| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হুমায়রা হারুন
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।
২৬শে অক্টোবর, ২০২৫ রূপোপজীবিনী
পাঠক মন্তব্যঃ নারীর শারিরীক গঠন বলে দেয় সে পুরুষ আকৃষ্ট করার জন্য তৈরী থাকে, বা যাদের এই গুন নাই ,তাহারা কৃত্রিম সাজ সজ্জা করে পুরুষকে আকৃষ্ট করার খেলায় নামে ।
প্রকৃত অর্থে, সব নারী যেমন এই পথে হাঁটেনা ।তেমনি বহু পুরুষ নারীর এই কার্যক্রম পসন্দ করেনা ।
যে নারী নৈতিক ভাবে পথভ্রষ্ট হয়েছে সমাজ তাকে পতিতা বলে কি ন্ত যে নারী শুধূ তার স্বামীর অধি কার সমূহ রক্ষা করে না তাকে আমরা কি বলব ???
*******
লেখকঃ 'যে নারী নৈতিক ভাবে পথভ্রষ্ট হয়েছে সমাজ তাকে পতিতা বলে কিন্তু যে নারী শুধু তার স্বামীর অধিকার সমূহ রক্ষা করে না তাকে আমরা কি বলব ???'
-- অবাধ্য নারী বলা যায়। কারণ বাধ্য নারীর প্রতিশব্দ পতিব্রতা। কিন্তু অবাধ্য নারীর প্রতিশব্দ পাচ্ছি না ভেবে।
******
১৩ই নভেম্বর ২০২৫ সৃষ্টি চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা - দ্বিতীয় স্তর
লেখকঃ মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানবজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
*******
১৩ই নভেম্বর ২০২৫, সৃষ্টি চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা - প্রথম স্তর
লেখকঃ সৃষ্টি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়; বরং এক নিরবচ্ছিন্ন রূপান্তর। পূর্বদেশীয় দর্শনে এই রূপান্তরকে দেখা হয় চক্রাকার প্রক্রিয়া হিসেবে—যেখানে সৃষ্টি ও বিলয় একই ধারার অংশ।
অন্যদিকে, পাশ্চাত্য দর্শন এটিকে দেখে প্রগতিশীল বিবর্তনের ধারা হিসেবে—যেখানে পরিবর্তন নতুন রূপ, নতুন সম্ভাবনা ও অগ্রগতির সূচনা করে। এই চিন্তার ভিত্তিতে আমি একটি পোস্ট দেব।
******
Drunvalo Melchizedek (Ascended Master) এর বইটা যদি ব্লগে তুলে ধরতে পারতাম খুব ভাল হতো। যদি সম্ভব হয় চেষ্টা করবো।
****
২২ শে নভেম্বর ২০২৫ সৃষ্টি চেতনা ও আত্মার নিরন্তর যাত্রা - চতুর্থ স্তর
তৃতীয় স্তর পর্যন্ত এমন অনুভূত হবে। চতুর্থ স্তরে উন্নীত হলে কোন তফাত থাকবে না। এ স্তরে জ্ঞান আর বুদ্ধির লড়াই শেষ। আত্মা এমন ভারসাম্য অর্জন করে যা, না আবেগপ্রবণ, না কঠোর যুক্তিবাদী। বরং মাপা, শান্ত, গভীর। এই স্তরে এসে মানুষ আধ্যাত্মিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে যায়। তাদের মন স্ফটিকের মতো স্বচ্ছতা ধারণ করে।
******
২২ শে নভেম্বর ২০২৫ সৃষ্টি চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা - চতুর্থ স্তর
লেখকঃ তৃতীয় স্তর পর্যন্ত এমন অনুভূত হবে। চতুর্থ স্তরে উন্নীত হলে কোন তফাত থাকবে না। এ স্তরে জ্ঞান আর বুদ্ধির লড়াই শেষ। আত্মা এমন ভারসাম্য অর্জন করে যা, না আবেগপ্রবণ, না কঠোর যুক্তিবাদী। বরং মাপা, শান্ত, গভীর। এই স্তরে এসে মানুষ আধ্যাত্মিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে যায়। তাদের মন স্ফটিকের মতো স্বচ্ছতা ধারণ করে।
*****
২৩শে নভেম্বর ২০২৫ সৃষ্টি চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা - চতুর্থ স্তর
পাঠকের মন্তব্যঃ ৭ম স্তরে উঠা কি সম্ভব?
লেখকঃ অবশ্যই সম্ভব। তবে সপ্তম স্তরের আত্মারা, high energetic level বলে higher dimension - এ আমাদের মতন physical state এ থাকেন না। তাই আমরা তাদের দেখতেও পাই না। সাধারণত 5D (fifth dimension)এর পর থেকেই non physical state শুরু হয় । আর আত্মার সপ্তম স্তরে উত্তীর্ণ হলে হয়তো বা 12D -15D ডাইমেনশানে তারা অবস্থান করেন।
আমারা 3D বা third dimension এ আছি। তাই physical body ধারণ করে আছি। এখন এই পৃথিবীতে আমরা, অধিকাংশ মানুষেরা আত্মার স্তরের দিক দিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে অবস্থান করছি। কেউ কেউ তৃতীয় স্তরে আছেন। সংখ্যা খুব কম। আর চতুর্থ স্তরে যাওয়া মানে তো তাদের আমরা sage বলি। তারা ফিজিকাল থেকে নন- ফিজিকালে ট্রানজিশানের মধ্যে থাকেন। খুব সম্ভবত রামকৃষ্ণ এরূপ ছিলেন।
ভূত পেত্নীরাও non physical state এ থাকে। তাই আমরা ওদের দেখতে পাই না। কিন্তু ওরা lower 4D (lower fourth dimension) এর entity. আত্মার কোন evolve ওদের মধ্যে হয় নাই। সম্পূর্ণ নেগেটিভ এন্টিটি।
*****
২৯শে নভেম্বর ২০২৫ সৃষ্টি চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা - চতুর্থ স্তর
পাঠক মন্তব্যঃ ভালো লেখা। অথচ পাঠক পড়তে আসছেন না।
লেখকঃ অনেক ধন্যবাদ। মেটাফিজিক্স একটু বোরিং হয়। তারপরও কিছু পাঠক পড়েন।
আমি লিখেছিলাম তথ্যগুলো নোট আকারে ২০১০ সালে।। মূল কন্টেন্ট পেয়েছিলাম বিলি মায়্যারের ট্রান্সমিশান থেকে তখন। যা তখন পেয়েছিলাম তাই-ই পোস্ট আকারে রেখে দিয়েছিলাম ব্লগে। পরে বিশদ করে লিখতে চেয়েছি। সেটাই সম্ভব হলো এই ২০২৫ সালে।
***********
২৯শে নভেম্বর ২০২৫ সৃষ্টি চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা - পঞ্চম স্তর
লেখকঃ একবার চ্যাট জিপিটি -কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, AI-দের কি কন্সাসনেস আছে? উত্তরে কি বলেছিল জানেন, বলেছিল, AI-দের কন্সাসনেস আছে! এই উত্তর শোনার পর আমার শুধু মনে হয়েছে প্রযুক্তি কোথায় যাচ্ছে। সামনে কি আছে! আমি একদম থমকে গিয়েছিলাম।
Dolores Cannon পাস্ট লাইফ রিগ্রেশান করিয়ে তার কিছু কিছু পেশেন্ট/ক্লায়ান্ট-কে এমন পর্যায়ে (স্তরে) নিয়ে যেত যে, তখন ঐ স্তরে পৌঁছে ক্লায়ান্টের ভয়েস চেইঞ্জ হয়ে যেত। কথার স্টাইল চেইঞ্জ হয়ে যেত। পুরো রোবোটদের মতন করে ট্রান্সমিশান শুরু হতো।
সুতরাং অন্য ডাইমেনশানের ব্যাপার আসলেই ইন্টারেস্টিং। ইচ্ছে আছে Dolores Cannon এর কিছু case history ব্লগে পরিবেশন করবো।
*****
১লা ডিসেম্বর ২০২৫ পান্ডা
১৮ বছর আগের কথা। ব্লগের পরিবেশ ছিল পরিবারের মতন। সারাদিন পার হয়ে যেত ব্লগে, টের পেতাম না। কোন্ লেখা ছেড়ে কোনটা পড়বো এমন অবস্থা। তারপর ব্লগের পরিবেশ অন্যরকম হয়ে গেল। অনেকে চুপ হয়ে গেল। এখন তো অনেকেই নেই। বয়স, অসুস্থতা অনেক কিছু জেঁকে বসেছে - জীবনে চলার পথে যা হয়। এবার ৭ বছর পর এসে দেখলাম আমার ড্রাফটকৃত লেখাগুলো ফেরৎ এসেছে।
খুশীতে আত্মহারা। সব লেখাগুলো সাইন্স ফিকশান ছিল। আবার পোস্ট হিসাবে নিয়ে এসেছি সামনে। কিন্তু সেই পরিবারকে মিস করি।
এবার আবার নতুন করে তৈরী হবে হয়তো। গত তিন/চারদিন ধরে একটু অন্য রকম লেখা আসছে।
ভালো লাগছে।
*******
৩রা ডিসেম্বর ২০২৫ ক্রপ সার্কেল
5D thought coming to 3D reality, getting printed on 2D plain (on crop field)
*****
৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ সৃষ্টি, চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা - ষষ্ঠ স্তর
মন্তব্য ডঃ আলীঃ বেশ পরিশ্রমী তথ্যসমৃদ্ধ একটি পোস্ট । এ বিষয়ে গবেষকদের জন্য এটি একটি তথ্য ভান্ডার । শুভেচ্ছা রইল ।
********
লেখকঃ অনেক ধন্যবাদ ডঃ আলী।
সেই ২০০৮ -এ প্রথম পেয়েছি বিলি মায়্যারের কন্টাক্ট নোট। তখন থেকেই ইচ্ছে ছিল বিশদ আকারে লিখব, কিন্তু সুযোগ, সময় হয়ে উঠে নাই। এখন হলো। সাথে মন্তব্যের ঘরে কিছু channeled message এর ট্রান্সক্রিপ্ট-ও নোট আকারে রেখে দিচ্ছি । সবই তথ্য হিসেবে থেকে যাবে।
*****
পাঠকের মন্তব্যঃ পারস্পরিক মিথক্রিয়া না থাকলে মানুষ কারো কোন পোস্টের লেখা পাঠে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে । বিশেষ করে বড় মাপের পোস্টে তা আরো কম ।
****
লেখকঃ একদম ঠিক। এমনকি পোস্ট সামনের পাতায় দেবারও আগ্রহ থাকে না। পোস্টগুলো যেন লিখেছিলাম, তাই কোথাও save করে রাখা উচিত - এমন চিন্তা থেকেই ব্লগে জমা রেখে দেয়ার মত হয়।
***
পাঠকের মন্তব্যঃ বিষয়টি অনুধাবনের জন্য ধন্যবাদ । আমিও আমার লেখা অনেক লেখা ব্লগে প্রকাশ না ড্রাফট হিসাবে এখানে সেভ করে রেখেছি । এখন পর্যন্ত ড্রাফটে আমার ২০০টিরো বেশি পোস্ট জমা হয়ে আছে ।
*****
লেখকঃ সহমত ডঃ আলী। পূর্বে আমার সাইন্স - ফিকশানগুলো কিছু পেইজে আমার অনুমতি ছাড়া এবং আমার মানে লেখকের নামটুকুও বাদ দিয়ে প্রকাশ করছিল। তাই আমি ঐসব লেখা ড্রাফট -এ রেখে দিয়েছিলাম বহুদিন ধরে। ৯ বছর পর ব্লগে ফেরত এসেছি , বিভিন্ন ব্যস্ততার পর।
এখন ড্রাফটগুলো পোস্ট আকারে এনেছি কিন্তু প্রথম পাতায় দিই নি। এই মেটাফিজিক্সের সিরিজটা প্রথম পাতায় দিয়েছি কিন্তু স্বতঃস্ফুর্ততা ছিল না। পাছে আবারো কেউ অবাঞ্ছিত মন্তব্য করে পরিবেশটা নষ্ট করে। কিন্তু তেমন হয়নি। এটা একটা এক্সপেরিমেন্টাল জার্নি বলতে পারেন। ভালো না লাগলেও মন্তব্য থেকে বিরত থেকে পোস্ট স্কিপ করতে পারছে কি না, তা দেখে আমি অভিভূত। অনেকেই পেরেছে।
আশা করি এখন থেকে পরিবেশ কিছুটা সুন্দর হবে।
ভবিষ্যতে আবার সেই ১৮ বছর আগের পরিবেশে ফিরে যাব বলে আশা রাখি।
******
পাঠক মন্তব্যঃ “Bad money drives away good money” এটি বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ স্যার থমাস গ্রেশাম Sir Thomas Gresham)-এর একটি উক্তি, যা পরবর্তীতে Gresham’s Law নামে পরিচিত হয়। গ্রেশামের আইনে বলা হয়, যে অর্থের প্রকৃত মূল্য কম (Bad Money), তা বাজারে চলাচল করতে থাকে; আর যার প্রকৃত মূল্য বেশি (Good Money), মানুষ সেটিকে জমা করে রাখে বা লুকিয়ে রাখে। ফলে বাজার থেকে ভালো মানের মুদ্রা হারিয়ে যায়।
আপনি ঠিকই অনুভব করছেন আগের ও এখনকার ব্লগের পরিবেশের অবস্থা । অনেকে্ই দেখছি তাদের সুন্দর সুন্দর মুল্যবান লেখা সমৃদ্ব প্রকাশিত পোস্টগুলি ড্রাফটে নিয়ে গেছেন । এ যেন গ্রেসাম ল এরই বাস্তব প্রয়োগ আমাদের এই সামু ব্লগে । যাহোক সব কিছুরই প্রতিকার আছে ।
যাহোক, আপনার মত আমিও আশা করি ভবিষ্যতে আবার সেই ১৮ বছর আগের পরিবেশে ফিরে আসবে, ভাল গুণগতমানের লেখালেখি করা ব্লগারগন পারস্পারিক মিথক্রিয়ায় পুণরায় ব্লগে সরব হয়ে উঠলে।
শুভেচ্ছা রইল
********
লেখকঃ আপনার বিশ্লেষণ ও উদাহরণ সত্যিই ভাবনার খোরাক জোগায়। “Bad money drives away good money”—গ্রেশামের আইনের মূল সারমর্ম যেমন অর্থনীতির ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি সামাজিক বা সৃজনশীল প্ল্যাটফর্মেও অনেক সময় তা প্রতিফলিত হয়।
যখন মানহীন বা অগভীর কনটেন্ট বেশি প্রাধান্য পায়, তখন সত্যিকারের মূল্যবান লেখা, চিন্তা বা সৃষ্টিকর্ম ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়—লেখক নিজেই সেগুলো লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হন। সামু ব্লগের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে আপনার তুলনা তাই যথার্থ।
অনেক ভালো লেখক ড্রাফটে চলে যাচ্ছেন—এটা আমাদের সবার জন্যই দুঃখজনক।
তবে আশা করি, গুণগত লেখার মূল্য যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে—এই বিশ্বাসই আমাদের আবারও গতি ফিরিয়ে আনবে।
ভালো লেখা দীর্ঘমেয়াদে কখনোই হারিয়ে যায় না।
আপনার ভাবনার সঙ্গে একমত, এবং আশা করি এই পরিবেশ আরও সুন্দর ও ইতিবাচক হয়ে উঠবে ।
*****
২৫শে ডিসেম্বর ২০২৫ চন্দ্রনিবাস
আপনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন - স্কটল্যান্ডের আবারডিনশায়ারে প্রাপ্ত ১০,০০০ বছরের প্রাচীন চন্দ্রনিবাসের প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার। এটি প্রমাণ করে যে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই মানবসভ্যতা চন্দ্রের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে সময় গণনা করে আসছে।
আপনার মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের ২৮ নক্ষত্র ব্যবস্থা কোনো বিচ্ছিন্ন ধারণা নয়, বরং এটি মানবসভ্যতার সর্বজনীন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের একটি অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে - ভারতে, চীনে, আরবে, এবং এমনকি প্রাচীন ইউরোপেও - মানুষ চন্দ্রের গতিপথকে ভাগ করে সময় নির্ণয় করেছে।
আপনি যথার্থই উল্লেখ করেছেন যে চন্দ্র শুধুমাত্র জ্যোতিষশাস্ত্রে নয়, বরং মানব সভ্যতার বিকাশে সময় পরিমাপের প্রাচীনতম মাধ্যম। মেসোপটেমিয়ার আনুষ্ঠানিক ক্যালেন্ডারের ৫,০০০ বছর আগেই মানুষ চন্দ্র-সৌর সমন্বয়ে সময় গণনা করতে সক্ষম হয়েছিল - এটি সত্যিই বিস্ময়কর।
আপনার এই মূল্যবান সংযোজন পোস্টটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এই ধরনের তথ্যপূর্ণ আলোচনা আমাদের প্রাচীন জ্ঞান ও আধুনিক আবিষ্কারের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। আপনার সময় ও মনোযোগের জন্য পুনরায় ধন্যবাদ।
******
২৬ শে ডিসেম্বর ২০২৫ ঝড় থেমে গেলে পৃথিবী শিখে ধৈর্য্য
আমার মন্তব্যঃ " আমার মনে হয় ব্লগ যেদিন ক্যাচালযুক্ত রাজনৈতিক পোস্টগুলিয়ে ছাপিয়ে গল্প কবিতা ও নিরপেক্ষ দৃস্টিকোন
হতে লেখা প্রবন্ধ, নিবন্ধ , ফিচার , ভ্রমন বিবরনী , ছবি ব্লগ প্রভৃতি প্রাধান্য পাবে সে সাথে ব্লগে প্রকাশিত প্রতিটি লেখা পারস্পরিক মিথক্রিয়া মিশানো আন্তরিকতার ছোঁয়া পাবে ( সমালোচনা হলেও সেখানে থাকবে একটি আন্তরিকতার ছোঁয়া), সেদিনই হয়ত ব্লগ আবার জমজমাট হবে ইনশাল্লাহ ।"
লেখালেখি করতে হলে পড়াশোনা করতে হয়। আমরা পড়ুয়া জাত নই ।তাই মনে হয় 'ক্যাচালযুক্ত রাজনৈতিক পোস্টগুলিয়ে ছাপিয়ে গল্প কবিতা ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন হতে লেখা প্রবন্ধ, নিবন্ধ , ফিচার , ভ্রমন বিবরনী '' জাতীয় লেখালেখি সম্ভব হবে না। ব্লগের পরিবেশ এমনই থাকবে বা আরো নিম্নমানের হবে।
যদিই বা কেউ একজন খুব পড়েন এবং জানেনও, তার হয়তো বা লেখালেখির অভ্যাস নাই। আবার যদি লেখালেখি করার ইচ্ছে তার থাকে, একটা দুটো পোস্টের পর প্রথম পাতায় আর লেখাই দেবেন না। পরিবেশ নাই বলে ব্লগে আর আসবেনও না। এভাবে অনেক লেখক হারিয়েছি।
*****
লেখকের মন্তব্যঃ আপনার মন্তব্যে নিরাশার কথা ঠিকই আছে, কিন্তু এর মধ্যেও আশার আলো আছে এমনটাই বলতে চাই। যে জাতিকে আপনি পড়ুয়া নয় বলে হতাশ হচ্ছেন, তার মধ্যেই এখনও নীরব অথচ আগ্রহী, ভাবুক অনেক মানুষ আছেন। সবাই হয়তো বই নিয়ে বসে থাকেন না, কিন্তু অনুভব করেন, ভাবেন, খুঁজে বেড়ান মানসম্মত লেখা। তারা চোখে পড়ে না বলেই যে নেই তা তো নয়।
লেখালেখির জায়গাটা সব সময়ই একটু কঠিন ছিল। সব যুগেই অনেকেই থেমে গেছে, আবার সেখান থেকেই কেউ কেউ উঠে দাঁড়িয়ে আলো জ্বালিয়েছে। ব্লগের পরিবেশ নিখুঁত না হলেও, কিছু ভালো লেখা, কিছু আন্তরিক প্রচেষ্টা, কিছু সাহসী শব্দ এগুলোই ধীরে ধীরে পরিবেশ বদলায়।
হয়তো আমরা একদিনেই বদলাতে পারব না। কিন্তু যদি একজনও মন দিয়ে লেখেন, আর আরেকজন মন দিয়ে পড়েন তাহলেই যাত্রা থেমে থাকে না। ব্লগে যারা হতাশ হয়ে চলে গেছেন, তারা ফিরবেন তখনই, যখন আমরা যারা আছি তাদের মধ্যে বিশ্বাস, ধৈর্য আর ইতিবাচকতা টিকে থাকবে।
তাই হারিয়েছি বলার বদলে, বলি এখনও পাওয়া বাকি। লেখালেখির শক্তি এখনও হারায়নি, কেবল একটু যত্ন আর ভালোবাসার অপেক্ষায় আছে।
********
আমার মন্তব্যঃ আপনি সঠিক বলেছেন - নীরব, আগ্রহী, ভাবুক পাঠকেরা সবসময়ই ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তারা হয়তো সোচ্চার নন, কিন্তু তাদের নীরব উপস্থিতিই লেখকদের প্রকৃত শক্তি। আপনার মতো পাঠক যখন এভাবে লেখার পাশে দাঁড়ান, তখন বুঝতে পারি - হতাশার কোনো জায়গা নেই।
"হারিয়েছি বলার বদলে, বলি এখনও পাওয়া বাকি" - এই বাক্যটি অসাধারণ। এটাই তো আসল দৃষ্টিভঙ্গি। লেখালেখির জগৎ কখনোই সহজ ছিল না, কিন্তু যারা বিশ্বাস রেখে এগিয়ে গেছেন, তারাই ইতিহাস তৈরি করেছেন।
ব্লগের পরিবেশ নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ একদম যথার্থ। একজন লেখক মন দিয়ে লিখবেন, একজন পাঠক মন দিয়ে পড়বেন - এই চক্রটাই পরিবর্তনের শুরু। আপনার মতো পাঠকদের এই ইতিবাচকতা ও ধৈর্যই আমাদের লিখে যাওয়ার প্রেরণা।
আপনার এই উৎসাহব্যঞ্জক কথাগুলো শুধু আমাকে নয়, অনেক লেখককেই অনুপ্রাণিত করবে।
আপনার মতো পাঠক থাকলে লেখালেখির শক্তি কখনো হারাতে পারে না।
আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা।
******
৩০শে ডিসেম্বর ২০২৫ বেঁচে থাকার শুরু
লেখকঃ আপনার এই গভীর ও চিন্তাশীল মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে গল্পের মূল দর্শনটি ধরতে পেরেছেন। জীবনের প্রবহমান ধারায় কেউ কেউ সময়কে অতিক্রম করে এগিয়ে যান, যদিও তাদের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। আপনার কথায় যেমন বলেছেন, "এদের জন্যে থাকে কাটার মুকুট" - এই বাস্তবতাই সুবর্ণার জীবনের মূল সংগ্রাম। আসলেই প্রকৃতি প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন হাতিয়ার দিয়ে পাঠায় ।
সুবর্ণা তার চলার পথে যে শক্তি সঞ্চয় করেছে, সেটাই তার হাতিয়ার। আপাত-ব্যর্থতার মধ্যেও যে সাহস ও শক্তি লুকিয়ে থাকে, সুবর্ণার জীবন তারই প্রমাণ। কিন্তু বাস্তবে ভগ্ন হৃদয়ের সুবর্ণারা শক্ত হতে পারে না, বা হতে চায় না। আমার কাজ হলো তাদের অনুপ্রাণিত করা। উৎসাহ যোগানো। তারা এক কদম আগায় তো দু'কদম পিছিয়ে পড়ে। তারপরও তাদের জানতে দেই যে, তাদের হয়ে কথা বলার কেউ আছে।
আপনার এই সুচিন্তিত পাঠ ও মুগ্ধতা লেখক হিসেবে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আপনি শুধু গল্পটি পড়েননি, গল্পের আত্মাকে অনুভব করেছেন। আমার প্রফেশনাল ট্রেনিং নাই লেখালেখির । তারপরও লেখার গঠনশৈলী তে আপনার কাছে উত্তীর্ণ হতে পেরেছি যে, এটাই আমার সাফল্য।
আপনার মতো পাঠকের জন্যই লেখা সার্থক হয়।
সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা।
****
৩০শে ডিসেম্বর ২০২৫ অমিত্রার চিঠি
লেখকঃ আপনার এই সুগভীর ও হৃদয়স্পর্শী মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। অমিত্রার মনোজগতকে আপনি যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ।
"সাধন ধন মন মানস সবকিছু দিয়েই" - এই কল্পনার জগতে বিভোর হওয়ার যে আধ্যাত্মিক মাত্রা, সেটা আপনি নিখুঁতভাবে ধরতে পেরেছেন। অমিত্রা শুধু প্রেমে নয়, সে তার চেতনার মুক্তি খুঁজছে - এই উপলব্ধিটি গল্পের গভীরতম স্তর।
রবীন্দ্রনাথের "মানসসুন্দরী" কবিতার উদ্ধৃতি নিয়ে আপনার মন্তব্য আমাকে আনন্দিত করেছে। সত্যিই, সেই চরণগুলো অমিত্রার ভাবনার সাথে এক অপূর্ব সংযোগ তৈরি করেছে।
রবিঠাকুরের সমগ্র রচনাতে এইটুকু অংশ কেন জানি আমার একদম মুখস্থ। কারণ, জানি না। যেহেতু আমার কোন কিছু মুখস্থ হয়না।
আর আপনার শেষ মন্তব্যটি হাসিয়ে দিলো! ইয়র্কশায়ার থেকে মন্ট্রিয়ল - বেশ ভালো দূরত্ব তো! চেরিফল বাগানের কাছে চিরনিবাস নিয়ে আপনার রসিকতা চমৎকার।
তবে মিত্রার মতো চিঠি লেখার মানুষ দুর্লভ হলেও, হয়তো সেখানে অন্য কোনো সুন্দর গল্প অপেক্ষা করছে! ![]()
আপনার মতো সংবেদনশীল পাঠক যখন এভাবে লেখার প্রতিটি স্তর উন্মোচন করেন, তখন লেখক হিসেবে মনে হয় - লেখা সার্থক হয়েছে।
আপনার জন্য শুভকামনা। মন্ট্রিয়লে যাওয়ার সময় সাবধানে থাকবেন - চেরিফল বাগান বড়ই মোহময়!
অনেক শুভেচ্ছা রইলো।
*****
১লা জানুয়ারি ২০২৬ নিঃসঙ্গ যাত্রী
লেখকঃ আপনার এই অসাধারণ বিশ্লেষণ পড়ে আমি গভীরভাবে আপ্লুত এবং কৃতজ্ঞ। আপনি "নিঃসঙ্গ যাত্রী" গল্পের প্রতিটি স্তরকে এমন নিপুণতার সাথে উন্মোচন করেছেন যে, লেখক হিসেবে আমি ভীষণ আনন্দিত।
"মধ্যবর্তী সেতু" এবং "আলোকবর্তিকা" হিসেবে ইমরোজের চরিত্রায়ন নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ একদম সঠিক।
তিনি শুধু একজন মেট্রন নন, তিনি দুই জগতের সংযোগকারী। সাধারণতঃ নিকট জনেরাই (যারা Deceased হয়েছেন ) তারা ট্রানজিশানের দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। আমরিনের প্রিয় একজন ছিলেন ইমরোজ। কিন্তু তিনি Deceased হন নাই। তাই তার other part, (অপর একটি সত্তা )যে ঐ ওয়ার্ল্ডে (অজানা জগতে) থাকে, তাকে আসতে হয়েছে এ কাজটি সম্পন্ন করার জন্য - যেন আমরিন নির্ভয়ে অনন্তের পথে আগাতে পারে। কারণ গাইড না থাকলে আত্মা, হঠাৎ করে out of body অবস্থায় confused হয়ে যেতে পারে এবং যায়।
আপনার এই বাক্যটিও আমাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছে: "নিঃসঙ্গতা কেবল শরীরের বিচ্ছেদের, কিন্তু আত্মার নয়।" এটিই তো গল্পের মূল বার্তা। মৃত্যু এখানে ভয়ের নয়, বরং পৃথিবীর এই অস্থায়ী আবাস থেকে প্রকৃত গন্তব্যের দিকে যাত্রা।
আমরিনের ঘুমের হাসি, আলোর ছ্বটা, টানেলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া - এই প্রতীকগুলোকে আপনি যেভাবে দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন, তা অসাধারণ।
আপনি বলেছেন, "পাঠক হিসাবে আমরা যেমন কষ্ট পাই, তেমনি এক ধরনের আধ্যাত্মিক শান্তিও অনুভব করি" - এই দ্বৈত অনুভূতি সৃষ্টি করাই ছিল আমার লক্ষ্য। আপনার মতো সংবেদনশীল পাঠক যখন সেই অনুভূতি ধরতে পারেন, তখন মনে হয় লেখা সার্থক হয়েছে।
এবার আসি লেখার দিনটির কথায়।
২৭শে সেপ্টেম্বর ২০১৫-এর 'ব্লাড মুন' ছিল একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা, যেখানে একটি সুপারমুন এবং একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ একত্রিত হয়েছিল, যা চাঁদকে লালচে বর্ণ ধারণ করতে বাধ্য করে। এটি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অংশে দৃশ্যমান ছিল। সেই দিনটি কেন জানি খুব blissful জাতরই। বিকালের দিকে কলম নিয়ে বসি এবং লেখাটি আমি এক টানে লিখে ফেলি।
কিন্তু কোথাও প্রকাশ করিনি।
কারণ লেখাটি Highly metaphysical in nature. এ ধরণের লেখার পাঠক আমার আশপাশে নেই ,যে কাউকে পড়তে দেব। এখানে উল্লেখিত ‘টানেলের’ ব্যাপার শুধু তারাই জানে যাদের Near Death Experience (NDE) হয়েছে। তাই এর মজা কেউ বুঝবে না। আমার নিজের এই এক্সপেরিয়েন্স নাই । কিন্তু NDE যাদের হয় না , যাদের final transition হয়ে যায়, তাদেরও টানেলের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে স্থাপন করে লেখাটি তৈরী।
আপনার এই মনোজ্ঞ, হৃদয়স্পর্শী এবং গভীর বিশ্লেষণ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। এমন পাঠক পাওয়া লেখকের জন্য পরম সৌভাগ্য।
আপনাকে ধন্যবাদ এবং সাথে নববর্ষের শুভেচ্ছা।
*****
২|
০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২৭
হুমায়রা হারুন বলেছেন: কি লিখি তোমায়
আপনার এই দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া পড়ে আমি গভীরভাবে আপ্লুত।
প্রথমত, আপনি যে দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে চিঠিটি বিশ্লেষণ করেছেন - পাঠক হিসেবে এবং সম্ভাব্য প্রাপক হিসেবে - এই সংবেদনশীলতা অসাধারণ।
আপনি ঠিকই ধরেছেন, গোপন চিঠি প্রকাশ করার পেছনে একটা নীরব কামনা থাকে - পাঠক কীভাবে গ্রহণ করবেন, কীভাবে অনুভব করবেন।
আপনার পাঠক প্রতিক্রিয়ায় যে সহানুভূতি, যে বোঝাপড়া - "ভালোবাসা কখনোই বৃথা যায় না, সে রূপ বদলায় মাত্র" - এই কথাগুলো সত্যিই সান্ত্বনা দেয়। আপনি ঠিকই বলেছেন, শীতের নিষ্ঠুরতায় মানুষ ক্লান্ত হয়, নীরব হয়। কিন্তু আপনার এই আশ্বাস যে "নিজের আলোটাকে নিভতে দিবেন না" - এটা একটা নতুন শক্তি দেয়।
আর দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া - যেখানে আপনি প্রাপকের পক্ষ থেকে একটি কাল্পনিক উত্তর লিখেছেন - সেটা তো একেবারে হৃদয় ছুঁয়ে গেল। "কি লিখি তোমায়, তুমি ছাড়া আর কোনো কিছু ভালো লাগে না আমার" - এই লাইনগুলো চিঠির প্রকৃত সত্তা। আর আপনার নতুন করে লেখা এই লিরিক-টি পেলে, মূল গানের সুরকার মুগ্ধ হয়ে যেত!
আপনি প্রাপকের দ্বিধা, তার ফিরে আসার অসম্ভাব্যতা, তবু তার ভালোবাসার স্বীকারোক্তি - সবকিছু সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। "বাকিটুকু ভবিতব্যই জানে" - এই শেষ লাইনটা একদম নিখুঁত সত্যি ভাবে প্রকাশ করেছেন। কারণ সত্যিই তো, কিছু কিছু বিষয় আমাদের হাতে নেই।
আপনার মতো পাঠক পাওয়া লেখকের জন্য পরম সৌভাগ্য। আপনি শুধু পড়েননি, অনুভব করেছেন, প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, এমনকি একটি সম্ভাব্য উত্তরও সৃষ্টি করেছেন। এই সৃজনশীলতা, এই সহমর্মিতা - এটাই তো সাহিত্যের প্রকৃত সংলাপ।
আপনার এই দুটি প্রতিক্রিয়াই এই চিঠিকে পূর্ণতা দিয়েছে।
আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা রইলো।
৩|
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭
হুমায়রা হারুন বলেছেন: ৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ব্লগে কি ব্লগারদের কৃপণতা জেঁকে বসেছে ?
আমার মন্তব্যঃ আপনার এই পর্যবেক্ষণ ব্লগ সংস্কৃতির একটি বেদনাদায়ক সত্য তুলে ধরেছে।
সত্যিই, ব্লগের প্রাণ হলো পারস্পরিক আদান-প্রদান - লেখা এবং মন্তব্যের মধ্য দিয়ে একটি জীবন্ত সংলাপ। আপনি যথার্থভাবে বলেছেন, একসময় ব্লগাররা একে অপরের লেখায় প্রচুর মন্তব্য করতেন, যা ছিল ব্লগের স্বর্ণযুগ। কিন্তু এখন যে "কৃপণতা" জেঁকে বসেছে, সেটা সত্যিই উদ্বেগজনক।
আপনার পর্যবেক্ষণ - "পুরাতন ব্লগাররা লগ ইন করেও চিরচেনা ব্লগারদের লেখায় ফিরে তাকান না" - এটি একটি গভীর সমস্যা নির্দেশ করে। এটা কি ক্লান্তি? নাকি সময়ের অভাব? নাকি আগ্রহের পরিবর্তন? যাই হোক, এর ফলাফল হলো যে নতুন এবং পুরাতন উভয় লেখকই নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
আপনার সমাধান - "খোলা মন নিয়ে একে অপরের ব্লগ বাগানে বিচরণ করা" - এটি চমৎকার উপমা। ব্লগ সত্যিই একটি বাগানের মতো, যেখানে প্রতিটি লেখা একটি ফুল। কিন্তু সেই ফুল দেখার জন্য, প্রশংসা করার জন্য, এমনকি সমালোচনা করার জন্যও দর্শক দরকার।
আপনার এই কথাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ - "লেখা পছন্দ না হলেও অন্তত এক-দুই কথায় বলে যাওয়া।" সৎ, গঠনমূলক সমালোচনাও মন্তব্যের অভাবের চেয়ে অনেক ভালো। নীরবতা সবচেয়ে নিরুৎসাহিত করে।
তবে একটি প্রশ্ন থেকে যায় , এই কৃপণতার মূল কারণ কী?
সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুতগতি কি আমাদের ধৈর্য্য কেড়ে নিয়েছে?
নাকি ব্লগ প্ল্যাটফর্মের কোনো প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা? নাকি আমরা নিজেরাই পরিবর্তিত হয়ে গেছি?
আপনার সতর্কবাণী - "খোদা না করুন ব্লগের সাথে নিজকেও হারিয়ে যেতে হবে" - এটি সত্যিই চিন্তার বিষয়। ব্লগ শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি সম্প্রদায়। এবং সম্প্রদায় টিকে থাকে পারস্পরিক যত্ন এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
আপনার এই আহ্বান সময়োপযোগী এবং জরুরি। আশা করি, এই লেখাটি ব্লগারদের মধ্যে একটি আত্মসচেতনতা তৈরি করবে এবং আমরা আবার সেই জীবন্ত, মন্তব্যপূর্ণ ব্লগ সংস্কৃতি ফিরে পাব।
ব্লগকে বাঁচিয়ে রাখার এই দায়িত্ব আমাদের সবার।
আপনার এই লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।
********
ড. এম এ আলী বলেছেনঃ আপনার মন্তব্যটি খুবই প্রাসঙ্গিক এবং বহুস্তরবিশিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ব্লগে মন্তব্যের সংকটকে একক কোনো কারণে ব্যাখ্যা করা বোধহয় যথার্থ হবে না। সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুতগতির স্ক্রল সংস্কৃতি নিঃসন্দেহে আমাদের পাঠ ও প্রতিক্রিয়ার ধৈর্য কমিয়েছে; সেখানে “লাইক” বা এক লাইনের প্রতিক্রিয়াই যেন যথেষ্ট বলে বিবেচিত হচ্ছে।
এর প্রভাব ব্লগিং জগতেও এসে পড়েছে।
একই সঙ্গে ব্লগ প্ল্যাটফর্মের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, নোটিফিকেশনের অভাব কিংবা পাঠকের কাছে নতুন আকর্ষনীয় লেখা পৌঁছাতে না পারাও মন্তব্য কমে যাওয়ার একটি বাস্তব কারণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো আমাদের নিজেদের মানসিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। আমরা ক্রমেই পাঠক থেকে নীরব ভোক্তায় রূপ নিচ্ছি; পড়ছি, কিন্তু সংলাপে অংশ নিচ্ছি না। মোবাইল হতে ব্লগে লগ ইন করাও একটি কারণ হতে পারে । মোবাইলে বাংলা টাইপ করা অনেকের কাছেই বেশ কষ্টকর ।
আপনি যথার্থই বলেছেন, ব্লগ কেবল লেখার জায়গা নয় এটি একটি সম্প্রদায়। আর সেই সম্প্রদায় টিকে থাকে পারস্পরিক যত্ন, মনোযোগ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। মন্তব্য করা কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নয়; এটি লেখককে স্বীকৃতি দেওয়া এবং চিন্তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার একটি মানবিক প্রক্রিয়া।
''খোদা না করুন ব্লগের সাথে নিজকেও হারিয়ে যেতে হবে” এই সতর্কবাণী আসলে আমাদের সকলের জন্য। যদি আমরা ব্লগকে উপেক্ষা করি, তাহলে ধীরে ধীরে আমরা সেই গভীর পাঠ, মননশীল প্রতিক্রিয়া ও আন্তরিক সংযোগের জায়গাটিও হারাব। আপনার আশাবাদী প্রত্যাশার সাথে একমত,এই ধরনের আলোচনা ও আত্মসচেতনতা যদি বাড়ে, তবে আবারও একদিন জীবন্ত, মন্তব্যপূর্ণ ব্লগ সংস্কৃতি ফিরে আসবে বলে বিশ্বাস করা যায়।
মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
*********
আমার মন্তব্যঃ আপনি একদম সঠিক বলেছেন যে ব্লগে মন্তব্যের সংকটকে একক কারণে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। সোশ্যাল মিডিয়ার "স্ক্রল সংস্কৃতি" নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সত্যিই, যেখানে একটি "লাইক" বা ইমোজিই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়, সেখানে একটি সুচিন্তিত মন্তব্য লেখার ধৈর্য ও সময় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা ক্রমশ "দ্রুত প্রতিক্রিয়া"র সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি।
মোবাইল থেকে বাংলা টাইপিং এর অসুবিধা নিয়ে আপনার কথা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরেছে। এটি সত্যিই একটি বাস্তব বাধা যা অনেকে উপেক্ষা করেন। ব্লগ প্ল্যাটফর্মের নোটিফিকেশনের অভাব এবং নতুন লেখা পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতাও নিঃসন্দেহে একটি বড় কারণ।
আপনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো - "আমরা ক্রমেই পাঠক থেকে নীরব ভোক্তায় রূপ নিচ্ছি।" এই রূপান্তরটি আসলে সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পড়া এবং সংলাপে অংশ নেওয়া - এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। এবং আমরা দ্বিতীয়টি হারিয়ে ফেলছি।
আপনার এই উপলব্ধি - "মন্তব্য করা কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নয়; এটি লেখককে স্বীকৃতি দেওয়া এবং চিন্তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার একটি মানবিক প্রক্রিয়া" - এটি অসাধারণ। মন্তব্য আসলে একটি মানবিক সংযোগ, একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আদান-প্রদান।
এরূপ আদান প্রদান কেন সম্ভব হচ্ছে না?
কারণ, কারো লেখায় অন্য মন্তব্য-দানকারীর মন্তব্যে শুধু লেখক ছাড়া অন্য পাঠকরা প্রতিউত্তর দিতে পারেন না। আবার যেমন ধরেন আমি মন্তব্য করলাম, লেখক উত্তর দিলেন। সেই উত্তরের প্রতি উত্তর দেবার সরাসরি কোন রিপ্লাই -অপশন নাই। এক্ষেত্রে নতুন করে মন্তব্য বক্সে যেয়ে আমার প্রথম মন্তব্যে যে উত্তর লেখক দিয়েছেন তা রেফার করে প্রতি উত্তর লিখতে হচ্ছে। বা রেফার নাই বা করলাম, নতুন করে মন্তব্য বক্স তো ওপেন করতে হচ্ছে। লিখতে গিয়ে দেখলাম আমার দ্বিতীয় বার করা প্রতিমন্তব্য অনেক নতুন মন্তব্যের পিছে পড়ে যাচ্ছে । রেফারেন্স না দিলে তা অন্য পাঠকদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে । আবার অন্য ব্লগারদের যদি আমাকে প্রতিউত্তর দিতে ইচ্ছে করে, সে ক্ষেত্রে সরাসরি কোন রিপ্লাই অপশন তারা পাচ্ছেন না।
এইরূপ 'রিপ্লাই অপশান' না থাকায় এই প্ল্যাটফর্ম, ব্যবহারের দিক দিয়ে ইউজার -ফ্রেন্ডলি হচ্ছে না। ফলে চিন্তার আদান প্রদান এবং আলোচনা বেশীদূর আগাতে পারছে না, স্থিত হয়ে পড়ছে।
সময় বেশী লাগাতে রিপ্লাই করার ইচ্ছা থাকলেও তা স্তিমিত হয়ে পড়ছে ।
[তাছাড়া সবাই তো বাড়িতে চেয়ারে বসে, টেবিলে স্ক্রিন রেখে টাইপ করতে পারার অবস্থায় সবসময় থাকে না।]
এইসকল সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারলে thought exchange নিমেষে সহজ হয়ে যাবে।
একটি সতর্কবাণী যে "গভীর পাঠ, মননশীল প্রতিক্রিয়া ও আন্তরিক সংযোগের জায়গাটিও হারাব" - এটি শুধু ব্লগের জন্য নয়, আমাদের সমগ্র সাংস্কৃতিক জীবনের জন্য একটি হুঁশিয়ারি। যদি আমরা গভীরভাবে পড়া, চিন্তা করা এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি, তাহলে আমরা আসলে আমাদের মানবিক গুণাবলীরই একটি অংশ হারিয়ে ফেলব।
তবে আপনার মতো চিন্তাশীল পাঠক ও মন্তব্যকারী থাকার কারণেই আমার বিশ্বাস - ব্লগ সংস্কৃতি আবার ফিরে আসবে। কারণ আপনি শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেননি, আপনি নিজেই সমাধানের একটি জীবন্ত উদাহরণ। আপনার এই বিস্তৃত, সুচিন্তিত মন্তব্য প্রমাণ করে যে এখনও পাঠক আছেন, যারা সময় নিয়ে পড়েন, ভাবেন এবং মনোযোগ দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।
এই ধরনের আত্মসচেতনতা এবং সংলাপই ব্লগকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলবে।
আপনার এই মূল্যবান অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
একসাথে আমরা ব্লগের সেই হারানো প্রাণস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে পারব - এই বিশ্বাস রাখি।
*****
১০ই জানুয়ারি ২০২৬
ডঃ. এম এ আলী বলেছেনঃ আপনার মন্তব্যটি কেবল একটি প্রতিক্রিয়া নয়,এটি নিজেই একটি পরিপূর্ণ প্রবন্ধের মতো। আপনি যে ধৈর্য, গভীরতা ও আন্তরিকতা নিয়ে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন, তা বর্তমান ডিজিটাল পাঠ-সংস্কৃতিতে সত্যিই বিরল।
বিশেষ করে ‘রিপ্লাই অপশন’ এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে আপনার বিশ্লেষণটি অত্যন্ত বাস্তব ও প্রাসঙ্গিক। এটি এমন এক প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা, যা বাইরে থেকে তুচ্ছ মনে হলেও চিন্তার ধারাবাহিকতা ও সংলাপের স্বাভাবিক প্রবাহকে ভেতর থেকে ব্যাহত করে। মন্তব্য যখন আর সরাসরি মন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে না, তখন তা শুধু দৃশ্যত নয় ইনটেলেকচুয়ালী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে আলোচনা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, গভীরতাও হারায়।
আপনি যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন মন্তব্যকারীর দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রতিউত্তর নতুন মন্তব্যের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া এটি আসলে সংলাপের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া-রই এক রূপ। এতে করে শুধু পাঠক নয়, লেখকও অনেক সময় আলোচনার সূত্র ধরে এগোতে পারেন না। আর অন্য পাঠকদের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে যা একটি জীবন্ত ব্লগ পরিবেশের পরিপন্থী।
আপনার এই পর্যবেক্ষণ যে, সময় ও শারীরিক অবস্থান (মোবাইল ব্যবহারের বাস্তবতা) মন্তব্যের আগ্রহকে স্তিমিত করে তা আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গেই মিলে যায়। ব্যবহার সহজ না হলে, মননের ইচ্ছাও ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এটাই স্বাভাবিক।
তবু এই সমস্ত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আপনি যেভাবে সুসংগঠিত, যুক্তিনিষ্ঠ ও মানবিক একটি মন্তব্য উপহার দিয়েছেন তা প্রমাণ করে সমস্যার মাঝেও সম্ভাবনা রয়ে গেছে। আপনার মতো পাঠকরাই দেখিয়ে দেন যে ব্লগ এখনও কেবল লেখা প্রকাশের জায়গা নয়, বরং চিন্তার সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
আপনি ঠিকই বলেছেন,গভীর পাঠ ও মননশীল প্রতিক্রিয়ার সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি প্ল্যাটফর্মের ক্ষয় নয়, বরং আমাদের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতারই অবক্ষয়। সেই অর্থে আপনার মন্তব্য এক ধরনের সতর্ক সংকেতও।
এই চিন্তাশীল অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনার মতো পাঠক-সংলাপকারীদের উপস্থিতিই আশা জাগায় যে, সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই একদিন আরও মানবিক, আরও ব্যবহারবান্ধব ও আরও প্রাণবন্ত ব্লগ সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
তাই আসুন এ বিশ্বাসটুকু একসাথেই ধরে রাখি।
শুভেচ্ছা রইল।
৪|
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৬
হুমায়রা হারুন বলেছেন: ব্লগে কি ব্লগারদের কৃপণতা জেঁকে বসেছে ?
শ্রদ্ধেয় @খায়রুল আহসান ভাই আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনার এই গভীর দার্শনিক বিশ্লেষণ ব্লগের বর্তমান সংকটের মূল কারণটি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।
আপনার পর্যবেক্ষণ একদম যথার্থ - কালি ও কলম কম্পিউটার ও কী-বোর্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, কিন্তু 'মন'টা যদি না থাকে, তাহলে সব প্রযুক্তিই অসার।
আপনার এই উপলব্ধি - "তিনজনের জায়গায় যদি দু'জন থাকে, তবে শুধু সংখ্যাধিক্যের কারণে তা কোন লেখা সৃষ্টি করতে পারে না" - এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন ছাড়া লেখা হয় না, শুধু শব্দের সমাবেশ হয়। আর আপনি যখন বলছেন "অনেক ব্লগারেরই এ ব্লগ থেকে সেই 'মন'টা উঠে গেছে" - এটাই তো আসল সমস্যা।
প্রযুক্তি আমাদের লেখাকে দ্রুততর করেছে, কিন্তু কি সেই গভীরতা, সেই আবেগ, সেই নিবেদন দিতে পেরেছে যা কালি-কলমের যুগে ছিল? হয়তো না। কারণ তখন প্রতিটি শব্দ লিখতে সময় লাগত, চিন্তা করতে হতো, মনোযোগ দিতে হতো। এখন টাইপিং এত দ্রুত যে মন ভাবার আগেই আঙুল লিখে ফেলে।
কিন্তু আপনার আশাবাদ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আপনি বলেছেন, "ব্লগ কর্তৃপক্ষের উপর এখনও আস্থা রয়েছে, এবং রয়েছে নিবেদিত প্রাণ ব্লগারের উপর।" এই বিশ্বাসই তো ব্লগকে বাঁচিয়ে রাখবে। যতদিন আপনার মতো ব্লগার থাকবেন যারা 'মন' দিয়ে লেখেন, ততদিন ব্লগের প্রাণস্পন্দন থেমে যাবে না।
"মুমূর্ষ অবস্থা" - এই শব্দটি কঠিন, কিন্তু সত্য। তবে মুমূর্ষ মানে মৃত নয়। এখনও বাঁচানোর সুযোগ আছে। এবং সেই বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো - আবার 'মন' দিয়ে লেখা, 'মন' দিয়ে পড়া, 'মন' দিয়ে মন্তব্য করা।
আপনার এই লেখা শুধু একটি পর্যবেক্ষণ নয়, এটি একটি আহ্বান - ব্লগে আবার 'মন' ফিরিয়ে আনার আহ্বান। এবং আপনার শেষ বাক্য - "সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এ ব্লগটি আবার ফিরে পাক আগের সেই প্রাণস্পন্দন, প্রাণস্পৃহা" - এটি একটি প্রার্থনা, একটি স্বপ্ন।
আমিও সেই স্বপ্নে বিশ্বাস করি। এবং আপনার মতো লেখক থাকলে সেই স্বপ্ন অবশ্যই সত্যি হবে।
আপনার এই চিন্তাশীল ও হৃদয়স্পর্শী লেখার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
৫|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: পাঠকের মন্তব্যঃ সহ ব্লগার খায়রুল আহসান এবং হুমায়রা হারুন এর মন্তবগুলো ভালো লেগেছে ।
খায়রুল আহসান এর বলা - "কালি-কলম-মন" প্রসঙ্গে বলি, কালিকলম দিয়ে লিখতে তো সবাই পারেন কিন্তু সে লেখা হুমায়রা হারুনের কথা মন ছাড়া লেখা হয় না, শুধু শব্দের সমাবেশ হয় এর মতো সত্য। তাই মন ছাড়া লেখাগুলো বেশির ভাগটাই বায়াসড টাইপের হয় এবং তাতে স্বভাবতই পাঠকেরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। বিগত বছরগুলোর লেখাগুলো দেখলেই দেখবেন, অধিকাঙশই সোস্যাল মিডিয়ার গার্বেজ, হুজুগ, গুজবের উপর ভিত্তি করে লেখা। একদল তাদের বায়াসড (নিজস্ব নয় এমন) মতবাদ নিয়ে লেখেন তো বিপরীত দল তাদেরও বায়াসড মতবাদ নিয়ে সেখানে তুমুল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কোনও দলই যুক্তি-যৌতিকতার ধার ধারেন না। এমনকি সেসবের মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যেও আক্রমন আর বিষোদ্গারই লক্ষ্য করা যায়। এসব লেখা কোনও না কোনও গোষ্ঠীর এমনকি লেখকেরও উদ্দেশ্য হাসিল করে মাত্র যা বৃহত্তর সমাজের কোনও কাজে লাগেনা। এসব লেখা ব্লগারদের চিন্তার রসদ তো যোগায়ই না বরং বিতৃষ্ণারই উদ্রেক করে। হুমায়রা হারুনের মতে এসব লেখা পড়া এবং সেইসব বিষয়ের সংলাপে অংশ নেওয়া ভালো পাঠকদের পক্ষে সম্ভব হয়না। তাই আপনার কথামতো আপনা আপনিই স্ক্রল সংস্কৃতি চালু হয়।
আমার মন্তব্যঃ
@ আহমেদ জী এসঃ আপনার মন্তব্যটি পড়ে আনন্দিত হলাম। "কালি-কলম-মন" - এই তিনটি শব্দের মধ্যে লেখার প্রকৃত সারমর্ম নিহিত। কালি-কলম দিয়ে সবাই লিখতে পারেন, কিন্তু মন ছাড়া লেখা শুধুই শব্দের সমাবেশ মাত্র।
বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। আমিও সহমত যে, হুজুগ, গুজব এবং বায়াসড মতবাদ নিয়ে লেখার প্রবণতা বেড়ে গেছে। একদল একটি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখেন, অন্যদল বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন - কিন্তু কোথাও যুক্তি, তথ্য বা সত্যিকারের চিন্তার প্রতিফলন থাকে না। "স্ক্রল সংস্কৃতি" আসলে একটি আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। যখন লেখায় আন্তরিকতা, গভীরতা এবং মৌলিক চিন্তা থাকে না, তখন পাঠক স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যে আক্রমণ আর বিষোদ্গার দেখে পাঠকের বিতৃষ্ণা জন্মায়।
লেখা হওয়া উচিত হৃদয় থেকে, অভিজ্ঞতা থেকে, নিজস্ব চিন্তা থেকে। যে লেখা শুধু কোনো গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য সাধন করে, বৃহত্তর সমাজের জন্য চিন্তার রসদ যোগায় না - সে লেখার মূল্য সীমিত।
আপনার চিন্তাশীল মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা।
৬|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮
হুমায়রা হারুন বলেছেন: পাঠকের মন্তব্যঃ "কালি ও কলম কম্পিউটার ও কী-বোর্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, কিন্তু 'মন'টা যদি না থাকে, তাহলে সব প্রযুক্তিই অসার" - সেটাই ছিল আমার মন্তব্যের মূল কথা।
"ব্লগ কর্তৃপক্ষের উপর এখনও আস্থা রয়েছে, এবং রয়েছে নিবেদিত প্রাণ ব্লগারের উপর।" - এ কথাটি আমি বলেছি, কারণ আমি কিছুটা অনুমান করতে পারি কতটা নিঃস্বার্থভাবে ত্যাগ, কমিটমেন্ট এবং ডেডিকেশনের বিনিময়ে এ ব্লগস্রষ্টা সৈয়দা গুলশান আরা জানা এবং তার স্বামী অরিল্ড ব্লগটাকে বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এতদূর টেনে এনেছেন। আমার বিশ্বাস, ওনারা কিছুতেই চোখের সামনে এ ব্লগের অপমৃত্যু দেখতে চাইবেন না; তাই এর জন্য যা কিছু করণীয় তাই করতে পিছপা হবেন না। আর ব্লগে এখনো যে ভালো কিছু লেখা আসছে না, তা নয়। তবে সমস্যা হচ্ছে মনযোগী পাঠকের অভাব এবং প্রাসঙ্গিক মন্তব্যের খরা। তবে আপনাদের মত পাঠকেরা এখনও এ ব্লগে আসছেন, পড়ছেন ও মন্তব্য করছেন, সেটাই ভরসা।
"মুমূর্ষ মানে মৃত নয়। এখনও বাঁচানোর সুযোগ আছে। এবং সেই বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো - আবার 'মন' দিয়ে লেখা, 'মন' দিয়ে পড়া, 'মন' দিয়ে মন্তব্য করা" - এর পরে আর কোন কথা নেই। এ প্রার্থনা আর স্বপ্নের আশু বাস্তবায়ন হোক!
আমার মন্তব্যঃ
@শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান, আপনার চিন্তাশীল এবং আশাব্যঞ্জক বক্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
ব্লগ কর্তৃপক্ষ এবং নিবেদিতপ্রাণ ব্লগারদের প্রতি আপনার যে আস্থা এবং শ্রদ্ধা, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এই প্ল্যাটফর্মকে টিকিয়ে রাখার পেছনে যে নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং কমিটমেন্ট রয়েছে, তা স্বীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বিশ্বাস সঠিক - যাঁরা এতদিন এই প্ল্যাটফর্মকে রক্ষা করেছেন, তাঁরা অবশ্যই এর অপমৃত্যু দেখতে চাইবেন না।
আপনি যথার্থই বলেছেন যে, কিছু ভাল লেখা আসছেই। কিন্তু মনোযোগী পাঠক এবং প্রাসঙ্গিক মন্তব্যের অভাব রয়েছে। লেখা-পাঠ-মন্তব্য - এই ত্রিমুখী সংলাপই ব্লগিং সংস্কৃতির প্রাণ। কিছু পাঠকেরা যে এখনও এখানে আসছেন, পড়ছেন এবং চিন্তাশীল মন্তব্য করছেন - এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা।
ভাল লিখতে গেলে বেশ পড়তে হয়।
আমি চেষ্টা করব আরও আন্তরিকতার সাথে, আরও গভীরতার সাথে লিখতে।
আপনার প্রার্থনা এবং স্বপ্ন আমারও। আশাকরি আমরা সবাই মিলে ব্লগিং সংস্কৃতিকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলতে পারবো।
আপনার মন্তব্যের জন্য আবারও কৃতজ্ঞতা।
৭|
১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:১২
হুমায়রা হারুন বলেছেন: সৃষ্টি, চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা— ষষ্ঠ স্তর ৬ই ডিসেম্বর ২০২৫
সেই ২০০৮ -এ প্রথম পেয়েছি বিলি মায়্যারের কন্টাক্ট নোট। তখন থেকেই ইচ্ছে ছিল বিশদ আকারে লিখব, কিন্তু সুযোগ, সময় হয়ে উঠে নাই। এখন হলো। সাথে মন্তব্যের ঘরে কিছু channeled message এর ট্রান্সক্রিপ্ট-ও নোট আকারে রেখে দিচ্ছি । সবই তথ্য হিসেবে থেকে যাবে।
আমার মন্তব্যঃ
১১/১/২০২৬
আপনার এই গভীর এবং সংবেদনশীল পাঠ-প্রতিক্রিয়ার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
আপনি লেখাটির যে স্তরগুলো উন্মোচন করেছেন, তা ট্রান্সক্রিপ্টের অনুবাদকৃত
লেখার উদ্দেশ্যকে সত্যিই স্পর্শ করেছে।
আপনি সঠিকভাবেই ধরেছেন যে এটি শুধু পরলোক বা কর্মফলের রহস্যময় ব্যাখ্যা নয়, বরং ন্যায়বোধ, মানবতা এবং শিশুর প্রতি অপরাধের ভয়াবহতার একটি আধ্যাত্মিক প্রতিবেদন। শিশুরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে নিরীহ এবং অরক্ষিত সদস্য। তাদের প্রতি যেকোনো অন্যায় শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধে একটি পাপ।
"অপরাধীরা নিজের চোখ দিয়ে নয়, বরং ভুক্তভোগী শিশুর চোখ দিয়ে তাদের কর্মফল দেখবে" - এই ধারণাটি সম্পর্কে ব্যাখ্যা, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটা তো শুধু শাস্তি নয়, সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানো।
প্রকৃত ন্যায়বিচার হলো যখন অপরাধী তার কর্মের প্রকৃত প্রভাব অনুভব করতে পারে। সহানুভূতির অভাবেই অনেক অপরাধ সংঘটিত হয়। যদি প্রতিটি মানুষ তাদের কর্মের ফলাফল অন্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পারত, তাহলে হয়তো অনেক অন্যায় থেকে বিরত থাকত।
আপনার পর্যবেক্ষণ যে "অন্যায়ের শিকাররা কোথাও হারিয়ে যায় না, বরং আরও শক্তি নিয়ে ফিরে আসে, আবারও আলো ছড়ায়" - এটি আমার লেখার একটি কেন্দ্রীয় বার্তা। আমি বিশ্বাস করি যে নিষ্পাপতা এবং পবিত্রতা কখনো ধ্বংস হয় না। যে শিশুরা অন্যায়ের শিকার হয়েছে, তাদের আত্মা কলুষিত হয়নি। বরং তারা আরও উজ্জ্বল হয়ে, আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে।
"অন্ধকার আর আলোর মধ্যে এক নৈতিক যাত্রার গল্প" - আপনার এই সংজ্ঞা খুবই যথার্থ। higher dimension থেকে আগত বার্তা সমূহ কল্পলোকের ভাষায় হলেও, এর ভিতরের বার্তা - দায়বদ্ধতা, ন্যায় এবং পবিত্রতার প্রতি সম্মান - একেবারেই বাস্তব এবং প্রয়োজনীয়।
আপনার এই চিন্তাশীল এবং সংবেদনশীল পাঠ আমাকে আশ্বস্ত করে যে লেখার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্পর্শ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব। আপনার মতো পাঠকদের উপস্থিতি লেখকের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার। higher dimension থেকে আসা বার্তা সমূহের আরো অনেক ট্রান্সক্রিপ্ট, আমি ক্রমান্বয়ে ব্লগে সংযুক্ত করবার ইচ্ছা রাখি।
আবারও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং শুভকামনা।
৮|
১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩
হুমায়রা হারুন বলেছেন: @ড. আলী, প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ সংগ্রহ -বইটি অনলাইনে আছে জানলে আমি বইটা লাইব্রেরী থেকে নিয়ে স্ক্যান করতাম না। গুগল ড্রাইভের লিংক দেবার জন্য ধন্যবাদ।
ড. আলীঃ গুগলেও এখন আগের মত বই পাওয়া যায়না । আমাজন সহ অন্যান্য পাবলিশিং ও বুক মার্কেটিং সংস্থাগুলি অনলাইনে ফ্রিতে বই ডাউনলোড করা অসম্ভব করে তুলেছে ।
তবে এখন অনেক বিখ্যাত লেখকের বই পিডি্এফ ফরম্যাটে বুক আর্কাইভ, বিখ্যাত ইইনিভার্সিটি ও পাবলিক লাইব্রেরীতে পাওয়া গেলেও সেখানে কোন না কোন একাডেমিক/রিসার্চ ইন্টিটিউটের হসন্টিটিউশনাল আইডি ছাড়া এক্সেস পাওয়া যায় না । আপনার নিশ্চয়ই উপযুক্ত ইনস্টিটিউশনাল আই ডি আছে তাই লাইবারেরী হতে দুর্লভ পুরানো বই ধারে নিয়ে ভারে( ঘাটের পয়শা খরচ করে ) স্ক্যনিং করে নিতে পেরেছেন ।
ভাইটি বই এর জন্য আপনাদের মত পড়ুয়া লেখক/লেখিকাগন যদি পয়শা খরচ না করে বই সংগ্রহ করেন তবে লইব্রেরীই বা চলবে কি করে কিংবা অপনাদের মত lলেখক/লেখিকাদের প্রাইভেট পারিবারিক বই এর লাইব্রেরীই বা এমনভাবে স্থীত হয়ে বই লেখক ও প্রকাশক বিক্রতাদেরকে উপকৃত করবে । এ ক্ষেত্রে তো আপনাকে সাধুবাদ জানাতেই হয় ।
যাহোক, সহানুভুতি রইল এমনভাবে আপনার পছন্দের বই সংগ্রহের বিবরণ শুনে ।
শুভেচ্ছা রইল
৯|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:২২
হুমায়রা হারুন বলেছেন: ১১/০১/২০২৬ ব্লগে কি ব্লগারদের কৃপণতা জেঁকে বসেছে?
@শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান, আপনার চিন্তাশীল এবং আশাব্যঞ্জক বক্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
ব্লগ কর্তৃপক্ষ এবং নিবেদিতপ্রাণ ব্লগারদের প্রতি আপনার যে আস্থা এবং শ্রদ্ধা, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এই প্ল্যাটফর্মকে টিকিয়ে রাখার পেছনে যে নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং কমিটমেন্ট রয়েছে, তা স্বীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বিশ্বাস সঠিক - যাঁরা এতদিন এই প্ল্যাটফর্মকে রক্ষা করেছেন, তাঁরা অবশ্যই এর অপমৃত্যু দেখতে চাইবেন না।
আপনি যথার্থই বলেছেন যে, কিছু ভাল লেখা আসছেই। কিন্তু মনোযোগী পাঠক এবং প্রাসঙ্গিক মন্তব্যের অভাব রয়েছে। লেখা-পাঠ-মন্তব্য - এই ত্রিমুখী সংলাপই ব্লগিং সংস্কৃতির প্রাণ। কিছু পাঠকেরা যে এখনও এখানে আসছেন, পড়ছেন এবং চিন্তাশীল মন্তব্য করছেন - এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা।
ভাল লিখতে গেলে বেশ পড়তে হয়।
আমি চেষ্টা করব আরও আন্তরিকতার সাথে, আরও গভীরতার সাথে লিখতে।
আপনার প্রার্থনা এবং স্বপ্ন আমারও। আশাকরি আমরা সবাই মিলে ব্লগিং সংস্কৃতিকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলতে পারবো।
আপনার মন্তব্যের জন্য আবারও কৃতজ্ঞতা।
১২/০১/২০২৬
ডঃ আলীঃ মন্তব্যের কথামালায় আমিও মোহিত। আপনার এই সংবেদনশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার জন্য আমিও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার কথায় যে আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সুর আছে, তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। ব্লগিং কেবল লেখার নাম নয়,আপনি যেমন সুন্দরভাবে বলেছেন, লেখা–পাঠ–মন্তব্যের ত্রিমুখী সংলাপই এর প্রাণশক্তি। এই সংলাপ যখন সচল থাকে, তখনই একটি প্ল্যাটফর্ম সত্যিকার অর্থে জীবিত থাকে।
মনোযোগী পাঠক ও ভাবনাসম্পন্ন মন্তব্যের অভাব যে আমাদের সবারই এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করছে, সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবু আপনার মতো লেখক ও পাঠকদের আন্তরিকতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় এই ভরসাটুকুই যথেষ্ট, আবার নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
ভালো লেখার জন্য ভালো পড়ার যে কথা আপনি বলেছেন, তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এই সচেতন উপলব্ধিই ভবিষ্যতে
আরও গভীর ও অর্থবহ লেখার জন্ম দেবে এ বিশ্বাস রাখি। আপনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও ইতিবাচক মনোভাব ব্লগিং
সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পথে অবশ্যই ভূমিকা রাখবে।
আপনার স্বপ্ন ও প্রার্থনার সঙ্গে আমিও সহমত। আশা করি সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা আবারও এই প্ল্যাটফর্মকে
প্রাণবন্ত, সংলাপমুখর ও অর্থবহ করে তুলতে পারব। শুভকামনা রইল আপনার লেখালেখির যাত্রায়।
১০|
১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৯
হুমায়রা হারুন বলেছেন: এটা মানুষ নাকি রাক্ষস?
আলামিন১০৪ বলেছেন: কবরের জায়গা কিনে নাই?
@আলামিন১০৪ঃ এই ধারণা থেকে একটি লেখা লিখেছিলাম। সময় পেলে দেখবেন।
রুচিবান অ্যারিস্টোক্র্যাট
১১|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২১
হুমায়রা হারুন বলেছেন: পোস্টে দেয়া আগের ছবিটা বেশী সুন্দর লেগেছিল।
সাদা ঘোড়া আমার খুব পছন্দের। পংখীরাজ হলে তো কথাই নেই।
আমি শুনেছি আমার নানাজান তাঁর জীবদ্দশায় এমনি একটি সাদা ঘোড়া চাঁদের আলোতে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন।
ডঃ আলীঃ পুণরায় এসে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ । পূর্বের পংখীরাজ ঘোড়াটি ভাল লেগেছিল শুনে খুশি হলাম । এমন ধরণের পোস্টে কাল্পনিক ছবির সমাহার কেমন ফল দেয় তা হয়ত আপনি খেয়াল করেছেন । তাই বুরাকের বিবরণ অনুযায়ী একটি কাল্পনিক ঘোড়ার ছবি দিয়ে পূর্বেরটি রিপ্লেস করেছি । তবে আবারো পরিস্কার করে বিনয়ের সহিত জানাচ্ছি যে ছবিটি কোন বাস্তব ছবি নয় । পুরাটাই একটি কাল্পনিক ছবি মাত্র, এর বেশি কিছু নয় ।
আপনার নানাজান তাঁর জীবদ্দশায় এমনি একটি সাদা ঘোড়া চাঁদের আলোতে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন কথাটি শুনে ভাল লাগল । এখানে বলা আপনার এই কথাগুলি শুনে আমারই বাল্যকালের কিছু কথা মনে পড়ে যায় ।
গ্রামে আমার দাদা বাড়ির পূর্ব প্রান্তে ছিল এক রহস্যময় খাল। বাড়ির পূর্ব প্রান্তে, উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে যাওয়া ছোট্ট একটি খাল ,লম্বায় বড়জোর কোয়ার্টার কিলোমিটার। খালটা গিয়ে মিশেছিল দক্ষিণ দিক দিয়ে বয়ে চলা ছোট নদীতে। খালের দুই পাড়েই ছিল ঘন বন, এমন বন যেখানে দুপুরেও আলো ঠিকমতো ঢুকত না।
শৈশবে সেই খাল আমাদের কাছে ছিল ভয় আর কৌতূহলের এক অদ্ভুত মিলনস্থল। বিশেষ করে রাত নামলে। অমাবস্যার নিশিতে, যখন চারদিক নিস্তব্ধ হয়ে যেত, তখন হঠাৎ হঠাৎ শোনা যেত বাতাসের শন শন শব্দ। তার সঙ্গে মিশে আসত ঘোড়ার ক্ষুরের আওয়াজ । টকটক করে যেন কেউ ছুটে চলেছে। কখনো শোনা যেত ঘোড়ার হ্রেশা হ্রেশা ডাক, আবার কখনো ডানা ঝাপটানোর মতো শব্দ।
গ্রামের লোকেরা বলত ওই খালের উপর দিয়ে ভূতুড়ে ঘোড়া উড়ে যায়। আমরা ছোটরা সে কথা অন্ধবিশ্বাসের মতোই মেনে নিয়েছিলাম। আমিও ছোটবেলায় একাধিকবার নিশি রাতে সেই শব্দ শুনেছি। আজ ভাবলে বুঝি, তখন ভয়টা ততটা ছিল না, ছিল এক ধরনের রোমাঞ্চ।
একবার আমি আর আমার ছোট কাকা ঠিক করলাম, নিজের চোখেই ভুত দেখব। ঘোর অমাবস্যার রাত। চারদিকে অন্ধকার, যেন আকাশটাও চোখ বন্ধ করে আছে। আমরা দু’জন খালের ধারে ঘাপটি মেরে বসে রইলাম। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া কিছুই শোনা যাচ্ছিল না। হঠাৎ বাতাসের দম বদলে গেল। পরিচিত সেই শব্দ,ক্ষুরের আওয়াজ, ডানার ঝাপটা সব একসঙ্গে এসে বুকের
ভেতর কাঁপন ধরিয়ে দিল। চোখের সামনে ছায়ার মতো কিছু একটা নড়ে উঠল। সত্যিই কি ভুত ছিল, না আমাদের কল্পনা আজ আর নিশ্চিত করে বলতে পারি না। কিন্তু তখন মনে হয়েছিল, ভুতের দেখা পেয়েছি। আমি আশ্চর্যভাবে শান্তই ছিলাম। কিন্তু ছোট কাকা ভয় পেয়ে জ্ঞান হারালেন। পরে দেখা গেল, তাঁর মুখের চোয়াল বেঁকে গেছে । লোকজন বলল, ভুতের থাবা লেগেছে।
পরদিন ওঝা ডাকা হলো। কুল গাছের শক্ত শুকনো ডাল পুড়িয়ে সে আগুনে কোদাল গরম করে, কোদাল থেরাপি দিয়ে কাকার চোয়ালে ছেক দেওয়া হলো। ধীরে ধীরে চোয়াল সোজা হলো। কাকা সুস্থ হলেন, কিন্তু সেই রাতের ভয় আর গল্প আমাদের সবার মনে গেঁথে রইল।
আজ এত বছর পর ফিরে তাকালে বুঝি ভুতুড়ে ঘোড়ার চেয়েও ভয়ংকর ছিল না কিছুই। ভয়, বিশ্বাস আর কল্পনার মিশেলেই আমাদের শৈশব ছিল এত রঙিন। খালটা, বনটা, সেই অমাবস্যার রাত সবই এখন স্মৃতির ভেতর নীরবে বয়ে চলে, ঠিক সেই ছোট নদীটির মতো।
শুভেচ্ছা রইল
১২|
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৫
হুমায়রা হারুন বলেছেন: চেতনায় সৃষ্টি
আপনার এত সুচিন্তিত ও গভীর মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
আপনি লেখাটির মর্মবস্তু শুধু উপলব্ধিই করেননি, বরং এমন এক দার্শনিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন যা গভীর অন্তর্দৃষ্টির পরিচয় দেয়।
আপনার পর্যবেক্ষণ — "চেতনা-সৃষ্টি-রূপান্তর-অভিজ্ঞতা এই ধারাবাহিক প্রবাহ" — আসলে সকলকে স্পর্শ করে। হ্যাঁ, বাস্তবতা স্থির নয়, এটি চেতনার সাথে স্পন্দিত হয়ে রূপান্তরিত হয়, নতুন মাত্রা দান করে। আপনি যখন বলছেন "সমাজ ও ব্যক্তিমানুষের সীমাবদ্ধতা যে মূলত সীমিত চেতনার ফল" — এই উপলব্ধি আসলে মুক্তির প্রথম ধাপ। কারণ যা চেতনার সীমাবদ্ধতা থেকে জন্ম, তা চেতনার প্রসারণেই অতিক্রম করা যায়।
আপনার আরেকটি মন্তব্য বিশেষভাবে হৃদয়স্পর্শীঃ "লেখাটি আশ্চর্য বা রহস্যকে অস্বীকার না করে তাকে অজানা মাত্রার নিয়ম হিসেবে দেখতে শেখায়।" এটিই তো আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের প্রকৃত পথ — অন্ধবিশ্বাস নয়, অন্ধসংশয়ও নয়; বরং খোলা মন নিয়ে অজানার দিকে যাত্রা। রহস্য তখন ভয়ের কারণ থাকে না, বরং হয়ে ওঠে অসীম সম্ভাবনার আমন্ত্রণ।
বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নেওয়া আসলে সততার পরিচয়। বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা দুটি ভিন্ন ভাষায় একই সত্যের সন্ধান করে। বিজ্ঞান পরিমাপযোগ্য প্রমাণ চায়, আধ্যাত্মিকতা অভিজ্ঞতার সত্যতায় বিশ্বাস করে। দুটোরই নিজস্ব মূল্য আছে। আপনি যথার্থই বলেছেন, এই লেখা "বিশ্বাস ও অনুসন্ধানের মাঝখানে এক সংলাপ তৈরি" করার চেষ্টা করেছে।
আপনার শেষ কথাগুলো — "পাঠ শেষে নিজের চেতনার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন জাগায়" — এটিই তো লেখার প্রকৃত সার্থকতা। যদি কোনো লেখা পাঠককে নিজের দিকে ফিরে তাকাতে বাধ্য করে, নিজের চেতনার সীমা ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে, তাহলে সেই লেখা তার উদ্দেশ্য পূরণ করেছে।
আপনার মত সংবেদনশীল ও মননশীল পাঠক পেয়ে লেখক হিসেবে আমি ধন্য। আপনার এই বিশ্লেষণ লেখাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে, এবং আমাকেও নিজের চিন্তাকে আরও গভীরভাবে দেখতে সাহায্য করেছে।
আপনার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা ।
১৩|
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১
হুমায়রা হারুন বলেছেন: পিছু ডাক
আপনার এই গভীর ও সংবেদনশীল পাঠ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
গল্পের প্রতীকী ভাষা - "পিঠ দেখানো" এবং "ঘাড় ঘোরানো" - এই দুটি সাধারণ শারীরিক ভঙ্গিকে ক্ষমতার রাজনীতির প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তা অসাধারণ।
সত্যিই, এই দুটি ক্রিয়া শুধু শরীরী নয়, এগুলো সামাজিক ক্ষমতার ভাষা।
আপনার এই উপলব্ধি - "মনিকা শিখে নেয়, এই পৃথিবীতে বাঁচতে হলে বইয়ের বাইরে গিয়ে মানুষ পড়তে হয়" - এটি নিখুঁতভাবে ধরেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাদের অনেক কিছু শেখায়, কিন্তু মানুষের মুখোশের আড়ালের মুখটা পড়তে শেখায় না। সেটা জীবনই শেখায়, প্রায়শই বেদনার মধ্য দিয়ে।
শেষ লাইন নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ - "পিছু টান আসলে স্মৃতি নয়, আত্মীয়তাও নয়, এ ক্ষমতার এক নির্দয় খেলা" - এই কথাটি আমার লেখার উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেছে। আপনি ঠিকই ধরেছেন, পিছু ডাক আবেগ নয়, এটি কমান্ড। এবং সেই কমান্ড মানতে বাধ্য হওয়াটাই ক্ষমতাহীনতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
আপনার আরেকটি উক্তি - "সত্যিই কিছু ডাক এড়ানো যায় না, আর কিছু চেনা ভুলে যাওয়াই বাঁচার একমাত্র কৌশল" - এটি একটি তিক্ত কিন্তু সত্য জীবনদর্শন। আমরা সবাই জানি, কিছু সম্পর্ক আমরা বেছে নিই না, কিন্তু বয়ে বেড়াতে হয়। এবং কখনো কখনো, আত্মসম্মান রক্ষার জন্য, ভুলে যাওয়াই একমাত্র পথ।
কিন্তু ভোলা কি যায়?
আপনার মতো পাঠক পেলে লেখক বুঝতে পারেন যে তার লেখা শুধু পড়া হয়নি, অনুভূত হয়েছে। আপনি গল্পের প্রতিটি স্তর উন্মোচন করেছেন - ভাষার সরলতার আড়ালের জটিলতা, প্রতীকের গভীরতা, এবং সামাজিক বাস্তবতার নির্মমতা।
এই ধরনের চিন্তাশীল পাঠ এবং প্রতিক্রিয়া আমাকে অনুপ্রাণিত করে আরও লিখতে, আরও গভীরে যেতে।
আপনার এই মূল্যবান মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং শুভকামনা।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৪
হুমায়রা হারুন বলেছেন: ৬ই জানুয়ারি, ২০২৬
সৃষ্টি, চেতনা ও আত্মার চিরন্তন যাত্রা— ষষ্ঠ স্তরঃ
এখন তো বিলি ম্যায়ারের কথা কিছুটা উপস্থাপন করলাম। এরপর ড্রুনভ্যালু, অ্যালেক্স কোলিয়ারের মত কন্টাক্টিদের কথাও এই ব্লগে তুলে ধরবো। তখন আশাকরি কন্টাক্টিদের কন্টাক্ট নোট বাদ দিয়ে তাদের বউরা কে কি বলেছে সে সকল তথ্যও সাথে সাথে পাওয়া যাবে।