somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফিল্ম রিভিউঃ দাছভি ছবি দেখলাম (অভিষেক বচ্চনের)

০৫ ই মে, ২০২২ দুপুর ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




“মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়” - মুনির চৌধুরী (রক্তাক্ত প্রান্তর)

বদলে যাওয়া এই মহাবিশ্বেরই নিয়ম। সময়ের ফেরে আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষ মারা যায় এবং তার জায়গায় নতুন কোষ আসে। এক গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের দেহের ১০ কোটি কোষ প্রতিদিন মারা যায়/প্রতিস্থাপিত হয়/পরিবর্তিত হয়।
আমরা মানুষেরা সময়, সুবিধা, অবস্থান অনুযায়ী নিজেদের উৎসাহী/হতাশ কিংবা গর্বিত/পতিত অবস্থায় আবিস্কার করি। যে আজকে ফকির সে মনের জোর না থাকলে এটাই তার শেষ দশা হিসাবে মনে করে আর আজকে যে বিত্তশালী সে ভাবে এটাই তার আসল জায়গা।

মুখ্যমন্ত্রী গঙ্গারাম চৌধুরি এবং তাঁর স্ত্রী বিমলা দেবিকে নিয়ে সিনেমার গল্প শুরু হয়। একজন পলিটিক্যাল লিডার আসলে ভন্ডামির মধ্য দিয়ে যেতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন যা ছবিতে মুখ্যমন্ত্রীর ইনট্রোতে আপনি দেখতে পাবেন। কিন্তু মন বসাতে না বসাতেই আপনি দেখবেন কোর্টে হাজির হতে হচ্ছে আমাদের হিরো চৌধুরী সাহেব'কে। চারিদিকে লোক সমাগম সবাই চৌধুরী সাহেব'র পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে, উনাকে ভরসা দিচ্ছে। আর তিনিও মিডিয়ায় বীরদর্পে বলে চলছেন যে কোর্টের ওপর আমার আস্থা আছে আমি স্বচ্ছ ছিলাম, আছি, থাকবো।
দুঃখের বিষয় হইতেছে যে, এই জজ হিরো চৌধুরী সাহেবকে একেবারে জেলে পাঠিয়ে দিলেন।
জেলে যাবার পথে শত শত লোক তার সাথে এগিয়ে এলো। জেলগেটে যাবার পরে অবশ্য আসল খেলা শুরু হইয়া গেল। গেট থেকে বাকি জায়গায় কেহই সংগী হতে পারে না।
আমাদের নায়ক মুখ্যমন্ত্রী চৌধুরী সাহেব নিজেকে বাঘ মনে করেন। সময় সুযোগ পেলেই তিনি বলে বসেন"Tiger never changes his stripes"। আর দশটা পলিটিসিয়ানের মত তিনিও মনে করেন আমাদের এজুকেশনের দরকার নাই, দরকার পয়সার। শিক্ষা/এজুকেশন নিয়ে মোটেও কনসার্ন নেই। কিন্তু আইনের গ্যাড়াকলে পড়ে তাকে জেলের সেলে জীবন কাটাতেই হয়।
জেইলের সুপার-ইনটেনডেন্ট হিসাবে চইলা আসেন এক স্মার্ট তরুণী মহিলা যাকে চৌধুরি সাহেবে'র নির্দেশেই এই জেইলে দ্বায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়। যদিও জেলের পরিচালক সরকারী খাস গোলাম এবং সো কলড কর্মকর্তা যিনি তেল মাজতে খুবই পছন্দ করেন। এই জেইল পরিচালক সময় সুযোগ অনুযায়ী নিজেকে বদলান একদম মুনির চৌধুরী সাহেব'র লেখা উক্তিটার মতই।
সিনেমার গল্পটা খুবই চমকপ্রদ। চৌধুরি সাহেবের জীবনে পড়ালেখা বলতে তেমন কিচ্ছু ছিল না, শুধু ছিল রাজনীতিতে অগ্রযাত্রা। জেইলে গিয়ে বাসন মাজা কিংবা কাঠ দিয়ে কাজ করাতে তাকে বাধ্য করা হয়। এইসবের মাঝে তিনি দেখতে পান কিছু লোক লাইব্রেরিতে যাওয়া আসা করছে কোন কাজ করছে না।
মাথায় এল বুদ্ধি, কিভাবে কি করা যায়? দাছভি(মেট্রিক) পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করার বুদ্ধি এলো মাথায়। শুরু হলো গল্পের গভীরে যাওয়া। চৌধুরী সাহেব সান্নিধ্যে এলেন জেলখাটা বেশ কয়েক জন আসামীর। যাক আর বেশি বললে স্পয়লার হয়ে যাবে। বরং নেটফ্লিক্সে গিয়ে দেখে ফেলুন অভিষেক বচ্চনের এই ছবি।

সমালোচনা/ডিসেপয়েন্টমেন্টঃ
অমিতাভ আর অভিষেক নিয়ে বিস্তর আলাপ আমরা শুনিয়াছি। ঘুর্নাক্ষরেও বলা চলে না এই ছবি অভিষেক'র একটা মাস্টারপিস। বরং ধুম ছবিতে যেই অভিষেক আমরা দেখি ঐখানেও সে ঢের ভাল করেছে। তবে দাছভি ছবিতে তাঁর পোর্ট্রেইট মন্দ হয়নি মোটেও। সাইড এক্টিং খুব ভাল হয়েছে বিশেষ করে সুপারিনটেনডেন্ট তরুণি জয়তী দেছওয়ালের অভিনয় অভিষেক'কেই ছাপিয়ে গেছে।

শেষকথাঃ
দেখে ফেলুন, সময়টা বিফলে যাবে না। অন্তত আমার মত প্রশংসা বিমুখ মানুষ যদি বলি যে দেখা যায় তাহলে অন্য সকলের জন্য সম্ভবত দেখা উচিত মেসেজ হয়। এমনিতে কি আর রিভিউ লিখার দরকার আছে? হেঃ হেঃ
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০২২ দুপুর ২:২৫
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে কি ইনফ্লেশান শুরু হয়েছে?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:০৩



আমি দেশ থেকে দুরে আছি, দেশের কি অবস্হা, ইনফ্লেশান কি শুরু হয়েছে? কোভিড ও ইউক্রেন যুদ্ধ মিলে ইউরোপ, আমেরিকাকে ভয়ংকর ইনফ্লেশানের মাঝে ঠেলে দিয়েছে; বাংলাদেশে ইহা এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছদ্মবেশী রম্য!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৩৪



আমার ফেসবুকে একটা নামমাত্র একাউন্ট আছে। সেখানে যাওয়া হয় না বলতে গেলে। তবে ইউটিউবে সময় পেলেই ঢু মারি, বিভিন্ন রকমের ভিডিও দেখি। ভিডিওগুলোর মন্তব্যে নজর বুলানো আমার একটা অভ্যাস। সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঘোওওল....মাখন.....মাঠায়ায়ায়া.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৪৬

ঘোওওল....মাখন.....মাঠায়ায়ায়া.....

আমার ছোট বেলায় আমাদের এলাকায় ২/৩ জন লোক বয়সে প্রায় বৃদ্ধ, ঘোল-মাখন বিক্রি করতেন ফেরি করে। তাঁদের পরনে থাকত ময়লা ধুতি মালকোঁচা দেওয়া কিম্বা ময়লা সাদা লুংগী পড়া। খালি পা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাঠের আলোচনায় ব্লগারদের বই!

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ বিকাল ৫:২৬

আমার আত্মজরা আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাঝে যে বৈশিষ্ট্য নিয়ে মাঝেমাঝে হতাশা প্রকাশ করে! সেটা হচ্ছে আমার খুব অল্পে তুষ্ট হয়ে যাওয়া ( আলাদা ভাবে উল্লেখ করেছে অবশ্যই তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'সহবাসের জন্য আবেদন'...

লিখেছেন নান্দনিক নন্দিনী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ রাত ১০:১৯



রোকেয়া হলে আবাসিক ছাত্রী হিসেবে দীর্ঘ ৭বছর কেটেছে। হলের নানা গল্পের একটা আজ বলি। হলের প্রতিটি কক্ষে ৪টা বেড থাকলেও থাকতে হতো ৫জনকে। মানে রুমের সব থেকে জুনিয়র দুইজনকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×