somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"পরকীয়া ও লিভ টুগেদার " সকল ধর্মে নিষিদ্ধ/সামাজিক ভাবেও অবৈধ যা নৈতিক-মানষিকভাবে অসুস্থ কিছু মানুষের ভয়ংকর ও বিকৃত কাজ, যার ফলে সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ও করুন পরিণতি ডেকে আনে ।(মানব জীবন - ২১)।

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। পরকীয়ার ভয়াবহতা - জামাইয়ের সাথে পালালেন শাশুড়ি! পুলিশের দ্বারস্থ মেয়ে ।
পরকীয়ার জেরে শাশুড়িকে নিয়ে পালালেন যুবক (মেয়ের জামাই)। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ভারতের হাওড়ার লিলুয়ায়। জানা গেছে, পলাতক যুবকের নাম কৃষ্ণ গোপাল দাস। স্ত্রীকে ফেলে রেখে শাশুড়ি শেফালি দাসের সাথে পালিয়েছেন তিনি। লিলুয়া থানায় দায়ের হয়েছে অভিযোগ। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন যুবক। তার জেরেই শাশুড়ি শেফালি দাসের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। গত শনিবার শাশুড়ির সাথে পালিয়ে যান কৃষ্ণ। মায়ের সাথে স্বামীর পরকীয়ার কথা জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। পরে পরিস্থিতি একটু সামলে উঠে বাবার সাথে গিয়ে লিলুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।সূত্র : naya-diganta ২১/১২/২১
২। বাড়ি মেরামতের সময় রাজমিস্ত্রিদের সঙ্গে প্রেম, অতঃপর পালালেন দুই গৃহবধূ - সূত্র : naya-diganta ২১/১২/২১
৩। লালমনিরহাটে বউকে ফেলে শাশুড়িকে নিয়ে জামাই উধাও!শশুড় কর্তৃক থানায় অভিযোগ দায়ের - সূত্র : ইউ এস বাংলা - ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১
৪।জামাই-শাশুড়িকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলল স্ত্রী! অত:পর.. সূত্র : দেশ সংবাদ 2 October 2018
৫। অনেকেই বলেন "শালি আধি ঘরওয়ালি" (শালিকে যারা আধা-বউ মনে করেন)(দুলাভাইয়ের হাত ধরে শালী পলায়ন, দুলাভাইয়ের হাতে শালী খুন, )
৬।দেবরের সাথে ভাবির পরকীয়া, নতুন বাড়িতে ওঠার দশ দিনে স্বামীর মৃত্যু! / দেবরের সাথে মিশতে মিশতে যেভাবে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন গৃহবধূ / দেবরের সাথে ভাবির পরকীয়ায় হোটেলে আটক!!! / দেবর-ভাবির পরকীয়া, প্রেমের ছলে হাত-পা বেঁধে খুন ।news24bd ০৭ ডিসেম্বর, ২০২০

বর্তমানে আমাদের সমাজে এবং সারা বিশ্বে হু হু করে বাড়ছে পরকীয়ার প্রবণতা ও লিভ টুগেদার , যা একটি পবিত্র-প্রতিষ্ঠিত সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। লিভ টুগেদার ও পরকীয়ার কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে মানব বংশধারার স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা। আর এসব ঘৃণ্য অসামাজিক কাজ চলছে সমাজে এমন সব সম্পর্কের মাঝে যাতে করে সমাজের কোন সম্পর্কই নিরাপদ নয়। পরিবারের মা-বাবা-ভাই-বোন-শ্বশুর- শ্বাশুরি-শালী-মামা-মামী কেউ এখন কারো কাছে / কোন সম্পর্কই নিরাপদ নয়। এসব ঘৃণ্য কাজকে স্বাভাবিক বিষয় ভাবার সুযোগ কোন বিবেকবান মানুষেরই নেই। এসব কারণে সমাজে ঘোর বিপর্যয় নেমে আসছে-আসবে,সমাজে বেড়ে যাবে অপ্রত্যাশিত মানুষ এবং অনাকাং খিত সব ঘটনা। কিছু মানুষের অবাধ যৌনতা,বিকৃত রুচি ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অপব্যবহারের ফলে ধ্বংস হয়ে যাচছে সমাজের পবিত্র-প্রতিষ্ঠিত সামজিক রীতি-নীতি-মূল্যবোধগুলো । বিবেকবান প্রতিটি মানুষেরই উচিত সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী এই অপরাধের বিরুদ্ধে নিজ নিজ জায়গা থেকে অবস্থান নেওয়া।


ছবি - istockphoto.com

পরকীয়া কি -

নিজ স্ত্রী বা স্বামীকে রেখে পর নারী বা পুরুষের সাথে অবৈধ মিলনকে পরকীয়া বলে। পরকীয়া সম্পর্ক হচ্ছে, নিজের বিবাহিত জীবন থাকা স্বত্ত্বেও অন্য কোনো নারী বা পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া। বেশির ভাগ পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে নারী বা পুরুষের শারীরিক ও মানষিক চাহিদা মেটানোর জন্য। যদিও আমাদের সমাজে এমন কি ধর্মেও এই পরকীয়া সম্পর্ককে অবৈধ সম্পর্ক হিসেবে বলা হয়েছে। পরকীয়া সম্পর্ক - মানব সমাজে এটি নতুন কোনো বিষয় নয় তবে বর্তমানে সারা বিশ্বের পাশাপাশি আমাদের দেশেও এখন এর প্রবণতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ নানা প্রযুক্তি মানুষের হাতের মুঠোয়, আর তাই আজকাল পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলা অনেক সহজ।

পরকীয়া সমাজে অশান্তি ও বংশের পবিত্রতা নষ্ট করার অন্যতম নীরব হাতিয়ার। এর প্রভাবে ধ্বংস হয়ে যায় হাজার পরিবার। ভেঙে চুরমার হয়ে যায় লাখো নর-নারীর স্বপ্ন। আমাদের সমাজের বর্তমান পচনের জন্য যেসব বিষয় দায়ী, তার মধ্যে পরকীয়া অন্যতম।এখন যদি প্রশ্ন করা হয় কেন আমাদের দেশে এই সম্পর্কের হার বেড়ে গিয়েছে ? তাহলে এর উত্তর হচ্ছে, আমরা নিজেরাই প্রধানত দায়ী। আমাদেরই বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আজ এই পরকীয়া সম্পর্কের হার বেড়ে গিয়েছে এবং ঘরে ঘরে তালাক বা ডিভোর্স হচ্ছে।পরকীয়া বৃদ্ধির জন্য দায়ী পর্দার বিধানে উদাসীনতা। অথচ পর্দার বিধান ইসলামের পক্ষ থেকে সমাজব্যবস্থার এবং বিশেষভাবে উম্মতের মা-বোনদের জন্য অনেক বড় অনুগ্রহ। এই বিধানটি মূলত ইসলামের যথার্থতা, পূর্ণাঙ্গতা ও সর্বকালের জন্য অমোঘ বিধান হওয়ার এক প্রচ্ছন্ন দলিল। পর্দা মানুষের মর্যাদার প্রতীক এবং ইফফাত ও পবিত্রতার একমাত্র উপায়।

পরকীয়া যেভাবে শুরু হয় -

পরকীয়ার মূল উদ্দেশ্যই থাকে যিনা (অবৈধ সম্পর্ক)। আর তা গড়ে ওঠে সাধারণত প্রতিবেশী, অফিস কলিগ, ব্যাচমেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত জনের মাধ্যমে ও সঙ্গে। এটি সমাজব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য এত বড় অস্ত্র যে রাসুল (সাঃ) একে ব্যভিচারের চেয়ে ১০ গুণ বড় অপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। একদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর সাহাবিদের ব্যভিচার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তাঁরা বলেন, হারাম। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তা হারাম করেছেন। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির ১০ জন নারীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া জঘন্য অপরাধ। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং - ১০২)।


ছবি - dreamstime.com

কেন আমাদের সমাজে পরকীয়া সম্পর্ক দিন দিন বাড়ছে?

সমাজতাত্ত্বিকরা এর বিশ্লেষণ করে এর পিছনে কিছু কারন দেখেছেন। আমাদের সমাজে আবেগের বশবর্তী হয়ে অনেক তরুণ তরুণী কম বয়সে বিয়ে করে ফেলে। এই সময়ে ছেলে বা মেয়ের মধ্যে মানসিক বুদ্ধি-চিন্তা কাজ করে না। যুক্তির চেয়ে আবেগই বড় হয়ে দেখা দেয়। যার কারণে বিয়ের কিছুদিন পরই সেইসব স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন রকমের মতবিরোধ সৃষ্টি হয় এবং এই সময়েই সেই স্বামী বা স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

শারীরিক সমস্যা বিবাহিত জীবনের একটি প্রধান সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। এই সমস্যাটি তখনই দেখা দেয়, যখন স্বামী ও স্ত্রী সমবয়সী হয় অথবা স্বামীর থেকে স্ত্রী যদি বয়সে বড় হয়ে থাকে। যার কারণে সেসব স্বামী বা স্ত্রী বাইরের অন্য কারো সাথে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে।
আবার, বিয়ের সময় অভিভাবকের পছন্দানুযায়ী বিয়ে করার ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ের পছন্দ বা মতামতকে প্রাধান্য না দেয়া, ভুল মানুষ কে নির্বাচন করার ফলে অনেক সময় ছেলে-মেয়েদের বিবাহিত জীবন সুখের হয় না। আর তখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পরবর্তীতে তারা পরকীয়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

তাছাড়া,কিছু পুরুষ বা নারী তার ক্যারিয়ার প্রমোশন দ্রুত বৃদ্ধি করার জন্য তার কর্মস্থল এর ম্যানেজার কিংবা উপরের লেভেলের বসদের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত হন। কারণ তারা মনে করেন এতে করে তারা জব এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাবেন।

এদিকে,অনেকেই বিয়ের পর পরই অভিভাবক হয়ে যান। একটা সন্তান পরিবারে আসার পর মূলত সন্তানদের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় এবং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যের মধুর সম্পর্কে তখনি ব্যাপক পরিবর্তন আসে।সন্তানদের নিয়ে অতি ব্যস্ত থাকার কারণে স্বামী-স্ত্রী কেউই একে অপরকে সময় দিতে পারেনা। যার কারণে একের প্রতি অন্যের আগের মত সেই মায়া, ভালবাসা থাকে না। তখনই সেসব পুরুষ বা নারীদের মন বাইরে চলে যায় অর্থাৎ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।


ছবি - depositphotos.com

পরকীয়ার ব্যাপরে ইসলাম কি বলে -

মহানবী (সাঃ) বলেন, " হে লোক সকল তোমরা অবৈধ যৌন মিলনকে ভয় কর। কেননা তার ছয়টি অশুভ পরিণাম রয়েছে। যার তিনটি এ দুনিয়ায় আর তিনটি পরকালে।

দুনিয়াস্থ তিনটি পরিণাম হলো -

১ । শ্রীহীনতা ।
২ । অভাব/দারিদ্রতা।
৩ । জীবনকাল হ্রাস পেয়ে মৃত্যু বরণ।

পরকালের তিনটি পরিণাম হলো –

১। পরম দয়ালূ আল্লাহর ক্রোধ।
২। মন্দ হিসাব.
৩। দোযখের শাস্তি "।(শুয়াবুল ঈমান, বায়হাকী; আল জামিউল কাবির সুয়ূতী)।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেন,"আমার উম্মত ততদিন ভালই থাকবে যতদিন পর্যন্ত তাদের মধ্যে ব্যাভিচার ও অবৈধ যৌন সম্ভোগ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে না পড়বে। আর যখন ব্যাভিচার তাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করবে তখন তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি গ্রাস করবে" । (মুসনাদে আহমাদ)। পরকীয়াকারী শারীরিকভাবেও বিভিন্ন ক্ষতির শিকার হয়। স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার দেহে ছড়িয়ে পড়ে এইডস, সিফিলিস, প্রমেহ, গনোরিয়া, হৃদরোগ জাতীয় মরণব্যাধি। বর্ণিত ব্যাধি গুলোর প্রত্যেকটির চুড়ান্ত পরিণাম মৃত্যু।

পরকীয়া কিভাবে রোধ করা যায় -

বর্তমানে আমরা কেউ ভেবে দেখিনা বা দেখতে চাইনা এ সামাজিক বিপর্যয়ের ও এই অসামাজিক কাজের উৎস কোথায়? এর মূল উৎস পর্দাহীনতা ও নগ্নতা । তাই কল্যাণের ধর্ম ইসলাম সেই উৎসটাই উপড়ে ফেলতে চেয়েছে। তাই পুরুষকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে দৃষ্টি অবনত রাখতে আর নারীকে বলেছে দৃষ্টি অবনত রাখার পাশাপাশি দৈহিক সৌন্দর্যকে ঢেকে রাখতে এবং উভয়কে কঠোর ভাবে নির্দেশ দিয়েছে শরীয়ত সমর্থিত পথ ও পদ্ধতি অনুসরন করে চলতে এবং নারীকে বেগানা পুরুষের সামনে নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে ও পর্দা ছাড়া বাইরে না যেতে।


ছবি - amaliah.com

ইসলাম নর-নারী উভয়কে পর্দা রক্ষা করে চলতে বলেছে। আমাদের সমাজের অনেকের ধারণা, পর্দার বিধান শুধু নারীর জন্য। এ ধারণা ঠিক নয়। পুরুষের জন্যও পর্দা অপরিহার্য। তবে উভয়ের পর্দার ক্ষেত্রে পার্থক্য আছে। যার জন্য যে শ্রেণির যে পর্দা উপযোগী, তাকে সেভাবে পর্দা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ধর্মে।

নারীরা বাইরে বের হওয়ার সময় নিজের পর্দা রক্ষা করে বের হবে। এতে নারী-পুরুষ থাকবে কলংকমুক্ত আর সমাজ সংসার হবে নির্মল সজিব। এ ব্যাপারে কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে, " তোমরা নারীদের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এই বিধান তোমাদের (পুরুষদের) এবং তাদের (নারীদের) অন্তরের জন্য অধিক পবিত্রতার কার্যকর উপায়"। ( সূরা আহযাব,আয়াত - ৫৩ )।

আল কোরআনে আরো বলা হয়েছে , "হে নবী আপনি আপনার স্ত্রী কন্যা ও মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরে কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"। ( সূরা আহযাব,আয়াত - ৫৯ )।

নর-নারী'দের পর্দা প্রসংগে আল কোরআনে আরো বলা হয়েছে, " মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে ; এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত। আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। আর তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তবে যা সাধারণত প্রকাশ হয়ে থাকে। আর তারা তাদের গলা ও বুক যেন মাথার কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীরা , তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে ফিরে আস, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার " ।(সূরা নূর- ৩০-৩১)।

এখানে মুমিন নারী-পুরুষ উভয়দেরকেই বলা হয়েছে, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে।কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার যত পন্থা আছে, সবগুলো থেকে যৌনাঙ্গকে সংযত রাখা। এ আয়াতের উদ্দেশ্য অবৈধ ও হারাম পন্থায় কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা এবং তার সমস্ত ভূমিকাকে নিষিদ্ধ করা। তন্মধ্যে কাম-প্রবৃত্তির প্রথম ও প্রারম্ভিক কারণ হচ্ছে - দৃষ্টিপাত করা ও দেখা এবং সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে ব্যভিচার। এ দু'টিকে স্পষ্টতঃ উল্লেখ করে হারাম করে দেয়া হয়েছে।


ছবি - stayathomemum.com.au

লিভ টুগেদার কি -

লিভ টুগেদার একটি ইংরেজি শব্দ যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় একসাথে থাকা। কিন্তু লিভ টুগেদার শব্দটিকে আমাদের সমাজে বিশেষ অর্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড বিয়ের আগে যখন স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় একসাথে থাকে তখন তাকে লিভ টুগেদার বলে।এটি সাধারণত অবিবাহিত ছাত্র-ছাত্রী বা চাকরিজীবীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি আমাদের সমাজে নিষিদ্ধ। তবে পাশ্চাত্য দেশগুলোতে এই রীতিটি বেশ চালু রয়েছে। বিয়ের আগে বয়ফ্রেন্ড গা্র্লফ্রেন্ড একসাথে থাকতে শুরু করে। তাদের ধারণা একটি মানুষের সাথে আজীবন থাকার উদ্দেশ্যেই বিয়ে করা হয়ে থাকে। কিন্তু মানুষটির সাথে মনের মিল হবে কি না তা না হঠাৎ করে বিয়ে করে বা বাহির থেকে বোঝা যায় না। তাই বিয়ের আগেই তারা প্রিয় মানুষটির সাথে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলে। মনের মিল হয়ে গেলে তারপরে তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। পাশ্চাত্য দেশগুলোতে এমনও দেখা গেছে যে ছেলেমেয়েসহ তারা বিয়ের আসরে বসেন। নাউজুবিল্লাহ !

নর-নারী কেন লিভ টুগেটারের প্রতি ঝুকছে বা কেন জড়িয়ে পড়ছে এ অনৈতিক-অসামাজিক সম্পর্কে

অনেক সময় একত্রে চাকরি করতে গিয়ে বা পড়াশোনা করতে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে দুজনের দুজনকে হয়ত ভালো লাগে। কিন্তু উভয়েরই হয়ত পরিবার আছে , আছে সামাজিক-পারিবারিক অনেক দায়িত্ব, তবে মানুষমাত্রই আছে যৌন চাহিদা। নানা কারনে তাদের পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব হয়না আবার যৌন চাহিদাও অস্বীকার করতে পারেনা। এ কারনেও ছেলে-মেয়ে একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় নিজেদের ।

আবার একটি ছেলে ও একটি মেয়েকে আলাদা আলাদা থাকতে দুজনেরই অনেক খরচ হয় । অনেক সময় জীবনযাত্রার খরচ কমাতেও উভয়ে একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিয়ের পরপরই একজন ছেলে বা মেয়ের স্বামী-স্ত্রী হিসাবে যাত্রা শুরু হয়। এখন বিয়ের পরে ভবিষ্যতে দম্পতি হিসাবে তারা কেমন হবে, তাদের মাঝে বোঝাপড়া কেমন হবে, তা জানার জন্য এসব ভেবেও আবার অনেক একসঙ্গে থাকতে শুরু করে।

আবার অনেকে বিয়েই করতে চায় না দায়িত্ব ও সমাজিকতা রক্ষা করার ভয়ে। তখন তারা বেছে নেয় এ ধরনের আপাত ঝামেলাহীন তবে সমাজ বিধ্বংসী এ পথ।


ছবি - livingwellmedicalclinic.com

লিভ টুগেটারের ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন কী বলে?

বাংলাদেশের আইনে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের লিভ টুগেদার (একসাথে বসবাস) করার পক্ষে বা বিপক্ষে কোন পরিষ্কার আইন নেই । বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোন নারী-পুরুষ যদি একসঙ্গে বসবাস করতে যায়, তাহলে তাকে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিবাহিত হতে হয়। যেমন মুসলিম আইন অনুযায়ী তাকে রেজিস্ট্রেশনও করতে হবে। কিন্তু কেউ রেজিস্ট্রেশন না করেও ধর্মীয় বিধান মেনে সাক্ষীর উপস্থিতিতে যদি বিয়ে করে, সেটাও গ্রহণ করা হয় বা সামাজিক বৈধতা লাভ করে

বিবাহিত ব্যক্তি যদি অন্যকোন বিবাহিত বা অবিবাহিত ব্যক্তির সঙ্গে লিভ টুগেদার করে, সেটা অবশ্য নানারকম জটিলতা ও আইনের মধ্যে পড়ে এবং দেশের প্রচলিত আইনে নানা রকম শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু বিবাহ ব্যতীত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে যদি একত্রে বসবাস করে, সেক্ষেত্রে দেশের আইনে সরাসরি বা পরিষ্কারভাবে কিছু বলা নেই তবে প্রত্যেকটা ঘটনার ক্ষেত্রে আসলে ফ্যাক্টচুয়ালি ডিপেন্ড করবে। অনেক ক্ষেত্রে হয়তো পাবলিক ইনডিসেন্সি মনে করা হতে পারে। তবে সরাসরি কোন আইনের ধারায় সরাসরি কিছু করার সুযোগ নেই যদিনা উভয়ের কেউ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। অবশ্য এটাও ঠিক, এভাবে একত্রে বসবাস করলে সঙ্গীর প্রতি একটা অধিকার তৈরি বোধ তৈরী হয় তবে তার কোন সামাজিক গ্রহনযোগ্যতা বা ভবিষ্যত নেই যদিনা তারা উভয়েই সেই সম্পর্ককে বয়ে নেয়।


ছবি - womenshealthmag.com

লিভ টুগেদার / ব্যভিচারের ব্যাপরে ইসলাম কি বলে -

ইসলাম এবং মুসলমানদের জন্য এ জাতীয় কাজ চরম ঘৃণ্য হারাম এবং এর জন্য ধর্মে চরম শাস্তির কথা বলা আছে। বিয়ে বহির্ভূত যৌন সম্পর্ককে ইসলামী পরিভাষায় যিনা (ব্যভিচার) বলা হয়, যা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এ ব্যাপারে হুশিয়ারী উচচারন করে বলেছেন,"তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ"। (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত - ৩২)।

"ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না" - এই বিধান ব্যক্তির জন্য যেমন প্রযোজ্য, তেমনি সমাজের জন্যও এটি সমভাবে প্রযোজ্য। ব্যভিচার এতটাই অশ্লীল কাজ যে তা মানুষের লজ্জা-শরম ও মনুষ্যত্ব কেড়ে নেয়। আবু উমামা (রাঃ) বলেন, এক যুবক রাসুল (সাঃ) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে ব্যভিচার করার অনুমতি দিন। এটা শুনে চতুর্দিক থেকে লোকেরা তার দিকে তেড়ে এসে ধমক দিল এবং তাকে চুপ করতে বলল। তখন রাসুল (সাঃ) তাকে কাছে ডেকে নিয়ে বলেন, বসো। যুবকটি বসলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাকে বলেন, তুমি কি এটা তোমার মায়ের জন্য পছন্দ করো ? যুবক জবাব দিল, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন, আল্লাহর শপথ, তা কখনো পছন্দ করি না।

তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, তেমনি মানুষও তাদের মায়েদের জন্য সেটা পছন্দ করে না। তারপর রাসুল (সাঃ) বলেন, তুমি কি তোমার মেয়ের জন্য তা পছন্দ করো ? যুবক জবাব দিল, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন, আল্লাহর শপথ, তা কখনো পছন্দ করি না। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, অনুরূপভাবে মানুষ তাদের মেয়েদের জন্য সেটা পছন্দ করে না। তারপর রাসুল (সাঃ) বলেন, তুমি কি তোমার বোনের জন্য সেটা পছন্দ করো ? যুবক জবাব দিল, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন, আল্লাহর শপথ, তা কখনো পছন্দ করি না। তখন রাসুল (সাঃ) বলেন, তদ্রুপ লোকেরাও তাদের বোনের জন্য তা পছন্দ করে না। (এভাবে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তার ফুফু, ও খালা সম্পর্কেও অনুরূপ কথা বলেন আর যুবকটি একই জবাব দিল) এরপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তার উপর হাত রাখলেন এবং বলেন, " হে আল্লাহ, তার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, তার মনকে পবিত্র করুন এবং তার লজ্জাস্থানের হেফাজত করুন"। বর্ণনাকারী সাহাবি বলেন, এরপর এ যুবককে কারো প্রতি তাকাতেও দেখা যেত না। (মুসনাদে অহমাদ - ৫/২৫৬, ২৫৭)।

এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ আরো বলেন , " আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অপর কোন ইলাহের ইবাদত করে না, আল্লাহর নিষিদ্ধকৃত প্রাণী যথার্থ কারণ ব্যতীত হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি এসব কাজ করে, সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে হীন অবস্থায় চিরস্থায়ী হবে। তবে তারা নয়- যারা তাওবা করে এবং সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলো ভালকর্ম দিয়ে পরিবর্তন করে দেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াশীল"।সূরা আল-ফুরকান (৬৮ - ৭০)।

অনেকে ভাবতে পারে, কোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্কে না জড়িয়ে একসঙ্গে থাকলে তা ব্যভিচারের পর্যায়ে পড়বে না বা গুনাহ হবে না। এটা ঠিক নয়। শয়তান কোনো না কোনোভাবে তাদের ব্যভিচারে লিপ্ত করবেই। শারীরিক সম্পর্কে কেউ না জড়ালেও অন্তত তারা একসঙ্গে থাকার দরুন, দেখা হবে, কথা হবে, আড্ডা হবে, গান হবে। এগুলোর মধ্যেও রয়েছে ব্যভিচারের গুনাহ। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, " চোখের ব্যভিচার হলো (বেগানা নারীকে) দেখা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো (তার সঙ্গে) কথা বলা (যৌন উদ্দীপ্ত কথা বলা)"। (বুখারি শরীফ, হাদিস নং - ৬২৪৩)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, " দুই চোখের যিনা (বেগানা নারীর দিকে) তাকানো, কানের জিনা যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের জিনা আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের জিনা (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করা আর পায়ের জিনা ব্যভিচারের উদ্দেশে অগ্রসর হওয়া এবং মনের জিনা হলো চাওয়া ও প্রত্যাশা করা"। (মেশকাত শরীফ, হাদিস নং - ৮৬)।

ব্যভিচারের ব্যাপারে কঠোর শাস্তির কথা উচচারন করে আল কোরআনে আরো বলা হয়েছে, " ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়কে এক’শ ঘা করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকরীকরণে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবান্বিত না করে। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাক আর ঈমানদারদের একটি দল যেন এদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে"।( সূরা আন নূর , আয়াত - ২)।মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে এসব ঘৃণ্য মহাপাপ থেকে আত্মরক্ষা করার জন্য তওফীক দান করুন।


ছবি - whyislam.org

পরিশেষে, ইসলামের সকল বিধানই মুমিনের জন্য অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক, ঐচ্ছিক কোন বিষয় নয়। এখানে মন চাওয়া , না চাওয়া ভাল লাগা আর না লাগার কোন স্থান নেই। যে মেনে নেবে সে ইহকাল ও পরকালে নিরাপদ থাকবে আর যে মানবেনা তার কর্মের ফল সে ভোগ করবে দুনিয়া ও আখেরাতে।

অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশেও যেহেতু এই সমস্যা ব্যাপক ভাবে বেড়ে গিয়েছে, সুতরাং এগুলো দ্রুত প্রতিকারও করতে হবে। একমাত্র মানুষ নিজেই পারেন নিজের জীবনের এই সব সমস্যার সমাধান করতে। এসব বিষয়ে আবেগ দিয়ে নয় বরং বিবেক দিয়ে প্রতিটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সমাজ এবং পরিবার সবারই উপরের উল্লিখিত বিষয় গুলির ওপর বিশেষ জ্ঞান ও চিন্তা-ভাবনা রাখতে হবে। তবেই হয়তো এই লিভ টুগেদার-পরকীয়া নামক অভিশাপ কে সমাজ থেকে দূর করা সম্ভব হবে। পারবারিক সহিংসতা,তালাক এবং আরো অনেক পাপের বেশির ভাগ সংঘটিত হয় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে। তাই প্রতিটি মুমিনের জন্য আবশ্যক, এই জঘন্য অপরাধগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং পরিবার-পরিজনদের প্রতিও সজাগ দৃষ্টি রাখা যাতে নিজের পরিবারের কেউ ব্যক্তি স্বাধীনতার অপব্যবহার করে এ জাতীয় ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে না পরে । মহান আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে এই জঘন্য অপরাধগুলো থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন।

তথ্য সূত্র : দৈনিক সংবাদপত্র, হাদীস এবং আল কোরআন।
=========================================================
পূর্ববর্তী পোস্ট -

মানব জীবন - ২০ -"সমকামীতা বা সমকামী বিয়ে" Click This Link
মানব জীবন - ১৯ - " আত্মসম্মান-নীতি-নৈতিকতা " Click This Link
মানব জীবন - ১৮ - " ধর্মহীনতা " Click This Link
মানব জীবন - ১৭ - " ধৈর্য " Click This Link
মানব জীবন - ১৬ -" সততা " Click This Link
মানব জীবন - ১৫ - " লজ্জা " Click This Link
মানব জীবন - ১৪ - "পর্দা " Click This Link
মানব জীবন - ১৩ - "ধর্ম " Click This Link
মানব জীবন - ১২ " সহ শিক্ষা " Click This Link
মানব জীবন - ১১ " শিক্ষা " - Click This Link
মানব জীবন - ১০ "পরিবার " - Click This Link
মানব জীবন - ৯ "বিবাহের পরে" - Click This Link
মানব জীবন - ৮ " মানব জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য " - Click This Link
মানব জীবন - ৭ " তালাক " - Click This Link
মানব জীবন - ৬ "দেনমোহর - স্ত্রীর হক" - Click This Link
মানব জীবন - ৫ "বিবাহ" - Click This Link
মানব জীবন - ৪ " মাতৃত্ব " - Click This Link
মানব জীবন - ৩ Click This Link
"নারী স্বাধীনতা বনাম নারী(জরায়ু)'র পবিত্রতা "
মানব জীবন - ২ " মাতৃগর্ভ (জরায়ু)"- Click This Link
মানব জীবন - ১ "মানুষের জন্ম প্রক্রিয়ার ইতিকথা"- Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১:১২
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে কোন বনের হরিণ ছিলো আমার মনে-১৯

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৩৫



আজকাল আমি রোজ বিকেলে সিদ্দিকা কবিরের বই দেখে দেখে ডালপুরি, সিঙ্গাড়া, সামুচা বানাই। বাবার বাড়িতে আমি কিছুই রান্না শিখিনি, এমনকি ভাতও টিপ দিয়ে বুঝতে শিখিনি সিদ্ধ হলো নাকি হলো না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নূর মোহাম্মদ নূরু ভাইয়া আর কখনও ফিরবেনা আমাদের মাঝে

লিখেছেন শায়মা, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ২:০২


নূর মোহাম্মদ নূরু
আমরা কিছু সামু পাগল আছি যাদের সামুতে না লিখলে কিছুই ভালো লাগে না। নুরুভাইয়া মনে হয় ছিলেন সেই দলে। প্রথমদিকে উনাকে ফুল ফল ও মনিষীদের জীবন নিয়েই লিখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোক সংবাদঃ ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূর আর আমাদের মাঝে নেই।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ৩:০৪



সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাতে চাই যে, সামহোয়্যারইন ব্লগের ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূরু (নূর মোহাম্মদ বালী) আর আমাদের মাঝে নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। গত ২৯ অক্টোবর রাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেকোনো মৃত্যু: বড় কষ্টের, বড় বেদনার.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪৯

যেকোনো মৃত্যু: বড় কষ্টের, বড় বেদনার.....

ছড়াকার সাংবাদিক ব্লগার বন্ধু নুর মোহাম্মদ নুরু ভাইর চলে যাওয়া খুব কষ্টের। আরও বেশী কষ্ট পেয়েছি ব্লগার শায়মার পোস্টে নুরু ভাইয়ের মেয়ের হৃদয়বিদারক লেখা পড়ে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ মাস গত হয়ে যাবার পর?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:২৮





ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করে লিখতে শুরু করলেন, সময় গত হবার পর আপনি পরিচিতি পেলেন, সবাই আপনার পোস্ট, কমেন্ট চায় ; আপনি যথেষ্ট সক্রিয় ব্লগে।হঠাৎ আপনি অসুস্থ হয়ে অনিয়মিত, অসুস্থতায় আপনি মৃত্যুবরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×