somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরমাণু গল্পসমগ্র-১২ঃ প্রতিদিন

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম দিন।
সন্ধ্যাবেলা। রফিক সাহেব অফিস থেকে ফিরছিলেন।
-স্যার, পাঁচটা ট্যাকা দেন।
রফিক সাহেব চেয়ে দেখেন আঠার-বিশ বছরের এক সুস্থ স্বাভাবিক তাগড়া জোয়ান, গায়ে মলিন কাপড়।
-মাফ কর।
রফিক সাহেব বাসার পথ ধরেন।

২য় দিন।
একই সময়, একই স্থান। রফিক সাহেব আজও অফিস থেকে বাসায় ফিরছিলেন।
-স্যার, দুইটা ট্যাকা দেন।
রফিক সাহেব চেয়ে দেখেন গতকালকের জোয়ান ছেলেটাই।
-যা ভাগ, খেকিয়ে ওঠেন রফিক সাহেব।

৩য় দিন।
সন্ধ্যাবেলা। রফিক সাহেব বাসায় ফিরছেন। তাড়াহুড়ায় খেয়াল করেননি গলিটা গত দুইদিনের তুলনায় একটু বেশিই নির্জন।
-যা আছে, সব দিয়া দে।
রফিক সাহেব গালি দিতে গিয়েও থেমে যান। দুটো ছেলে, দুজনের হাতেই ধারাল চাকু।নীরবে মানিব্যাগ, মোবাইল, ঘড়ি-সবই দিয়ে দেন। সব বুঝে নিয়ে ছেলেদুটো অন্ধকারে হারিয়ে যায়। যাওয়ার আগে রফিক সাহেবের পেটে চাকুর পোচ দিয়ে যায়।
রফিক সাহেব পেট চেপে ধরে বসে পড়েন। এমন সময় বিপরীত দিক থেকে গত দুইদিনে দেখা ভিখারী ছেলেটাকে আসতে দেখা যায়।
রফিক সাহেব সর্বশক্তি দিয়ে সাহায্যের জন্য ছেলেটিকে ডাকতে চেষ্টা করেন, কিন্তু তার কন্ঠ দিয়ে কোন শব্দ বের হয় না।
জ্ঞান হারানোর আগে রফিক সাহেব দেখতে পান ছেলেটা তার দিকে এগিয়ে আসছে। নাকি আসছে না? জ্ঞান হারানোর আগে হ্যালুসিনেশন হচ্ছে?

গল্পঃ প্রতিদিন
-আমি তুমি আমরা
১৪.০৮.২০২০




-কিরে মোটু, মন খারাপ কেন?
-বাদ দে।
-বাদ দিব কেন? বল।
-তোরা সারাক্ষণ ‘মোটু,মোটু’ করিস, সেজন্যই মন খারাপ থাকে।
-আজব। মোটাকে মোটা বলব নাতো কি বলব? এযুগে কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন হয় না।
-তাই নাকি? তা তোকে কি ডাকব? কাল্লু মামা? নাকি কালাইয়া?
-দেখ, মুখ সামলিয়ে কথা বলবি।
-আমার মুখ সামলানোর কি দরকার? আমিতো ব্যায়াম আর ডায়েট করে চিকন হয়ে যেতে পারব। তুই কি করবি? ময়দা মাখবি?
-ছিহ, তুই এমন রেসিস্ট?

গল্পঃ রেসিস্ট
-আমি তুমি আমরা
১৪.০৮.২০২০


===============================================================
সিরিজের আগের পর্বসমূহঃ

পরমাণু গল্পসমগ্র-১
পরমাণু গল্পসমগ্র-২
পরমাণু গল্পসমগ্র-৩
পরমাণু গল্পসমগ্র-৪
পরমাণু গল্পসমগ্র-৫
পরমাণু গল্পসমগ্র-৬
পরমাণু গল্পসমগ্র-৭
পরমাণু গল্পসমগ্র-৮
পরমাণু গল্পসমগ্র-৯
পরমাণু গল্পসমগ্র-১০
পরমাণু গল্পসমগ্র-১১
পরমাণু গল্পসমগ্র-১২
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৫৯
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পুলিশও মানুষ, তাদেরকে সাহায্যের জন্য আমাদেরও এগিয়ে আসা জরুরী

লিখেছেন মাহমুদুল হাসান কায়রো, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১:৪৩

রাত বারোটা বেজে ১০ মিনিট। কাকরাইল চৌরাস্তায় একটা “বিআরটিসি এসি বাস” রঙ রুটে ঢুকে টান দিচ্ছিলো। কর্তব্যরত ট্রাফিক অফিসার দৌড় গিয়ে বাসের সামনে দাড়ালেন। বাস থেমে গেল। অফিসার হাতের লেজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দৈত্যের পতন

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ২:৩১



ট্রাম্প দেশের ক্ষমতা হস্তান্তরকারী সংস্হাকে কাজ শুরু করার অর্ডার দিয়েছে; আজ সকাল থেকে সংস্হাটি ( জেনারেল সার্ভিস এজনসীর ) কাজ শুরু করেছে, নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের লোকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটার তো বাহাদুরি মমিনরা নিল, বাকি ভ্যাকসিন গুলোর বাহাদুরি তাহারা নেয় না কেন?

লিখেছেন এ আর ১৫, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ৮:৫২



বাহাদুরির বিষয় হলে যারা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বাড়াবাড়ি শুরু করেন, তারা জবাব দিবেন কি?
কার্দিয়ানিরা মুসলমান নহে কিন্তু যেহেতু বাহাদুরির বিষয় তাই ডঃ সালাম হয়ে গেলেন মুসলমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

নভোনীল পর্ব-১৪ (রিম সাবরিনা জাহান সরকারের অসম্পূর্ণ গল্পের ধারাবাহিকতায়)

লিখেছেন ফয়সাল রকি, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৫১



- ময়ী, ময়ী! আর কত ঘুমাবি? এবার ওঠ।
দিদার ডাকতে ডাকতে মৃনের রুমে ঢুকলো। মৃন তখনো বিছানা ছাড়েনি। সারারাত ঘুমাতে পারেনি। ঘুমাবে কী করে? রাজ্যের দুঃশ্চিন্তা ভর করেছিল ওর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৌষের চাদর – মাঘের ওভারকোট

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৬




চাদর ম্যানেজ করতে পারতাম না বলে কায়দা করে প্যাচ দিয়ে একটা গিটঠু মেরে দিলে আমি দৌড়ানোর উপযুক্ত হতাম । লম্বা বারান্দা দিয়ে ছুটতাম । অবাক চোখে পৌষের কুয়াশা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×