ‍উত্থাপিত বিলটি ২৪১-০ ভোটে পাস হয়। *** এ সংশোধনীটি উচ্চ আদালতের রায়ে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অবৈধ ঘোষিত হয়ে যায়।তখন দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন জিয়াউর রহমান বা বিএনপি।

ষষ্ঠ সংশোধনী - ৮ জুলাই, ১৯৮১

১৯৮১ সালের ৮ জুলাই এ সংশোধনী আনা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর উপরাষ্ট্রপতি আবদুর সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই সময়ে বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে তাদের প্রার্থী হিসেবে আবদুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয়। ষষ্ঠ সংশোধনীতে সেই পথটাই নিশ্চিত করা হয়। উপরাষ্ট্রপতি পদে বহাল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের বিধান নিশ্চিত করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। সংসদ নেতা শাহ আজিজুর রহমান উত্থাপিত বিলটি ২৫২-০ ভোটে পাস হয়। এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায় ওই বছরের ১০ জুলাই। কাগজে-কলমে দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন জিয়াউর রহমান যদিও তখন তিনি মৃত বা শাসন ক্ষমতায় বিএনপি।

সপ্তম সংশোধনী - ১১ নভেম্বর, ১৯৮৬

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে সামরিক শাসন বহাল ছিল। ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে এইচএম এরশাদের ওই সামরিক শাসনে বৈধতা দেওয়া হয়। ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত সামরিক আইন বলবৎ থাকাকালীন সময়ে প্রণীত সব ফরমান, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের আদেশ, নির্দেশ ও অধ্যাদেশসহ অন্যান্য আইন অনুমোদন দেওয়া হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। আইনমন্ত্রী বিচারপতি কে এম নুরুল ইসলাম উত্থাপিত সংবিধান সংশোধনী বিলটি ২২৩-০ ভোটে পাস হয়। ১১ নভেম্বরেই এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়। তখন দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বা জাতীয় পার্টি। *** এ সংশোধনীটিও ৫ম সংশোধনীর মতো ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট বাংলাদেশের উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করে।

অষ্টম সংশোধনী - ৭ জুন, ১৯৮৮

১৯৮৮ সালের ৭ জুন সংবিধানে অষ্টম সংশোধনী আনা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদে (২, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০) পরিবর্তন আনা হয়। রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতি প্রদান করা ও ঢাকার বাইরে ৬টি জেলায় হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করার বিধান চালু করা হয়। Dacca-এর নাম Dhaka এবং Bangali-এর নাম Bangladeshi-তে পরিবর্তন করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। সংসদ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ উত্থাপিত এ বিলটি ২৫৪-০ ভোটে পাস হয়। সংশোধনীটি দুইদিন পর ৯ জুন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়। তবে পরবর্তীতে ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের বেঞ্চ গঠনের বিষয়টি বাতিল করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।তখন দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বা জাতীয় পার্টি।

নবম সংশোধনী - ১০ জুলাই, ১৯৮৯

নবম সংশোধনী আনা হয় ১৯৮৯ সালের ১০ জুলাই। এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কিছু বিধান সংযোজন করা হয়। এ সংশোধনীর আগে রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি যতবার ইচ্ছা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচন করতে পারতেন। এ সংশোধনীর পর অবস্থার পরিবর্তন হয়। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের সঙ্গে একই সময়ে উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, রাষ্ট্রপতি পদে কোনও ব্যক্তির পর পর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন সীমাবদ্ধ রাখা হয়। উত্থাপনকারী সংসদ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। বিলটি ২৭২-০ ভোটে পাস হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায় ১১ জুলাই। দ্বাদশ সংশোধনীর পর এ সংশোধনীর কার্যকারিতা আর নেই।তখন দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বা জাতীয় পার্টি।

দশম সংশোধনী - ১২ জুন, ১৯৯০

এই বিলটি পাস হয় ১৯৯০ সালের ১২ জুন। রাষ্ট্রপতির কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে ১৮০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যাপারে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদের বাংলা ভাষ্য সংশোধন ও সংসদে মহিলাদের ৩০টি আসন আরও ১০ বছর কালের জন্য সংরক্ষণ করার বিধান করা হয়। আইনমন্ত্রী হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া উত্থাপিত বিলটি ২২৬-০ ভোটে পাস হয়। এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ১৯৯০ সালের ২৩শে জুন। তখন দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বা জাতীয় পার্টি।

একাদশ সংশোধনী - ৬ আগস্ট, ১৯৯১

গণঅভ্যুত্থানে এইচ এম এরশাদের পতনের পর বিচারপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে ১৯৯০ সালে ৬ আগস্ট এ সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগদান বৈধ ঘোষণা করা হয়। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যাবার বিধান পাস করানো হয় এই সংশোধনীতে। আইনমন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজ উত্থাপিত বিলটি ২৭৮-০ ভোটে পাস হয়। এ বিলটি সরকারি ও বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে পাস হয়। এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায় ১০ আগস্ট। তখন দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন শাহাবুদ্দিন আহমেদ (প্রধান উপদেষ্টা ও নির্দলীয়)

দ্বাদশ সংশোধনী - ৬ আগস্ট, ১৯৯১

১৯৯১ সালের ৬ আগস্টের এ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৭ বছর পর দেশে পুনরায় সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং উপরাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়। সংশোধনীটি উত্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ৩০৭-০ ভোটে বিলটি পাস হয়। একাদশের মত এ বিলটিও সরকারি ও বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে পাস হয়। এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায় ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর।তখন দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া তথা বিএনপি।

ত্রয়োদশ সংশোধনী - ২৭ মার্চ, ১৯৯৬

১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী জমির উদ্দিন সরকার এই সংশোধনীটি উত্থাপন করেন। এটি ২৬৮-০ ভোটে পাস হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায় ২৮ মার্চ। তখন দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া তথা বিএনপি।**** উচ্চ আদালতের আদেশে ২০১১ সালে এই সংশোধনীটিও বাতিল হয়।

চতুর্দশ সংশোধনী - ১৬ মে, ২০০৪

২০০৪ সালের ১৬ মে এ সংশোধনী আনা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০ থেকে ৪৫টি করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি এবং সরকারি ও আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি বা ছবি প্রদর্শনের বিধান করা হয়। আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমেদ উত্থাপিত বিলটি ২২৬-১ ভোটে এটি পাস হয়। এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায় ১৭ মে। তখন দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া তথা বিএনপি।

পঞ্চদশ সংশোধনী - ৩০ জুন, ২০১১

সংবিধান সংশোধনী আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) পাস হয় ২০১১ সালের ৩০শে জুন এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৩রা জুলাই।পঞ্চদশ সংশোধনী নানা কারনে দেশ-বিদেশে বহুল আলোচিত এবং বর্তমানে দেশের রাজনীতি - নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশের ও বিরোধীদের যে সমস্যা অভিযোগ তাহার শুরু এ সংশোধনীর মাধ্যমেই হয়েছে বলে মনে করা হয়। নানা কারনে এবং নির্বাচন নিয়ে সরকারীদলের নানা রকম কার্যকলাপের কারনে আমাদের দেশে নির্বাচন নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ সকল সরকারের সময়েই ছিল এবং বর্তমান ক্ষমতাশীন দলের দাবীর প্রেক্ষিতে দেশের সকল রাজনৈতিক দল মিলেই ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে খালেদা জিয়া দেশে চালু করেছিলেন নির্বাচনকালীন সরকারের তথা নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার যা আওয়ামীলীগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করে দেন।

আওয়ামীলীগ তথা শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনকালে (শেখ হাসিনার প্রথম শাসনের মেয়াদকাল ১৯৯৬-২০০১) পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতিও দেওয়া হয়। এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়। এই সংশোধনীর বিষয়টি উত্থাপন করেন সেই সময়ের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। বিরোধী দল বিএনপির বর্জনের মধ্যে ২৯১-১ ভোটে বিলটি পাস হয়।তখন দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন শেখ হাসিনা তথা আওয়ামীলীগ।

ষোড়শ সংশোধনী - ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরে এই সংশোধনী আনা হয়। ৭২ এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বিধান পাস করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। এটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩২৭-০ জনের ভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয় বিলটি। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি বিলটির পক্ষে ভোট দেয়। পরে হাইকোর্ট বিভাগ একে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। আপিল বিভাগও ওই রায় বহাল রাখে। তবে, বর্তমানে এই রায়টি রিভিউ পর্যায়ে রয়েছে।তখন দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন শেখ হাসিনা তথা আওয়ামীলীগ।


সপ্তদশ সংশোধনী - ৮ জুলাই, ২০১৮

৮ জুলাই ২০১৮ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিধি আরও ২৫ বছর বহাল রাখার প্রস্তাব সম্বলিত সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। সংসদের ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৯৮-০ ভোটে বিলটি পাস হয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ২৯ জুলাই ২০১৮ এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায় এবং তখনও দেশের শাসক হিসাবে ছিলেন শেখ হাসিনা তথা আওয়ামীলীগ।

এখন আসুন দেখি ১৭ বার সংবিধানের সংশোধনী তথা ১৭ চুল নাড়ানো কিংবা ১৭ বার সংবিধানের (সার্জারী/ পরিবর্তন) কোন ডাক্তার (সরকার) কতবার করেছেন তথা কোন দল-সরকারের মাধ্যমে কত বার সংঘটিত হয়েছে।

১। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ (শেখ মুজিবের শাসনামল) - ৪ বার।
২। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (জিয়াউর রহমানের শাসনামল) - ২ বার, (কাগজে কলমে ১ বার তার শাসনামলে হয়েছে যদিও তিনি তখন মৃত)।
৩। জাতীয় পার্টি ( হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ) - ৪ বার।
৪। নির্দলীয় প্রধান উপদেষ্টা (শাহাবুদ্দিন আহমেদ) - ১ বার।
৫। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল) - ৩ বার ।
৬। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ (শেখ হাসিনার শাসনামল) - ৩ বার।

যদি দলগত ভাবে দেখা যায় তাহলে ১৭ বারের সংবিধানের সংশোধনী তথা ১৭ চুল নাড়ানো কিংবা ১৭ বার (সার্জারী/ পরিবর্তন) সবচেয়ে বেশী করেছেন -

১। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ (শেখ মুজিবুর রহমান ৪ + শেখ হাসিনা ৩) = ৭ বার।
২। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( জিয়াউর রহমান ১/২ + বেগম খালেদা জিয়া ৩ ) = ৪/৫ বার।
৩। জাতীয় পার্টি ( হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ) - ৪ বার।
৪। নির্দলীয় প্রধান উপদেষ্টা (শাহাবুদ্দিন আহমেদ) - ১ বার।

তাহলে দেখা যাচছে দলগতভাবে বাংলাদেশের সংবিধানের সর্বোচ্চ সংশোধনী ( ৭ বার হয়েছে) আওয়ামীলীগের আমলে এবং তাদের শাসনামলের করা দুটি সংশোধনীকে দেখা হয় ইতিহাসের বাক নির্ধারনী হিসাবে এবং অধিকাংশ জনমতের বিরুদ্ধে ( ১। চতুর্থ সংশোধনী - দেশে বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন এবং বাকশাল গঠন । ২। পঞ্চদশ সংশোধনী - নির্বাচনকালীন সরকারের তথা নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বাতিল) এবং বিএনপির শাসনামলের ৪/৫ বারের সংশোধনীর মাঝে সবচেয়ে পজেটিভ ও জন আকাংখিত সংশোধনী হয়েছে (ত্রয়োদশ সংশোধনী - অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন) বেগম খালেদা জিয়ার আমলে। আমরা আমজনতা সবাই তাই বিশ্বাস করি ও করতে চাই দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক শাসকের আমলের এসব সংশোধনী করা হয়েছে দেশ-জাতির কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং সময়ের প্রয়োজনেই। এখন যখন সময়ের প্রয়োজনে এবং দেশের বেশীরভাগ মানুষের চাওয়া নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান পুনর্বহাল,আর তাই প্রয়োজনে আরও ১ বার সংবিধানের সংশোধনী করতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সেখানে সংবিধানের দোহাই দিয়ে এবং তার থেকে ১ চুলও না নড়ার ঘোষনা দিয়ে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামীলীগ কি দ্বিমুখীতা নীতি গ্রহন করছেনা তথা সত্যকে এড়ানোর প্রচেষ্টা করছেনা? বা তাদের দ্বারা পূর্বের ৭ বারের সংবিধানের সংশোধনীকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচছেনা?

কারন - দেশের মানুষ এ কথাই বিশ্বাস করে , সংবিধান রচনা ও প্রয়োগ করা থেকে এ পর্যন্ত যে ১৭ বার সংবিধানের সংশোধনী করা হয়েছে তা সময়ের প্রয়োজনে ও জনগনের চাওয়া উপলক্ষেই করা হয়েছে (যদিও কিছু কিছু জায়গায় শাসকের চাওয়াই মূখ্য ছিল )। তাহলে যেখানে এ পর্যন্ত ১৭ বার এর সংশোধন করা হয়েছে, সেখানে আরও ১ বার তার সংশোধন করতে সমস্যা কোথায়?

আগামী পর্বে সমাপ্য -

জবাব দিহীতা -

১। বিগত ১ যুগের অধিক সময় ধরে দেশে যে কথা সবচেয়ে বেশী উচচারিত হচছে তা হলো," যা হবে সংবিধান অনুযায়ী হবে এবং সংবিধান থেকে একচুলও না নড়া"। যে সংবিধান এবং সংবিধান থেকে একচুলও না নড়া নিয়ে তথা দেশের নির্বাচন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের চাপান-উতোর/সমস্যা (সংঘাত-দ্বন্দ্ব) চলছে ১৫ বছর ধরে , সেই সমস্যার প্রকৃত কারন-গতি প্রকৃতি ও খোজার চেষ্টাই ছিল মূখ্য এবং এ সমস্যা থেকে সমাধানের উপায়ই বা কিছু আছে কিংবা নেই সেই ব্যাপারেও আলোকপাত করার আশায়ই এ লেখা। আলোচ্য বিষয়ের ব্যাপকতা ও তথ্যের বিশালতার মাঝেও চেষ্টা করেছি এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ভাবে ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সঠিক ইতিহাস-তথ্য তুলে ধরতে। তারপরেও লেখার মাঝে যদি তথ্যের কোন ভূল-ত্রুটি পরিলক্ষিত হয় তাহলে দল-মত নির্বিশেষে বললে অবশ্যই পরিবর্তন করে দিব। তবে সেই তথ্য অবশ্যই সঠিক ও নিরপেক্ষ বাঞ্চনীয়।

২। সরকারীদলের দাবী অনুসারে সংবিধানকে একচুল নাড়ানোর কোন সুযোগ নেই। সংবিধানকে কেন একচুল নাড়ানো সম্ভব নয় ? এ প্রশ্ন প্রতিনিয়ত মনে ঘুরপাক খাচছে, (সংবিধান কি ঐশী বাণী তথা আসমানী কিতাব , যে এ কখনো পরিবর্তনযোগ্য নয় ? ) কিংবা আদৌ কি অতীতে কখনো এর পরিবর্তন করা হয়নি? অতীতে যদি পরিবর্তন হয়েই থাকে তাহলে কারা কি জন্য সেসব পরিবর্তন করেছে এবং এখন কেন আর পরিবর্তন করা যাবেনা? এসব প্রশ্নের জবাব খোঁজার চেষ্টাতেই এ লেখা।

৩। দেশ-বিদেশের রথী-মহারথী (সুশীল সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল)'রা এ নিয়ে নানা রকম দৌড়-ঝাপ, আলাপ-আলোচনা চালাচছে এবং আমাদের দেশের সরকার ও বিরোধীদল তাদের নিজ নিজ দৃষ্টিভংগী ও স্বার্থ থেকে সেই সব ঘটনার ব্যাখ্যা করে চলছে । আর সবার সাথে সাথে আমজনতাও দেশের রাজনৈতিক এ অস্থিরতায় আতংকে আছে এবং সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সব এলাকাতেই এর প্রভাব সহ ঘটনার পক্ষে-বিপক্ষে যেসব আলোচনা - সমালোচনা হচছে তার প্রেক্ষাপটেই এই লেখা। এখানে সরকারের নীতির সমালোচনা করা বা সরকারের বিরোধীতাকারীদেরকে ভাল বলার বিষয় নয়। আমার পুরো লেখাতেই চেষ্টা ছিল সমস্যার কারন ও সমাধানের পথ খোঁজার। আর তাই, পাঠককে এর সাথে রাজনীতির দূরতম কোন সম্পর্কও না খোঁজার বিনীত অনুরোধ রইলো

৪। নীচে উল্লিখিত তথ্যসূত্র ছাড়াও আরও অনেক জায়গা থেকেই তথ্য+সহায়তা নেয়া হয়েছে। তবে বিশালতার কারনে সব কিছু উল্লেখ করা হয়নি।এর বাইরে যদি কারো লেখার সাথে মিল খুজে পান তাহলে তা উল্লেখ না করার ব্যাপারে ক্ষমার দৃষ্টি কামনা করছি।


======
তথ্যসূত্র

১। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান - http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-957.html
২।। সংবিধান থেকে একচুলও নড়া হবে না - প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দৈনিক প্রথম আলো - ১৯ আগস্ট ২০১৩, লিংক -
https://www.prothomalo.com/bangladesh/
৩। তত্ত্বাবধায়ক সরকার - https://bn.banglapedia.org/index.php/
৪। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি এবং বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পটভূমি - Click This Link
৫। বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনীসমূহ বা স্বাধীনতার ৫২ বছর বিভিন্ন কারণে দেশের সংবিধান ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে - https://www.bbc.com/bengali/news-56008776
৬। wikipedia

সম্পাদকীয়

** ১। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রাণের চুম্বন দিতে পারে ওয়াশিংটন, ৪ আগস্ট ২০২৩, - Click This Link
** ২। Bangladesh on razor’s edge: Why India must wake up to the looming economic crisis and political instability to its east -The Indian Express,Sunday, Dec 11, 2022, - লিংক - Click This Link
** ৩। রেজরের প্রান্তসীমায় বাংলাদেশ - মানব জমিন,১০ ডিসেম্বর ২০২২, শনিবার, লিংক - Click This Link )
**৪। ইইউ প্রতিনিধির স্বর এবং বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রকল্প দৈনিক ইত্তেফাক,১৩ জুলাই ২০২৩,- https://www.ittefaq.com.bd/651625/
** ৫। India’s One Basket Diplomacy - India risks putting all its eggs in one basket with its close ties with Bangladesh Premier Sheikh Hasina,The Diplomat - May 27, 2011- লিংক -
Click This Link
** ৬। India is putting all its eggs in the Sheikh Hasina basket. Why it’s a win-win situation - The Print -Jyoti Malhotra, 01August 2023 , লিংক - Click This Link

পূর্ববর্তী পোস্ট -
===============

৯।"হিরো আলম কার প্রতিদ্বন্দ্বী " - Click This Link
৮। সেন্টমার্টিন দ্বীপ লিজ কিংবা বিক্রি - সত্যিটা কি ? - Click This Link
৭।আমেরিকার ভিসা নীতি বনাম বাংলাদেশের ভিসা নীতি-এর পর কি হবে?-
Click This Link
৬। আমার সোনার বাংলা কি কোটিপতি ও খেলাপি ঋণ তৈরীর কারখানা ? - Click This Link
৫। " রংপুর সিটি কর্পোরশন নির্বাচন - লাঙলের জয় ও নৌকা চতুর্থ " - কি বার্তা দেয় আমাদের? - Click This Link
৪। " বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন " - তুমি কার ? -
Click This Link
৩। সামাজিক রীতি-নীতি-শিষ্ঠাচার এখন যাদুঘরে - আপনি কি একমত ? -
Click This Link
২। বর্তমান সময়ে আমরা কি একটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও দৃষ্টিশক্তি হীন জাতি বা প্রজন্মে পরিণত হচছি বা হতে যাচছি? -
Click This Link
১। আমাদের সমাজের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি ভেঙে পড়ছে ? -
Click This Link


সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:৫১
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন তার আকাশের বলাকা || নিজের গলায় পুরোনো গান || সেই সাথে শায়মা আপুর আবদারে এ-আই আপুর কণ্ঠেও গানটি শুনতে পাবেন :)

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৬ ই জুন, ২০২৪ রাত ১০:০০

ব্লগার নিবর্হণ নির্ঘোষ একটা অসাধারণ গল্প লিখেছিলেন - সোনাবীজের গান এবং একটি অকেজো ম্যান্ডোলিন - এই শিরোনামে। গল্পে তিনি আমার 'মন তার আকাশের বলাকা' গানটির কথা উল্লেখ করেছেন। এবং এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাইকা লেন্সে তোলা ক’টি ছবি

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই জুন, ২০২৪ সকাল ১১:৩০




ঢাকার বিমানবন্দর রেল স্টেশনে ট্রেন ঢোকার সময়, ক্রসিংয়ে তোলা। ফ্ল্যাস ছাড়া তোলায় ছবিটি ঠিক স্থির আসেনি। ব্লার আছে। অবশ্য এরও একরকম আবেদন আছে।




এটাও রেল ক্রসিংয়ে তোলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কার গল্প জানেন ও শুনতে চান?

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৭ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৫:৩১



গতকাল সন্ধ্যায়, আমরা কিছু বাংগালী ঈদের বিকালে একসাথে বসে গল্পগুজব করছিলাম, সাথে খাওয়াদাওয়া চলছিলো; শুরুতে আলোচনা চলছিলো বাইডেন ও ট্রাম্পের পোল পজিশন নিয়ে ও ডিবেইট নিয়ে; আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবাকে আমার পড়ে মনে!!!

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৭ ই জুন, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫২

বাবাকে আমার পড়ে মনে
ঈদের রাতে ঈদের দিনে
কেনা কাটায় চলার পথে
ঈদগাহে প্রার্থনায় ..
বাবা হীন পৃথিবী আমার
নিষ্ঠুর যে লাগে প্রাণে।
কেন চলে গেলো বাবা
কোথায় যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×