somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামুতে ২০০ (দুইশত তম) পোস্ট ও ৪ বছর - " স্মৃতি " - কি যাতনা বিষে,বুঝিবে সে কিসে ------------ দংশেনি যারে।( হিজি :P বিজি - ৩)।

১২ ই অক্টোবর, ২০২৩ সকাল ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উৎসর্গ ও লেখার ধারনা -

১। শায়মা বনি এবং তাহার লেখা "স্মৃতি তুমি বেদনা'' - Click This Link
২। বোন আয়না পুতুল ও তাহার লেখা,"স্মৃতি জাগানিয়া রান্না সমাচার''এর প্রেক্ষাপটে - Click This Link


ছবি - kaliokalam.com

স্মৃতি? আহা!!!!!!!!!!!!!! বড়ই বেদনা-বিধুর(মধুর)। যা আমাদেরকে না চাইতেও ফিরিয়ে নিয়ে যায় জীবনের চলার পথে ফেলে আসা দিনে, মনের অজান্তে। আজকের ঘটিত ঘটনাই আগামীকাল স্মৃতি হয়ে ধরা দেয় আমাদের মনে। জীবনে চলার পথে জীবন ও পরিবেশকে যে সবসময় স্বপ্নপুরী হিসাবে কিংবা নিজেকে সব সুন্দর আনন্দময় ঘটনার সাথেই পাওয়া যায় এবং চলার পথে শুধু সুখ-সাফল্য কিংবা ফুলপরী-লালপরীদের দেখা মিলে এমনও নয়। কারন, জীবনে সাফল্য-আনন্দের সাথে সাথে দুঃখ-ব্যর্থতা যেমন আছে তেমনি আছে ফুলপরী-লালপরীদের সাথে সাথে প্রেতপরীও। আর এই সব আনন্দ-বেদনার সমষ্ঠি মিলেই একেক দিন করে চলে যায় মানুষের জীবন,তৈরী হয় মানব মনে অসংখ্য স্মৃতি'র। যা কখনো আনন্দের-ভালোলাগার, আবার কখনো বেদনার ও হাতাশার।

স্মৃতির কথা যখনই মনে পড়ে, তখনই আমার মানসপটে ভেসে উঠে পাশের বাড়ীর শ্যামা-মিষ্টি, নাদুস-নুদুস মেয়ে স্মৃতির মুখখানি যে কিনা বুদ্ধ দেব গুহর বাবলির পৌরানিক ভার্সন । যাকে দেখলেই মন অজান্তেই গেয়ে উঠতো, " তুমি তাই, তাইগো --------------- আমারও পরানও যাহা চায়"।

তবে এই লেখার স্মৃতি আমাদের পাশের বাড়ীর মিষ্টি মেয়ে স্মৃতির নয়। এ স্মৃতি হলো সামুতে কাটানো কয়েক বছরের সাথে সাথে আমার জীবনের (ন্যাংটা/শৈশব কাল থেকে আজ পর্যন্ত) কিছু ঘটনা-দূর্ঘটনার সমষ্ঠি যা একেলা থাকলেই ঠেলে বেড়িয়ে আসতে চায় হৃদয় ফুড়ে এবং মনে তখন অনুভব হয় এক অন্যরকম অনুভূতি। আর এই সব স্মৃতিকে নিয়ে কিছুদিন আগেই সামুতে হয়ে গেছে ব্যাফোক :P মার-মার,কাট-কাট প্রতিযোগীতা (সঠিক জানিনা - ফলাফল বের হয়েছিল কিনা) এবং সে সময় কিছু মিছু লিখতে গিয়েও লিখিনি কারন আমার মনে হয়েছে যা আমি লিখেছি তা লেখা (মানসম্মত ) নয়। তারপরও যখন শায়মা বনির লেখা "স্মৃতি তুমি বেদনা" ও বোন আয়না পুতুলের " স্মৃতি জাগানিয়া রান্না সমাচার'' পড়ি এবং তাদের লেখায় মন্তব্য করি তখন মনে হয়েছে বনিদের লেখায় করা মন্তব্য ও আমার ড্রাফটকে কিছুটা ঝালাই করে খুলে দেয়া যায় সামুতে সবার জন্য আমার স্মৃতির জানালা। আর তাইতো খুলে দিলাম মনের (স্মৃতির) জানালা সবার সাথে অনেক অনেক দিন পরে -------------------------- B-))


ছবি - কভার ছবি,সামু @opuroni

ব্লগীয় স্মৃতি - বড়ই টক-ঝাল-মিষ্টি (যার শুরুটা অপু তানভীর ভাইয়ের হাত ধরে )
================================================

খুবই সাধারন একজন মানুষ আমি,পড়া যার নেশা। পড়ার জন্য এবং জানার আশায় জ্ঞানী-গুণীদের মিলনমেলা এই ব্লগে আসা। খুব সম্ভবত ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে দৈনিক ইত্তেফাকের একটা নিউজ পড়ার সময় কোনভাবে (সঠিক মনে নেই ) এই ব্লগে ঢুকা এবং সেই দিন গল্পাকার অপু তানভীর ভাইয়ের দুইটি গল্প পড়তে পড়তে ভাল লাগা (অতিপ্রাকৃত গল্পঃ দ্য গার্ল উইথ দ্য ব্লু ঈগল), লিংক - Click This Link এবং (অতিপ্রাকৃত গল্পঃ শাবকী দেবী), লিংক - Click This Link তারপর ঘোরের মাঝে কয়েকদিনে একটানা অপু তানভীর ভাইয়ের কয়েকশত গল্প একটানা পরে ফেলা(অপু ভাইয়ের শয়ে শয়ে প্রেমের গল্প পড়তে পড়তে একসময় নিজেকে প্রেমিক ভাবা শুরু করি , যদিও তখন নিজের আর প্রেমের বয়স নেই বা ছিলনা। :((। এ সময়টা (অফলাইন পাঠক হিসাবে) আমার সামুর সবচেয়ে সেরা স্মৃতি,যখন পাগলের মত সারাদিন ভাইয়ের লেখা গল্প পড়তাম। অপু তানভীর - সামুতে প্রেমের গল্পের সফল লেখকের বাস্তব জীবনেও প্রেমে সফলতার পাশাপাশি, কামনা করছি একজন ভালো ও সফল মানুষ হিসাবে যাতে আমাদের সকলের স্মৃতিতে বেঁচে থাকেন সবসময়।


ছবি - কভার ছবি,সামু @ sonagaji

চাঁদ গাজী (সামু ব্লগে না থেকেও যিনি ভাল-খারাপ মিলিয়ে বেঁচে আছেন অনেকের স্মৃতিতে এবং সোনাগাজী হিসাবে )
================================================================

সামুর স্মৃতিতে একজন অমলিন হয়ে বেঁচে আছেন তিনি হলেন চাঁদ গাজী ভাই যার অধুনা ভার্সন সোনাগাজী। বাকী ব্লগারদের প্রতি উনার তুচছ-তাচছিল্যপূর্ণ মন্তব্য এবং আরও নানাবিধ কারনে চাঁদ গাজী নিক ব্লগীয় নিয়ম-নীতির আওতায় পড়ে আমাদের স্মৃতির পাতায় স্থান নিয়েছে তথা চাঁদগাজী এখন আমাদের সামুর ইতিহাসের অংশ এবং তাহার পুনর্জন্ম হয়েছে সোনাগাজী নামে। চাঁদগাজীর লেখায় মন্তব্য করার জন্যই মুলতঃ সামুতে ব্লগার হিসাবে নিবন্ধীকরণ করেছিলাম প্রথমে। চাঁদগাজী রুপী সোনাগাজীও নানা কারনে সামু কর্তৃপক্ষের নিয়ম-নীতির বেড়াজাল পেরিয়ে অতিসম্প্রতি মুক্ত ব্লগার হিসাবে আমাদের মাঝে বর্তমান আছেন।যদিও মাঝে মাঝেই ভাই তার পুরনো রুপে ধরা দিতে চান সামুতে, তবে ভাইয়ের প্রতি চাওয়া রইলো ব্লগাীয় নিয়ম-নীতির মাঝে থেকে একজন ভালো মানুষ ও সম্মানীয় ব্লগার হিসাবে বেড়ে উঠার যাতে করে একটা ভাল ইমেজ নিয়ে থেকে যেতে পারেন আমাদের সকলের স্মৃতির মাঝে সামুতে কিংবা সামুর বাইরে। লিংক - https://www.somewhereinblog.net/blog/sonagaji


ছবি - কভার ছবি,সামু@ saimahq

ব্লগার শায়মা বনি - যার আগ্রহ ও অনুপ্রেরনা না পেলে হয়ত লেখার চেষ্টা করাও হয়ে উঠত না -
========================================================

ব্লগার শায়মা - মানুষ গড়ার কারিগর (শিক্ষক),অতীব সুন্দরী বংগললনা,বহু গুনের অধিকারী ও অসম্ভব মেধাবী, হাসিখুশী এবং সুলেখিকা একজন মানবী ব্লগে যার উপস্থিতি অন্যরকম একটি আবহ তৈরী করে। এই বিদূষী বংগলনা - যার সাথে তাহার পোস্টে মন্তব্য করতে করতে পরিচয়। একটা সময় শায়মা বোনের অনুরোধ," ভাইয়া তুমিও কিছু লিখ " এবং তার আগ্রহ ও অনুপ্রেরনায়ই মূলতঃ কিছু লেখার চেষ্টা করা যা দেখতে দেখতে আজ ২০০ (দুইশত) তম পোস্ট। ধন্যবাদ শায়মা বনি, আপনার উৎসাহ-আগ্রহ-অনুপ্রেরণার জন্যই আজ ২০০ তম লেখা এবং আপনি সবসময়ই আমার স্মৃতিতে আছেন - থাকবেন অসম্ভব প্রিয় একজন মানবী হিসাবে। বোন শায়মার "এই বসন্তে আমার গৃহসজ্জা আর আমি আর আমার বাসন্তী শুভেচ্ছা... " লিংক - Click This Link


ছবি - কভার ছবি,সামু@ rimsabrina

বোন রিম সাবরিনা জাহান সরকার - সামুতে যদি নাও থাকি যিনি সবসময়ই থাকবেন আমার হৃদয় মাঝে/স্মৃতিতে -
=================================================================

অসম্ভব মেধাবী ( মেধাবী না হলে জিন প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যায় জার্মানীর মত দেশে ডক্টরেট করতে পারতনা) ও সুলেখিকা যিনি তার ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে জায়গা করে নিতে পারেন অনায়াসে যে কারো হৃদয় মাঝে/স্মৃতিতে। প্রচন্ড মেধাবী,গুনী ও সুলেখিকা এবং বাংলার লেডি বতুতা যার চোখে-লেখায় প্রতিনিয়ত দেখা মিলে ইউরোপের অলিগলি - যিনি একজন স্নেহ-মমতাময়ী মা এবং প্রেমময়ী স্ত্রী । যাকে দেখলে (লেখা পড়লে) মনে আসে সেই কথা - যে রাধে, সে চুলও বাধে। তাহার লেখা - "হঠাৎ স্বর্ণকেশী!" লিংক - Click This Link ,কিংবা "ছিপি বাবার ফুটপাতে" লিংক - Click This Link অথবা যে কোন একটি লেখাই যে কারো হৃদয় মাঝে/স্মৃতিতে জায়গা করে নেবার জন্য যথেষ্ট ।



ছবি - কভার ছবি,সামু@ rajib128

রাজীব নুর তথা ঢাকার বতুতা এবং স্নেহময়ী বাবা - যে কারো হৃদয় মাঝে/স্মৃতিতে জায়গা করে নিতে পারেন অনায়াসে-তাহার সরলতা ও প্রতিনিয়ত লেখনির জন্য
=================================================================

দেশের সবাই যখন সুযোগ পেলেই দেশ ছেড়ে যাবার এবং দেশের নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে সোচচার হয়, সেখানে পজেটিভ মানষিকতার এই ভাই প্রতিনিয়ত তারা লেখার মাধ্যমে তুলে ধরছেন দেশের পজেটিভ সব জিনিষগুলি (ঢাকার জ্যাম-ঘাম এড়িয়ে পায়ে হেটে এবং সকল সমস্যাকে পায়ে ঠেলে)। পাশাপাশী যেখানে বর্তমানে মানুষের পরিবার এবং তার অন্যতম অনুষংগ (স্বামী-স্ত্রী-সন্তান)'দের নিয়ে হাজারো অভিযোগ, সেখানে ভাই একজন প্রেমিক স্বামী ,আদর্শ বাবা হিসাবে স্বমহিমায় ভাস্বর একজন মানুষ।যিনি আমার খুবই প্রিয় একজন ব্লগার যার চোখে এবং লেখায় আমি ঢাকায় না থেকেও ঢাকার অলিগলি ঘুরে বেড়াই । যার লেখার মাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়ত তাহার স্ত্রীর প্রতি নিখাদ ভালবাসার পরিচয় পাই এবং একজন স্নেহময়ী পিতার আদরের কন্যাদের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসার সাথে সাথে চোখের সামনে কন্যাদের বেড়ে উঠার ছবি দেখতে পাই। মহান আল্লাহপাক রাজীব নুর ভাইয়ের কন্যাদের ভাল মানুষ হিসাবে কবুল করুন এবং আমাদের সবার স্মৃতিতে ভাই বেঁচে থাকুন একজন ভাল মানুষ হিসাবে সামুর বাইরেও।রাজীব নুর ভাইয়ের,"প্রিয় কন্যা আমার" লিংক - Click This Link


ছবি - কভার ছবি,সামু@ sherzatapon

শেরজা তপন (শের যা :P বাঘ যা) যিনি আসলেই শের (বাঘ)!! তার লেখনিতে এবং যিনি অনেক অনেক দিন বেঁচে থাকবেন তার যে কোন একটি লেখা পড়লেই আমাদের স্মৃতিতে -
====================================================================

শেরজা তপন ভাই, যার লেখার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ঘুরে বেরিয়ে আসা যায় জার সাম্রাজ্যের (রাশিয়া ) অলিগলি এবং যার লেখায় নিজেকে বাবনিক হিসাবে ভেবে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও আমাদের সবাইকে নিয়ে যায় অতীতে এবং যে কোন বয়সের মানুষকে টাইম মেশিনের মত ফিরিয়ে নিয়ে যায় কৈশোরউত্তীর্ণ বা সদ্যযৌবনপ্রাপ্ত বয়সে যেখানে নিজেকে বাবনিক কল্পনা করে ভাললাগায় বুদ হয়ে আবারো /অভি/বাবলি'র খোঁজে বেরিয়ে যেতে মন চায় নর-নারী নির্বিশেষ।যদিও বয়সের কারনে হয়ত এখন শরীর এবং হৃদয় কোনটাই সেইসব হ্যাপা সামলানোর অবস্থানে নাও থাকতে তারপরও, "এই মন চায় যে মোর" - স্মৃতি হিসাবে যা অতুলনীয়।পাশাপাশি যে কোন বিষয়ে ভাইয়ের লেখায় থাকে বস্তুনিষ্ঠতার সাথে সাথে জানা-বুঝার অনেক উপকরন,যা আমাদের চলার পথের পাথেয় হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। ভাই আছেন/থাকবেন আমার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে সবসময়। - লিংক - Click This Link


ছবি - কভার ছবি,সামু @ mas1002001

সাসুম - যার খুব বেশী লেখা না পড়লেও শুধু মন্তব্যের কারনে রয়ে যাবেন স্মৃতিতে সবসময়
============================================================

যদিও সামুতে সাসুম ভাইয়ের লেখা খুব বেশী নেই (প্রায় ১৪ বছরে মাত্র ৯ টি), তবে নানা কারনেই ভাই যে কারো স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকতে পারেন। বিশেষ করে তাহার জীবন দর্শন,লেখায় তাহার প্রাণিধানযোগ্য তথ্যবহুল মন্তব্যের জন্য।তাহার করা প্রতিটি মন্তব্যই লেখকের জন্য বিশেষ কিছু বলে বিবেচিত হতে পারে। ভাই যদিও এখন সামুতে নিয়মিত নন তারপরও ভাই যেখানে থাকুন-ভালো থাকুন এই আশাবাদ সবসময় এবং তিনি থাকবেন আমার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে সবসময়। লিংক - https://www.somewhereinblog.net/blog/mas1002001

ব্লগীয় স্মৃতিতে যে দুটি প্রশ্ন প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায় আমাকে -
=====================================

সামুতে পঠিত অনেকের লেখাই মনের মাঝে দাগ কাটা তথা স্মৃতিতে আছে অমলিন হয়ে তবে এর মাঝেও দুটি প্রশ্ন তথা দুজন মানব-মানবীকে আমি খুজে বেড়াই প্রতিনিয়ত এবং দুটি প্রশ্ন সবসময় ঘুড়ে বেড়ায় মনে। তা হলো -


ছবি - কভার ছবি,সামু @ samupagla007

১। সামু পাগলা ০০০৭ @ তথা সামু পাগলা বোন কোথায় হারিয়ে গেল? আড্ডা ঘর বন করে এবং আড্ডা ঘরের চাবি কার নিকট? লিংক - Click This Link


ছবি - কভার ছবি,সামু @ biplobdvm06

২। বিপ্লব06 - তথা বিপ্লব ভাই কোথায় হারিয়ে গেল দেশে আসার পথে তুরস্ক থেকে এবং এন ইডিয়টিক ইন ম্যারিজ তথা ভাই কি অবশেষে বিয়ে করতে পেরেছিলেন? লিংক - Click This Link


সামুতে ২০০ তম লেখার মাঝে, যে লেখা সবচেয়ে বেশী স্মৃতিময় বা যেই লেখার পর সবচেয়ে বেশী সমস্যা ফেস করেছিলাম -
=====================================================================

সামুতে আমি মূলতঃ মানব জীবন সিরিজটা লেখার ইচছাতেই লেখা শুরু করেছিলাম। পরে আল কোরআন , ঈমান-আমল এবং সমসাময়িক বিশ্ব নিয়েও লিখা শুরু করি নিজের পঠিত বিষয় ও আগ্রহের কারনে। আর এসব লেখায় আমি আমি সবসময় তাই লেখতে চেয়েছি, যা আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি এবং যা আমাদের পরিবার-সমাজ-কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ধর্ম ও সামাজিকতার সাথে মানানসই তথা এর সবগুলো দিক দিয়েই যার গ্রহণযোগ্যতা আছে । আমি সবসময়ই চেষ্টা করেছি যে কোন ঘটনা কিংবা লেখায় সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ থেকে সঠিক জিনিষটা তুলে ধরতে,সকল প্রকার রাজনীতি-দলা-দলি,কঠোরতা এড়িয়ে চলতে এবং সবার মন্তব্যের যথাযথ জবাব দিতে। এসব কারনেই হয়ত হয়ত এখন পর্যন্ত কারো সাথে বড় কোন সমস্যা তৈরী হয়নি তারপরও যখন মানব জীবন - ৩ - "নারী স্বাধীনতা বনাম নারী(জরায়ু)'র পবিত্রতা " - কোনটা নারীর জন্য অধিক সম্মান ও মর্যাদার এবং মানব জাতির জন্য কল্যাণের? লিংক - Click This Link এই লেখা লিখি তখন কিছু সমস্যারও মুখোমুখি হয়েছিলাম এবং নানা কারনে খুব ভয়েও ছিলাম । যদিও সেসব আল্লাহর রহমেতে কাটিয়ে উঠতে পেরেছি কোন বড়রকম ঝামেলা ছাড়াই যা এক অন্যরকম স্মৃতি।

আরও যে সব ব্লগার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে-থাকবে আমৃত্যু -
========================================

উপরে উল্লিখিত ব্লগারগণ ছাড়াও আরো অনেক অনেকই আছেন স্মৃতিতে তবে লেখা বড় হয়ে যাবে তাই তাদের সবার কথা বিশদ লেখা সম্ভব না হওয়ায় দুঃখিত এবং ক্ষমা প্রার্থী। তাদের মাঝে ব্লগার এবং বোন আয়না পুতুল - ইন্দ্রনীলা - ইরাবতী - ওমেরা - কামরুননাহার কলি - কাজী ফাতেমা ছবি - কবিতা পড়ার প্রহর - করুণাধারা - জুন - তামান্না তাবাসসুম - নান্দনিক নন্দিনী - ফাহমিদা বারী - ফারহানা শারমিন - মনিরা সুলতানা - রামিসা - রোকসানা লেইস - সন্ধ্যা প্রদীপ - সোহানী - সামিয়া - সোনালী ডানার চিল - সন্ধ্যা রাতের ঝিঁঝিঁ এবং

ভাই অনল চৌধুরী - - অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য - আখেনটান - আলমগীর সরকার লিটন - আবদুর রব শরীফ - আহমেদ জী এস - আরইউ - আমি সাজিদ - ইসিয়াক - ঋণাত্মক শূণ্য - এ আর ১৫ - কলাবাগান১ - কল্পদ্রুম - কামাল ১৮ - খায়রুল আহসান - গিয়াস উদ্দিন লিটন - গেছো দাদা - ঘুটুরি - জুল ভার্ন - জ্যাকেল - জটিল ভাই - ঠাকুরমাহমুদ - ডঃ এম এ আলী - ঢাবিয়ান - নতুন - নতুন নকিব - নয়া পাঠক - নেওয়াজ আলি - নিমো - নীল আকাশ ৩৯ - নীল আকাশ - নূর মোহাম্মদ নূরু - নিবর্হণ নির্ঘোষ - প্রামানিক - পদ্মপুকুর - প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন - বিমর্ষ চিন্তুক - বিএম বরকতউল্লাহ - ব্লগার_প্রান্ত - বিদ্রোহী ভৃগু - ভূয়া মফিজ - মঞ্জুর চৌধুরী - মোঃরাশেদুজ্জামান রাশেদ - মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন - মেরুভল্লুক - মরুভূমির জলদস্যু - মোহাম্মদ গোফরান - মোঃ মাইদুল সরকার - মহাজাগতিক চিন্তা - রবিন.হুড - রানার ব্লগ - রূপক বিধৌত সাধু - শ্রাবণ আহমেদ - শাহ আজিজ - শিশির আহমেদ শিশির - শূন্য সারমর্ম - সাহাদাত উদরাজী - সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই - সত্যপথিক শাইয়্যান - সাদা মনের মানুষ - সাহাদাত উদরাজী - সানাউল্লাহ সাগর - সাসুম - সাড়ে চুয়াত্তর - সাকিবুল ইসলাম সাজ্জাদ - সেলিম আনোয়ার - হাসান কালবৈশাখী - হাবিব সহ আরো অনেকেই আছেন/থাকবেন স্মৃতিতে অমলিন হয়ে সব সময় ব্লগে কিংবা ব্লগের বাইরেও।

আর এত সব কিছু দেখতে দেখতে এবং জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেড়িয়ে প্রায় ৮ বছর হয়ে গেল সামুতে (যদিও নিবন্ধিত ব্লগার হিসাবে আমার সময় ৪ বছর )। আর এই দীর্ঘ সময়ের মাঝে নানা ঘটনা-দূর্ঘটনা,আনন্দ-বেদনার স্মৃতি মিলিয়ে আজ আমার ২০০ তম পোস্ট। কি বলব , বলার কিছু নাই। শুধু বলব - আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, আমার মত একজন সাধারন মানুষকে জ্ঞানী-গুনীদের মিলনমেলা এই সামুতে এতটা সময় সহ্য করা ও জায়গা দেয়ার জন্য এবং আমার এইসব হিজি :(( বিজি লেখা পড়ার জন্য।

===================================================================
প্রাপ্তবয়স্ক ও ব্লগীয় স্মৃতি থেকে বেরিয়ে এবার চলুন ঘুরে আসি জীবনের বেশীরভাগ সময় চলে যাওয়া/ফেলে আসা আমার ন্যাংটা কাল থেকে শুরু করে শৈশব-কৈশোরকালীন কিছু স্মৃতিময় ঘটনা থেকে -
===================================================================


ছবি - amightygirl.com

১। অংক ভীতি ও আমার জীবনের পরিণতি -

পরিবারের সকল সদস্য শিক্ষিত হওয়ার সুবাদে মোটামুটি সবাই মেধাবীই ছিল কাকা-ফুফু-ভাই-বোনেরা। আর তাদের মাঝে আমিই ছিলাম এক হতভাগা যার ততটা মেধা কখনোই ছিলনা। আর তাইতো লেখা-পড়ায় অনীহার পাশাপাশি অংক ভীতি ছিল আমার সব সময় সেই শৈশব কাল থেকেই। যদিও প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উঠেছিলাম প্রথম হয়ে এবং সেই ধারা সবসময়ই ছিল প্রাথমিক-উচ্চ বিদ্যালয়ে (মোটামুটি প্রথম দিকেই থাকতাম সবসময়)। দ্বিতীয় শ্রেণীতে ক্লাস শুরুর কয়েকদিন পরেই অংক ক্লাসে শামসু স্যার (খুব রাগী ছিলেন এবং অংক না পারলে পেটাতেন ইচছামত বাঁশের কঞ্চি দিয়ে। স্যার এখন মৃত - মহান আল্লাহপাক উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন ) ২৮ কে ২ দিয়ে ভাগ করতে দিয়েছিলেন। আমি পারিনি এবং আমাদের ক্লাসে স্যারের মেয়েও পড়ত সেও পারেনি। সাথে সাথে আমাদের মত আরো অনেকেই সেইদিন পারেনি সেই কঠিন X(( ভাগের (অংক) সমাধান করতে। আর তাইতো আমাদের সবার কাপালে জুটেছিল বাঁশের কঞ্চির সীমাহীন বারি এবং স্যারের মাইরের প্রভাবে সেদিন দুইজন ক্লাসে শিসু (পেসাব) ও করে দিয়েছিল । তার পর থেকেই কিনা জানিনা, সব সময় আমার মনে হত আমি অংকের কিছুই বুঝিনা। আর তাইতো দশম শ্রেণীতেও আমাকে (a+b)2 এর সূত্র না জানার অপরাধে কান ধরে high bench এর উপর দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে। যদিও কখনো কোন শ্রেণীতেই অংকে ফেল করিনি এবং এসএসসি তে ৬২ এর জবাব দিয়ে ৬১ পেয়েছিনু ;) তারপরেও বানরের তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উঠা-নামা কিংবা চৌবাচচা খালি-ভরার সমাধানের চেয়ে আমার সহজ নিকট সহজ মনে হত যে কোন গাছ বেয়ে উঠা তা সে বাঁশ-আম-জাম-কাঠাল-পেয়ারা-নারিকেল-তাল-শিমুল,মান্দার কিংবা কলাগাছ যাই হোক না কেন। আর এই অংক ভীতির কারনেই এইচ এস সি তে আমি বিজ্ঞান গ্রুপে ভর্তি হতে চাইনি তবে কাকা (চাচা)'র জোড়াজুড়িতে ভর্তি হই (তাহার ভাষায় বিজ্ঞান না পরলে আমার জীবন চলবেই :(( না ) এবং এক বছর ক্লাস করার পরে বিজ্ঞান পড়েলেখায় কোন টান অনুভব না করার কারনে, এক বছর গ্যাপ দিয়ে আবার মানবিকে ভর্তি হয়েছিলাম (কারন - পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং গণিত আমাকে সেভাবে কখনোই টানত না। যদিও ভাল মার্কস পেয়েই ও পাস করেই প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হয়েছিলাম ) এবং এই ক্লাসগুলো আমার জন্য খুবই পীড়াদায়ক ছিল। অথচ আমাকে টানত বাংলা কিংবা ইংলিশ অথবা মানবিকের ক্লাস যেখানে ছিল ছেলে-মেয়ের বিশাল সমারোহের সাথে সাথে প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর ক্লাসের পরিবেশ।ছিল আড্ডা-মাস্তির অবারিত সুযোগ,আর তাইতো আমি বিজ্ঞানের নিরস ক্লাস ছেড়ে দিয়ে গিয়ে বসে থাকতাম মানবিকের ক্লাসে যেখানে ছিল প্রাণ এবং আমার জান-প্রাণ (crush) দুটোই )।পড়া-শোনাকালীন সময়ে গণিত ভীতি থেকে গণিতকে আমি ছেড়েছিলাম কিন্তু জীবনের চলার পথে গণিত আমাকে এখনো ছাড়েনি। আর তাইতো,এখন জীবন চলছে গণিতের উপরই ভর করে (হিসাব বিভাগে কাজ করে)। যদিও আমি এখনো বুঝতে পারিনি বানরের তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উঠা-নামা কিংবা চৌবাচচা খালি-ভরার সমাধান কি কাজে লাগছে আমাদের জীবনে?


ছবি - bigstockphoto.com

২। কলিতেই ঝড়ে যাওয়া প্রেম-(ভাল লাগা, প্রেম নয়) ন্যাংটা কালেই প্রেমে পড়া এবং :P ছ্যাকা খেঁয়ে বেকা হওয়া।
=====================================================================

তখন পড়ি দ্বিতীয় শ্রেণীতে । স্কুল বন্ধ ছিল খুব সম্ভবতঃ গ্রীষ্মকালীন তথা আম-কাঠালের। আমার মেঝ ফুফু তখন চাকুরী করেন বার্ডে (বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি - কোটবাড়ী , কুমিল্লায়)। ফুফুর বাচচা (মেয়ে) হওয়ার সুবাদে বাড়ী থেকে দাদা-দাদী যাবে ফুফুকে দেখতে। তারা আরো দুই গ্যাদা-গ্যান্দীর সাথে সাথে আমাকেও নিয়ে যায় ফুফুর বাসায়। সেখানে গিয়ে আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করি একঝাক ছোট ছোট বাচচা পরীকে (আগেই আমার ফুফুর খুব সুন্দরী দুই মেয়ে প্রায় আমার সমবয়সী , পাশাপাশি আশে-পাশের ফ্ল্যাটেও ছিল আরো ৩/৪ জন বাচচা পরি )। এত সব বাচচা হুর-পরির মাঝে আমি একাই জিনের ;) বাচচা বর্তমান থাকায় সেখানে আমার ব্যাফোক চাহিদা তৈরী হয়। গ্রামের ছেলে হওয়ার পরেও দেখতে-শুনতে কিছুটা গুলু-মুলুর সুবাদে ও চ্যাংডামীর উপর ডক্টরেট থাকায়,নানা কারিশমায় বাচচা পরীর দলকে সারাদিন নাচিয়ে বেড়াতে কোন রকম বেগ পেতে হয়নি। দল বেধে সবাইকে নিয়ে পুরো বার্ডে ঘুরে বেড়ানো,অপূর্ব দক্ষতায় বাগানের গাছ থেকে পেয়ারা-নারিকেল পাড়া কিংবা রুপবান পাহাড়, যাদুঘর-ক্যাফেটেরিয়া ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে খাওয়ার সময়ই মিলত না আমাদের এ বিচছু বাহিনীর। তবে আর যাই হোক আসরের পরে মক্তবে (তাদেরও স্কুল বন্ধ ছিল ) যেতে হত সবার আরবী পড়ার জন্য। সবাই যেহেতু যেত আমিও যেতাম আরবী পড়তে ।

সেখানে অবাক করা যে ব্যাপার ঘটে তা হলো,কণা'র ও আমার সাথে সাথে মক্তবে যাওয়া ( ফুফুর ভবনের সেইম ফ্লোরে ফুফুর বাসার সামনের ফ্লাটে থাকত হিন্দু ধর্মের এক দম্পত্তি এবং তাদের একমাত্র কন্যা যার নাম ছিল কণা)।তার বাবা মা দুজনেই চাকুরী করত বার্ডে এবং আমার ফুফুর দু মেয়ে থাকাতে সে সারাদিনই ফুফুর বাসায় থাকত। আমি যাওয়ার পর থেকেও সারাদিন আমাদের সাথেই থাকত সকল কাজে এমনিক রাতেও তাকে বাসায় নিয়ে যেতে বেগ পেতে হত তার বাবা মায়ের।এভাবে প্রায় ১৫-২০ দিন মনে হয় ছিলাম ফুফুর বাসায় এবং ততদিনে আমি আর কারো মনে না হলেও কণার প্রানের কনা হিসাবে কিভাবে যেন জায়গা করে নিয়েছিলাম না চাইতেই তার ছোট মনে। যেদিন বাড়ী চলে আসব সেদিন কণার আমার প্রতি করা আচরন এখনো আমি চোখ বন্ধ করলেই অনুভব করি এবং টের পাই আমার প্রতি তার শিশুসুলভ ভাললাগা (প্রেম নয়)'র টানকে। তাকে কোনভাবেই বোঝানো যাচছিলনা এবং সে কোনভাবেই আমাকে আসতে দিবেনা সেখান থেকে। তার কান্না , আমার প্রতি তার আবেগ সেদিন সব বড়দের মনেই গভীর রেখাপাত করেছিল এবং সবাই অনুভব করেছিল হৃদয় দিয়ে আমার প্রতি তার অনুভূতি এবং ওয়াদা করেছিল তাকে আমাদের বাড়ী নিয়ে আসার। আর তাইতো কয়েক দিন পরেই তার বাবা-মা তাকে নিয়ে বেড়াতে আসে আমাদের বাড়ী। আহা কিযে মজায় কেটেছিল সেই দুই দিন কিন্তু সেখানেই আমি পাই জীবনের প্রথম ভাললাগার করুন পরিণতির খবর। তার বাবা ছিল DV - Diversity Visa পাওয়া এবং কিছুদিন পরেই চলে যাবে সপরিবারে আমেরিকা।অবশ্য তখন আমার দাদা-দাদী এবং তাহার বাবা-মাও এ বিষয়ে একমত ছিল যে, যদি ধর্মের বাঁধা না থাকত তাহলে তারা আমাদের বাল্য বিয়ে :P দিয়ে দিত।- আহাঃ :P কি মজাই না হত!!!!!!!!!!!! তবে তা আর হলোনা,কুড়িতেই ঝড়ে গেল আমার আশৈশবের ভাললাগা তথা অপরিণত প্রেম।

যখন বছর শেষে আবার গেলাম ফুফুর বাসায় বেড়াতে তখন তাহারা আমেরিকায়। আরও অনেকেই সেখানে থাকলেও ছিলনা আমার প্রাণের জন, প্রথম ভাললাগার বাচচা পরি :(( কণা।ফুফুর সামনের বাসায় (কণাদের) তখন যে পরিবার ছিল তাদের ছিল দুটো হুলো (ছেলে)। কণার বিরহে কাতর আমি দুই দিন থেকেই বাড়ী আসার জন্য অস্থির হয়ে পড়ি এবং বাড়ী চলে আসি।তার বছর খানেক পরে আমার ফুফুও চাকুরী ছেড়ে দিয়ে চলে আসায় সেভাবে আর কখনো যাওয়া-থাকা হয়নি বার্ডে। তবে এখনো যখনই বার্ডে যাই, একবারের জন্য হলেও যাই সেই বাসার সামনে, গিয়ে দাড়িয়ে থাকি কিছুসময়।অনুভব করি আমার শৈশবের ভাললাগার জন-প্রাণের কণা'কে। জানিনা, কণা এখন কোথায় আছে, কেমন আছে। তবে সব সময়ই মনে-প্রাণে চাই," যেখানেই সে থাকুক,সৃষ্টিকর্তা-ঈশ্বর তাকে ভাল রাখুন,সুখে রাখুন সবসময়।

তারপর------------------ ,তারপর কি আর প্রেম আসেনি আমার জীবনে ?

সে (ভাল লাগা, প্রেম নয়) আবার উকি দিয়েছিল আমার জীবনে দশম শ্রেণীতে পড়াকালীণ তাও ত্রিভুজ :P (সেসে) তবে এক দূর্ঘটনায় তারও সলিল সমাধি হয়েছিল একই বছরে এবং আমি হয়েছিলাম বাড়ী ছাড়া কয়েক মাসের জন্য।

তারপর আবার সে (ভালবাসা) হানা দেয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে এবং তারও করুণ সমাপ্তি হয় ৪ বছরের মাথায়। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে এসে দেখা মিলে বাবলীর :(( এবং সুখে-দঃখে মিলিয়ে তার সাথেই চলে যাচছে জীবন। লিংক - ব্লগার নান্দনিক নন্দিনীর " ক্লাসমেটের সাথে প্রেম, একধরনের পাতানো ম্যাচ " ও আমার জীবনের বাস্তবতা - Click This Link


ছবি - istockphoto.com

৩। মায়ের কিল ও ঝাঁড়ুর বারি :(( ব্যাফোক মজাদার,যেন শনপাপরি মজার খানা -
=================================================

শৈশবে মায়ের কিল ও ঝাঁড়ুর বারি, (( আহা ব্যাফোক মজার । যে জন খাইছে ,হেই জানে কি এর মহিমা!!!!!!!!!!!!!!!

আর যদি সেই শৈশব হয় অভাবের সাথে সাথে জনাধিক্যের ঘরে (বহু ভাইবোন), তাহলেতঃ কোন কথাই নেই। না চাইতেও অনেক সময় বোনাসও মিলে যেতে পারে যে কোন একজনের অপরাধের জন্য বাকীদেরও। তখন সবার কপালে জুটে যেতে পারে মায়ের কিল ও ঝাড়ুর বারি সে সময় কোন ধরনের আকাম না করেও। আমার মতো আপনারাও কি খাইছেন সেইরম কিল যা আমি খেয়েছিনু শৈশবে। সময়-অসময়ে যে কোন আকামের ফলাফল হিসাবে কিল রে কিল, জন্মের কিল। জন্মদায় শোধের কিল।

আর আকামের পরিমান বেশী কিংবা সংখ্যাধিক্যের কারনে কখনো কখনো জুটত উড়াধুরা ঝাঁড়ুর বারি। আহারে মজার শৈশব-------


এত দিন আমার মনে আক্ষেপ ছিল যে, মায়ের ভালুবাসা :P খাইনি শৈশবে, শুধু কিলই B-)) খেয়েছি আমি একেলা। তবে সামুতে (শায়মা বনির লেখা পড়ে) আমার আক্ষেপ ঘোচে গিয়েছে। আহা কি মজা!!!!!!!!!!!!!!! শুধু আমিই মায়ের কিল খাইনি। আমার মত আরও অনেকে খেয়েছে সেই শনপাপরি --- মজার খানা------------ :D :) :-B


ছবি - rupali-cinema-hall.business.site

৪। সেইরম B-)) সিনেমা খোর
======================

পড়ি ক্লাস এইটে । তখন খুব সম্ভবতঃ জুলাই কিংবা আগস্ট মাস ছিল (কারন - স্কুল ফাকি দিয়ে, পলিথিন দিয়ে বই মুড়িয়ে-পাটখেতে বই লুকিয়ে রেখে জীবনের প্রথম হলে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম :P কিনা) ।

দিনটা ছিল মগংলবার। চান্দিনার পালকি সিনেমা হলে পৌছেছিলাম সকাল ১১ টার দিকে। গিয়ে দেখি হল খুলবে/শো শুরু হবে বিকাল ৩ টা থেকে (তখন শুধু শুক্র-শনিবার ১২ টার শো চালু ছিল পালিকতে)। বিরস বদনে ফিরে যাব কিনা ভাবছি তখন সেখানে আমার মতই আরেকজন কামেল (ফাঁকিবাজ) ছাত্রের দেখা মিলে চান্দিনার পাইলট স্কুলের এবং তার অনুপ্রেরণায় রওনা হই ময়নামতি গ্যারিসনের উদ্দেশ্যে। ময়নামতি গ্যারিসনের দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকেট (তখন খুব সম্ভবতঃ ৪ টাকা ৫০ পয়সা ) কেটে উপভোগ করি ১২ - ০৩ টার শো " মনের মানুষ" নামক সিনেমা। তবে খুব বেশী একটা উপভোগ্য ছিলনা সেই প্রথম দেকা :P সেই ছিঃনেমা । তারপরও কি এক নেশার ঘোরে যে শুরু হলো সেই ছিঃনেমা দেকা ---------- এবং তা চলেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও। ঢাকার মধুমিতা-অভিষার-গুলিস্তান-নাজ-বলাকা-বিনাকা-আনন্দ-ছন্দ-লায়ন'য়ে কত মুভি যে দেকেছি তার হিসাব নেই তবে সেই অভ্যাস বর্তমানে হারিয়ে গেছে বিবাহের পরে,সংসার নামক যাতাকলে পিষে (যদিও বাসায় থাকলে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে বাপ-বেটা ৩ জন মিলে সিনেমা দেখা মিস হয়না পারতপক্ষে,যেখানে অর্ধাঙ্গীনী থাকে গভীর ঘুমে এবং বাইরে থেকে তাহার দরজা থাকে বন। আর একটা কথা সকলের কানে কানে :P বলি, যে দুই বদ আমার দ্বারা পয়দা হয়েছে,সেই দুইজন সিনেমা দেখায় আমার থেকে যোজন যোজন এগিয়ে। তাদের বাপ ছবি দেখত সিনেমা হলে গিয়ে বাংলা ছবি ,আর তারা দেখে ট্যাব-টিভি-মোবাইল-ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটারে। সেসব সিনেমার মাঝে বাংলা ছবি খুব না থাকলেও এ্যানিমেশন,ইংলিশ,হিন্দি মুভি দুনিয়াব্যাপী যাই রিলিজ হোক না কেন দেখে ফেলে আমার আগেই । সান্তনা এটাই যে, রাত-বিরাতে তারা ঘর থেকে বাইরে যায়না সিনেমা দেখতে B-)) যেমনটা তাদের বাপ গিয়েছে)।

কুমিল্লা যেদিন যেতাম, সেদিন একদিনে শহরের ৪ টি সিনেমা হলে (মধুমিতা-দিপীকা-রুপালী-রূপকথা-লিবার্টি ) ৪ টি ছবি (দুপর ১২ টায় শুরু রাত ১২ টায় শেষ) দেখে ভোর রাতে বাড়ী ফেরা কিংবা প্রায় সন্ধ্যা রাতেই অসুস্থতার ভান করে হারিকেন নিবিয়ে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়ে জানালার গ্রীলে কারিশমা ফলিয়ে পগার পার। সাথে জহির-নবী-লোকমান-রিপন-খালেক-আলমগীর (যখন যাকে পাওয়া যেত) নিয়ে ময়নামতি কিংবা চান্দিনায় ছবি দেখে শেষ রাতে বাড়ী ফিরা । আর কুমিল্লা শহরে যে দিন যেতাম সে দিন অতি অবশ্যই ১ টিকেটে ২ ছবির মজা :P নেওয়া কখনো মিস হতোনা। আহা সিনেমা দেখা :P সেইরম সিনেমা খোরের ।

এই সিনেমা দেখার পরিণতিতে কত বার যে বাপের প্যাদানী খেয়েছি এবং বাড়ী ছাড়া (বাড়ী ছাড়া হবার পর ফুফু-খালা-নানীর বাড়ীতে চলতো পলাতক জীবন) হয়েছিনু তা লেখতে গেলে হয়ে যাবে ইতিহাস। কিছুদিন পরে দাদা-দাদীর মুসাবিদায় আবার ঘরের ছেলের ঘরে ফিরা । আহা ----------------------- রে । সেই যে আমার নানা রংগের দিন গুলি।


ছবি - muktochintablog.com

৫। বাড়ী থেকে পালানো ও জীবনের প্রথম ট্রেন ভ্রমন
================================

পরিবারের অভাব ও কঠোর শাসন, পড়াশোনায় অনীহা তথা ভাল না লাগা এবং আরো নানা কারনেই সব সময় চাইতাম বাড়ি থেকে পালিয়ে দূর কোথাও চলে যেতে। নানা কারনেই তা হয়ে উঠেনি,তবে ক্লাস সেভেন এ পড়ার সময় অপরিণত বয়সে পরিণতদের বই পাঠের অপরাধের দায়ে মা-বাপের হাতে উদোম :(( কেলানীর পর আমি প্রথম বার বাড়ী থেকে পালানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নেই এবং সে লক্ষ্যে কিছু টাকা নিয়ে সকাল সকাল চলে যাই কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে। কিছু সময় পরে রেল আসায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে চেপে বসলাম ট্রেনে (সিলেট-চট্টগ্রামের পাহাড়িকা express ছিল)। বিকালের দিকে পাহাড়তলী স্টেশনে নেমে কোথায় যাব-কি করব কিছুই ভেবে পাচছিলাম না। স্টেশনের হোটেল থেকে কিছু খেয়ে রেল লাইন ধরে হাটতে হাটতে চলে গিয়েছিলাম রেল মেরামত কারখানার দিকে। রাত হয়ে যাওয়ায় রেল লাইনের উপরই বসে ছিলাম কোন উপায় না পেয়ে। রাতের বেলায় সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় রেলের মেরামত কারখানার বয়ষ্ক এক কর্মচারী, গায়ে কালি-ঝুলি মাখা কাপড়ে ( উনার নাম ছিল -আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, টি নং - ১৯৯, প্রধান গাড়ী পরীক্ষক অফিস, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।পরবর্তীতে উনি আমাকে এই ঠিকানা দিয়েছিলেন বাড়ীতে ফেরত আসার সময়। বড় হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় স্টেশনে গিয়ে উনার খোজ করেছিলাম কিন্তু ততদিনে উনি অবসরে চলে গেছেন। উনার ঠিকানা অফিসে এবং রেলওয়ে কলোনীতে উনার বাসায় চাওয়ার পর লাকসামের কোন একটা এলাকার কথা বলেছিল তবে যাওয়া হয়নি কখনো) আমাকে জিজ্ঞাসা করে আমি কেন এখানে বসে আছি। কারন - এলাকাটা ভাল নয়। পরে উনাকে আমি বলি যে , আমি বাড়ী থেকে পালিয়েছি। তখন উনি আমাকে সাথে করে উনার বাসায় নিয়ে যায় এবং তিনদিন উনার রেল কলোনীর বাসায় ছিলাম খুব আদরে।

এই তিন দিন উনি আমাকে অনেক কিছু বুঝিয়েছেন জীবন ও জগৎ সম্পর্কে এবং ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখিয়েছিলেন চট্টগ্রামের অনেক জায়গা। বলেছিলেন ঘরে ফিরে যেতে এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে এবং আবারো উনার বাসায় আসতে। আসার সময় ট্রেনের টিটিকে বলে ট্রেনে বসিয়ে দিয়েছিলেন এবং হাত খরছের জন্য ১০০ টাকাও দিয়েছিলেন ,যা তখনকার সময়ে অনেক মূল্যবান ছিল।আমি জানিনা, তিনি এখনো জীবিত আছেন নাকি মরে গিয়েছেন। যদি জীবিত থাকেন, মহান আল্লাহপাক উনাকে ভাল ও সুখে রাখুন আর যদি মরে গিয়ে থাকেন তবে উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন।


ছবি - thesun.co.uk
সতর্কীকরণ - ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক

৬। বিড়ি (সিগারেট) খোর - বিড়ি খানা ছাড়বি :P না গরুর সাথে গরু ঘরে থাকবি
==============================================

জীবনের প্রথম ও শেষ বিড়ি (সিগারেট) খাওয়া হয়েছিল ক্লাস নাইনে থাকতে। কুমিল্লার মধুমিতা সিনেমা হলে খুব সম্ভবতঃ "ভেজা চোখ(ইলিয়াস কাঞ্চন-চম্পা অভিনীত) " সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম সমবয়সী চাচা (বাবার চাচাত ভাই ) জাকির ও সহপাঠি হোসেনের সাথে।বিরতির সময় কিছু মিছু খাওয়ার সময় হোসেন একটা বক সিগারেট নিয়ে সুখটান দিচছিল তখন চাঁচাও চেয়ে নিয়ে তাতে চুমমা- চাটি দিচছিল মাঝে মধ্যে (আমি এবং কাকা অধুমপায়ী ছিলাম)। ঝোকের বশে আমিও চেয়েছিনু একটা টান দিতে তবে উভয়েই আমাকে না দিয়ে বলে, পারলে কিনে খাও এটা দিবনা। যদিও সেদিন তাদের সিনেমার টিকেটের টাকা আমিই দিয়েছিলাম (বাপের পকেট থেকে নিজের মনে করে নেয়া)। রাগে ক্ষোভে গিয়ে এক প্যাকেট gold leaf (২০ শলাকা এবং দাম মনে হয় ১৮ টাকা নিয়েছিল যা সেই সময় অনেক টাকা) কিনে তাদের দেখিয়ে দেখিয়ে একটার মাথায় আগুন লাগিয়ে যখন দিয়েছিনু সুখটান,তখন দম বের হয়ে যেতে চাচছিল এর চরম স্বাদে। বাকীগুলি প্যান্টের পকেটেই ছিল। বাড়ী চলে এসে সন্ধ্যায় গিয়েছি মসজিদে নামাজ পড়তে এবং যথারীতি বিড়ির প্যাকেট সহ প্যান্ট ছিল আলনায় কাকার (প্রধান শিক্ষক, উচচ মাধ্যমিক - অবিবাহিত কাকার সাথে আমিও থাকতাম ) কাপড়ের সাথে।

নামাজ পড়ে রুমে আসি আমি ও কাকা একসাথে এবং পড়তে বসি। এশার নামজের আগে আর কথা হয়নি কাকার সাথে। এশার নামাজ পড়ে ঘরে আসার পরে কাকা মধুর সুরে ডেকে বলে - বাবা,খোকন ------------- এদিক আস তো-------------- !!!!!!!!!!!!!!

গেলাম কাকার কাছে :(( , সাথে সাথে রশি দিয়ে জানালার গ্রিলের সাথে বেঁধে ফেলে চলতে থাকে উরা-ধুড়া মাইর (কাকা কাপড় রাখতে গিয়ে আমার প্যান্টের পকেট থেকে বিড়ির প্যাকেট পেয়ে যায় এবং আগে থেকেই রশি মজুত করে রেখেছিল) । সেই মাইর চলে পরের দিন সকাল বেলাও। এর মাঝে নো খাওন-দাওন (অবশ্য বিড়ি পানিতে গুলিয়ে কয়েকবার খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিল)। সকালে বিদ্যালয়ে যাবার সময় ঘর থেকে খুঁলে গোয়াল (গরু) ঘরের খুটির সাথে আবার বাঁধ দিয়ে ইচছামত পিটাইয়া যায় এবং সবাইকে বলে যায় যাতে কেউ আমাকে কোন খানা না দেয় এবং বাঁধন না খুলে। বিকালে বিদ্যালয় থেকে এসে কাকা :(( আমার প্রেমের বাঁধন খুলে এবং নিজ হাতে গোসল করিয়ে, নিজ হাতে খাইয়ে দেয়। রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে আমাকে বুঝায় যে ," এখন বয়স কম। বিড়ি খেলে শরীরের অনেক ক্ষতির সাথে সাথে স্বভাবে চোর হয়ে যাবি। কারন, এখন তোর কোন আয় রোজগার নেই।আর তাই এখন প্রথমে ঘর থেকে , বাপের পকেট থেকে তার পর মানুষের ঘরে চুরি করবি এই বিড়ি খাওয়ার জন্য।কাজেই এখন বিড়ি খানা বন :( যখন বড় হবি - আয় রোজগার করবি তখন প্রাণ ভইরে বিড়ি খাবি । আর যদি কোন দিন দেখি বিড়ি খাইতে তাইলে তোর জায়গা হবে, গরুর সাথে গরুর ঘরে। তবে কাকার সেই দিনের শাসনের পরে বিড়ি ধরার শখ বা ইচছা কখনো আর হয়নি এ জীবনে, আর না গরূর সাথে রাত-দিন কাটাতে হয়েছে গরু ঘরে"।


ছবি - rokomari.com

৭। প্লাস্টিক বলের ফুটা (লিক) আগুন দিয়ে তালি দেয়ার চেষ্টা - আহা কতইনা বুদ্ধিমান ছিলাম -
=====================================================

আজকাল বাচচাদের বাবা-মা কত কিছু কিনে দিয়েও মন পায়না আর আমরা শৈশবে কিছু চাইতেই পারিনি শুধু ভাত ছাড়া। আর তাও সব সময় মিলবার নিশ্চিয়তা ছিলনা। কারন, সীমিত রোজগার,অসংখ্য মানুষের পরিকল্পনাহীন পরিবারে নিত্যসংগী ছিল অভাব নামক দৈত্যের। কাজেই কিছু চাওয়ার সুযোগই ছিলনা। আর চাইলেই কি কিছু মিলত?

মিলত !!!! তবে যা চাইতাম তা নয়,। তা ছিল ------- কিল ------------ কিল আর কিল। তাই বলেত আর সেই বাচচা বয়সে খেলা থেমে থাকত না। আমরা খেলতাম ডাংগুলি-হাডুডু-গোল্লাছুট-বউচি-লুকাছুপি ও বল। তবে এই বল ফুটবল নয়!!!!!!!!! এই বল ছিল খড়-কাপড়-পলিথিন-কলার খোল দিয়ে হাতে বানানো বল।

তখন বল বানাতাম খড়ের মাঝে পলিথিন কিংবা কাপড় পেছিয়ে কলা গাছের খোলের আশ (রশি) দিয়ে বেধে এবং তাই খেলতাম বল হিসাবে। আহা কতই না মজা হতো তখন। মনে হয় প্রাইমারীর শেষে - আমার মুসলমানী (নুনু :P কাটা) উপলক্ষে কাকা একটা প্লাস্টিক বল কিনে দিয়েছিল। সেই বল নিয়ে কত না মজায় বল খেলেছিনু সবাই মিলে কয়েকদিন। একদিন সেই বল জোরে মারায় খেজুর গাছে পড়ে তার কাটার গুতোয় ফুটো হয়ে সব হাওয়া বেড়িয়ে যাচছিল। আর তাই দৌড়ে বাড়ি গিয়ে সেই ফুটো বন করার জন্য সেখানে আগুন দেই । সাথে সাথে বলের অর্ধেক নাই ( ছোট ফুটা থেকে বিশাল ফুটো) হয়ে গিয়েছিল। আহা তখন কতইনা বুদ্ধিমান ছিলাম তখন আমি ।


ছবি - 123rf.com

৮। জামাই - বউ খেলা, আহা রসে ভরপুর - অলস দুপর বেলা
=======================================

দূর্ভাগ্যজনকভাবে তখন আমাদের বাড়ীতে ছেলে ছিলাম সবে দুইজন আর বাকী সবাই ছিল মেয়ে। আমার এক অতি বুদ্ধিমান (বোকা/বেপতার) চাচা বলত, " ------------------------- বাড়ীতে সোনা (নুনু) ;) ওয়ালা পোলাপাইন নাই সবই ঐলো ------ :P ------- ছাড়া"।

আর যেহেতু ছেলের সংখ্যা কম ছিল তাই খেলার বাজারে (লুকা-চুপপি,বর-বউ) আমার ছিল ব্যাফোক চাহিদা। অলস দুপুরে বড়রা ঘুমিয়ে গেলে বাড়ীর চাচাত-ফুফাত বোনদের সাথে কত শত বার যে জামাই-বউ :P খেলেছিনু, বিয়ে না করে ও রোজগার না থাকার পরও সেই অপরিণত বয়সেই যেতে হয়েছে বাজার করতে!!!!!!!!!!!! এখন এসব ভাবতেই ভাল লাগে --------------- আহা কি আনন্দ, আকাশে বাতাসে ------------------------- কোন দায় বহন ছাড়াই জামাই হিসাবে নিজেকে দেখতে।


ছবি - 123rf.com

৯। অপরিণত বয়সে পরিণতদের বই পাঠের দায়ে ঘর ছাড়া
====================================

আপনজনদের মাঝে বেশীরভাগই শিক্ষিত থাকার সুবাধে বইয়ের সাথে হাতে খাড়ি শৈশবেই তবে পাঠ্য বই থেকে বাইরের বই (দস্যু বনহুর-মাসুদ রানা-সাইমু সিরিজ-কিশোর ক্লাসিক-কুয়াশা- রসময় দাসগুপ্ত-চটি-পটি) ই বেশি টানত আমাকে। যা পাইতাম তাই পড়তাম ভাল-খারাপ,বড়র বই-ছোটর বই - এসব বিবেচনার কথা মাথাতেই আসত না। আর তাইতো অকালেই পেকে ;) গিয়েছিনু। খালি চাইতাম পড়তে। আর সেটা যে কোন বই,খবরের কাগজ ম্যাগাজিন কিংবা চটি-পটি যাই হোক। আর তাইতো ৭ ক্লাসে থাকতেই পাঠ্য বইয়ের নীচে রেখে রাতের বেলায় " সেলিনার গোপন কথা " নামক সাহিত্যের রস আস্বাদন করতে গিয়ে মায়ের হাতে ধরা পড়ে বাবা-মা উভয়ের হাতে ভয়ানক উদোম কেলানীর :( সাথে সাথে ঘর-বাড়ী ছাড়া হয়েছিলাম কিছু দিনের জন্য। দাদা-দাদীর কল্যাণে ফের ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসা নানা রকম ঘটনা দূর্ঘটনার পর।


ছবি - nxejt.abyssalminer.top

১০। এলাকার সবার গাছের ফলে ছিল ষোল আনা হক -
==================================

এলাকার সবার গাছের ফল-ফুল-কলা-আম-জাম-খেজুরের রস,তালের শাসে ছিল আমার মত নির্মল- নির্দোষ - বিশুদ্ধ-নিরিহ বনি আদম (বাদর)'দের ষোল আনা হক। সবার গাছই যেন ছিল আমাদের নিজেদেরই গাছ এবং তাদের ফলের উপর ছিল আমাদের ষোল আনা হক। আর তাইতো সে হক দিনে কোন কারনে আদায় করতে না পারলেও রাতে আদায় করে নিতাম সেই হক এবং সাবাড় করে দিতাম ন্যায়-অন্যায় বোধকে গামছায় বেঁধে পুকুরে ফেলে দিয়ে। কলেজ কোর্য়াটারে স্যারের গাছের কাঠাল পেড়ে স্যারকেই গিফট করা কিংবা স্যারের বাসার গাছের আম-নারিকেল পেরে বাড়ীতে আসার পর স্যারকেই খাওয়ানো (কলেজের সাথেই নিজেদের বাড়ী এবং স্কুল-কলেজের বেশীরভাগ শিক্ষকের সাথে পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারনে)। আমাদের গাছ থেকে আরও কাঠালের সাথে স্যারদেরকে কাঠাল দেবার পর একবার ব স্যারের বলা, "জামান, এ কাঠালটিকে আমি মনে চিনি,তাই কি" ----------- , আহা কি যে মজার দিন ছিল সে সময়। আর এখন হলেতঃ স্যাররা টিসি দিয়ে বের করে দিবে স্কুল-কলেজ থেকে সাথে করে হবে বিচার----------------- :((


ছবি - stock.adobe.com

১১। লেকা :(( পড়া না করেই বিজ্ঞানী হবার বাসনা
===============================

"কুপি বাতি কিংবা হারিকেন কেমতে জ্বলে" কিংবা "ঘড়ি কেমতে চলে" "মানুষ কেন বিয়া করে " অথবা "মানুষ কিভাবে জন্মায়"- এরকম আরও অনেক প্রশ্ন / চিন্তা মাথায় ভর করত এবং সেসব রহস্যের সমাধানের জন্য নানা কাজ (আকাম) ও অনেক করেছিনু।একবার বাপের ঘড়ি খুলে ফেলেছিলাম তা দেখার জন্য যে , ইডা কিভাবে চলে। খুলে ত আর লাগাতে পারিনি । আর তারপর ঘড়ি কি করুম। ইভাবেই রেকে দিয়েছিনু বাপের পকেটে । তবে ঘড়ির এ অবস্থা দেখে বাপ মেশিনগান ফায়ার (আর্মি ছিল কিনা) শুরু করে কিছু না জিজ্ঞাসা করেই ( কারন - সে জানত এর পিছনে কার হাত থাকতে পারে । আর তাই কোন কিছু জিজ্ঞাসা বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই শুরু করে উড়া-ধুরা মাইর।সেদিন দাদা-দাদী রক্ষা না করলে এতদিনে মানব সমাজে ভূত হয়ে ঘুরতে হত। তবে তারপরও তাতে আমার কি দশা হয়েছিল তা বলে বুঝানো যাবেনা কাউকে , শুধু অনুমান করে নিতে হবে --------------------

তবে, বাড়ীর আশে পাশের সবাই সেদিন শুধু বলেছিল------------------------------- আহাঃ, আহারেঃ ,আর মারিস না। ছেলেডা মইরে যাবেরে।

আরেকবার, বাড়ীর এক বড়ভাই বিয়ে করার পর, " মানুষ কেন বিয়া করে" তা জানার জন্য তাহার বাসর নামক বাঁশের ঘরে লুকিয়ে ছিলাম দু-জন মিলে। পরে---------------------- কি হয়েছিল ? তা শুধু অনুমান করে নিতে হবে আমাদের , কওন যাবেনা সেই কতা :P। তবে এখনো এই বুড়ো বয়সে এসেও সেই ভাবীর সামনে পড়লে,ভাবী বলে উঠে, " ভাই,তুমি বহুত খারাপ আছ :P " । তাহার স্মৃতিতে আমি সারা জীবন বেঁচে আছি একজন বদ মানুষ হিসাবে। কি আর করা? এই আমার নিয়তি।


ছবি - shutterstock.com

১২। যেখানে বাঘের ভয় , সেখানে রাত হয়
============================

আমার জীবনের চলার পথে এবং আকামের সব কাজের সময় কোন না কোন বাঘ সামনে এসে যেত। কারন - এলাকায় সবাই চিনত। তখন বাবা চাকুরী থেকে অবসর গ্রহনের সুবাধে পুরো সময় বাড়িতে। কি যে এক ভয়ানক পরিস্থিতি । সে সময় পড়ি দশম শ্রেণীতে। বাবা সকাল বেলায় ট্রাকে করে সবজি (ফুল কপি - আমরা প্রচুর সবজি ফলাতাম তখন) নিয়ে মহিপাল,ফেনী গিয়েছে। ভাবলাম আজই সুযোগ সিনেমা দেখার। ফুফাত ভাই জহিরকে নিয়ে চলে গেলাম ময়নামতি গ্যারিসেনে স্কুল ফাকি দিয়ে ১২ টা থেকে ৩ টা শো দেখার জন্য। যে কোন সময় বাবা চলে আসবে, আর তাইতো ছবি শেষ হওয়ার সাথে সাথে দৌড়ে চলি আসি বাস স্ট্যান্ডে। এম পি চেক পোস্টের সামনে গতিরোধকের কারনে সকল গাড়ীই ধীরে চলত এবং একটু ধীরে চললেই যে কোন গাড়ীতে চড়ার কৌশল জানা ছিল তা সে দরজায় কিংবা পিছনের বাম্পার যেখানেই হোক না কেন। বাস স্ট্যান্ডে দাড়ানোর সাথে সাথেই ঢাকা-রায়পুরে চলা চৈতালী পরিবহনের একটা বাস আসে এবং সেই বাস ছিল বিরতীহীন। তারপরেও এসবে আমাদের কোন সমস্যা হতোনা । কারন - গতিরোধকের। যেখান থেকে উঠব এবং যেখানে নামব - দু জায়গাতেই গতিরোধক থাকার কারনে সব গাড়িই ধীরে চলত এবং আমার নিজ এলাকা এমন এক জায়গা যেখানে যে কোন গাড়ীই ধীরে চলত ও চলে, ছাত্রদের জন্য - স্কুল-কলেজের কারনে।

যেহেতু ১২ টার শো শেষ হয়েছে রাস্তায় অনেক মানুষ দাড়ানো সেই জন্য বাসটি গতিরোধকে যতটা ধীর করার কথা ছিল ততটা করেনি তবে যতটা করেছিল তা আমাদের গাড়ীতে উঠার জন্য যথেষ্ট ছিল। আমি এবং জহির গাড়িতে উঠতে সফল হয়েছিলাম অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।গাড়ীতে উঠার পর গাড়ীর সামনের দিকের সব যাত্রীই আমাদের উপর খেঁপে ছিল এতটা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ীতে উঠার জন্য এবং অনেক কিছু বলছিল। আমরা ভাব নিয়ে বলেছিলাম ,"আমরা এর থেকে আরো দ্রুতগামী গাড়ীতেও চড়তে পারি"।পিছনে যদিও সিট খালি ছিল আমরা দুই জনেই সামনের দিকে দাড়িয়ে ছিলাম সামনে নেমে যাব বলে। হঠাৎ গাড়ীর সুপারভাইজার বলে, কোথায় নামবেন আপনারা? জায়গার নাম বলায় সে বলল, ঠিক আছে সেখানে অন্য একজন যাত্রীও নামবে। অন্য যাত্রী নামার কথা শুনেই আমার পেট মোচড়ানো শুরু করেছে এবং আমি গাড়ীর ভিতরের ড্রাইভারের ভিউ গ্লাসে তাকাতেই দেখি - আমার দাড়ানো সিটের ২ সারি পিছনেই আমার যম (জন্মদাতা) আয়নায় আমার দিকে তাকিয়ে আছে চোখ কটমট করে। যা দেখে আমার কলিজা শুকিয়ে যায়। ভেবে পাইনি কি করব তখন?

মাথা কাজ করছিল না। শুধু মনে মনে বলছি - তু তো গিয়ারে,আজ তু গিয়া। আজ বাড়ীতে গেলে তোর সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ হবে।

মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই বাড়ীর না যাওয়ার। আর তাই ধীরে ধীরে উনাকে পাশ কাটিয়ে (যেন উনাকে আমি :(( দেখিই নি) গাড়ীর পিছন দিকে চলে যাই এবং বাপ গাড়ী থেকে নামলেও আমি আর নামিনি এবং চলে যাই কয়েক দিনের জন্য বড় ফুফুর বাড়ী। পরে দাদু গিয়ে নিয়ে আসে এবং কিছু দিন পরে অন্য এক আকামের পরিণতিতে এই ঘটনাকে উপলক্ষ করে খেয়েছিনু উদোম কেলানী। আহা ----------- আহারে-------------- আর্মির মাইর বলে :(( কতা। আহা - আহারে স্মৃতি , শৈশবের স্মৃতি।

স্মৃতি - তুমি বড়ই মধুর (গান আছেনা - বেদনা মধুর হয়ে যায় ,তুমি যদি দাও)। আর তাই বাবা-মায়ের দেয়া যাতনাও মধুর। তাইনা?
সবাই চিল্লাাইয়া কন - ঠিক কিনা ?


ছবি - gettyimages.ae

১৩। শীতের চান্নিপসর গভীর রাতে মাছ ধরতে গিয়ে :(( বাঁশবাগানে মায়ের সাথে দেখা ( আধোভৌতিক ) -
==========================================================

আমার জীবনে দুইটি কাজের নেশা বিদ্যমান ছিল-আছে-থাকবে। এই দুটির একটি হলো বই পড়া এবং অপরটি হলো মাছ ধরা। আর এই দুই সখ পূরণ করতে গিয়ে অনেক বিপদ-ঝামেলার মুখোমুখি হয়েও এগুলো এখনো বহাল তবিয়তে বর্তমান আছে আমার জীবনে এবং সুযোগ পেলেই তাদের পূরণে ঝাপিয়ে পড়ি কোন কিছু না ভেবেই।

মাছ ধরা আমার মনে হয় গ্রামীণ জীবনের এক অন্যতম অনুষংগ এবং যারাই গ্রামে বড় হয়েছে তাদের অনেকেই এই মাছ ধরার মজা লুটেছে দিনে কিংবা রাতে।এই মাছ ধরতে গিয়ে কই-শিং কিংবা টেংরা মাছের কাটা যারা খেয়েছে কিংবা পূকুরে কিংবা বিলের মাঝে গর্তে হাত ঢুকিয়ে বড় বাইম মনে করে সাপ ধরে বের করে নিয়ে আসা এবং সাপের (ঢোড়া সাপ) কামড়ে অথবা মাগুর মাছের কাটায় ফালা ফালা হাত নিয়ে রক্ত মুছতে মুছতে ও হাত/পা বেধে ডাঃ এর কাছে যে গিয়েছে সেই জানে কি এসবের মহিমা। তারপরও এ এক নেশার মত কাজ করে, যা কোন সময়ই যে কাউকে টেনে নিয়ে যায় পুকুর- বিল-খাল দিনে কিংবা গভীর রাতে। শীতে যখন পুুকুর-বিল-খালে পানি কমে যায় তখন মাছ ধরা অনেক মজার এবং সেই মজা দিন থেকে রাতের বেলায় মাছ ধরতেই বেশী পাওয়া যায়।

তেমনি এক শীতের কুয়াশা মুক্ত এবং চমতকার চান্নিপসর গভীর রাতে মাছ ধরতে গিয়েছি শামসু কাকা ও আমি পুকুরে। আমাদের বাড়ীতে দুটি বেশ বড় পুকুর সহ আশেপাশে আরো অনেক পুকুর ছিল এবং তখন মানুষজন কম থাকায় আশে-পাশের অনেক পুকুরেই হামলা চালাতাম নির্ভয়ে। সে দিন মোটামুটি কয়েকটি পুকুর থেকে ভাল পরিমান মাছ ধরে শেষ রাতের দিকে আমাদের নিজেদের পুকুরে মাছ ধরছি জাল ফেলে। হিসুর (পেচছাপ) বেগ পাওয়ায় আমি কাকার কাছ থেকে একটু দূরে ঘাটলার পাশে বাঁশঝাড়ের নিকট গিয়েছি হালকা হতে। হঠাৎ করে দেখি আমার মা দাড়িয়ে আছে বাঁশঝাড়ের নীচে ঘাটলার পাশে। আমি বলে উঠি, " মা আপনি এখানে কি করেন এত রাতে? "। এটা বলে আমি এগিয়ে যাচছিলাম মায়ের দিকে। আমি এগুচছি আর মা পিচাচছে বাঁশঝাড়ের ভিতরে। আমি সম্মোহিতের মত এগিয়ে যাচছি মায়ের দিকে। এমন সময় কাকাও মাকে দেখে এবং বলে, "ভাবী,এত রাতে আপনি এখানে কেন? " কিন্তু মা কোন জবাব দিচছিলনা। হঠাৎ করে কাকা দৌড়ে এসে আমাকে আকড়ে ধরে যেখানে আমি প্রায় চলে গিয়েছিলাম ঘাটলা ডিঙিয়ে বাঁশঝাড়ের ভিতরে। কাকা আমাকে ধরে রেখেই খুতি (লুংগির গিট) থেকে গ্যাসলাইট বের করে আগুন জ্বালায়। সাথে সাথে আমার মা তখন বাঁশঝাড় ঢুকে পড়ে ভয়ানক গর্জনের সাথে সাথে দমকা-ঝড়ো বাতাসে বাঁশঝাড়ের সব বাঁশ উপর-নীচ করছিল পাগলের মত। কাকা আমাকে নিয়ে দৌড়ে চলে যায় বাঁশঝাড়ের বাইরে। অনেকটা সময় চলতে থাকে সেই ভয়ানক গর্জনের সাথে সাথে ভয়ানক শো শো বাতাসের । এ আমার জীবনের এক ভয়ানক স্মৃতি যা এখনো মনে হলেই শরীর হিম হয়ে আসে এবং শরীরের পশম সব দাড়িয়ে যায় ভয়ে :((

এই ঘটনার ব্যাখ্যা অনেকেই অনেকভাবে দিতে পারেন। কারো কারো কাছে মনে হতে পারে গাঁজাখুরী গল্প কিংবা বানানো কোন ঘটনা। তবে তা বানানো কোন গল্প কিংবা ঘটনা নয় । এ এক চরম সত্যি ঘটনা এবং আমার মনে অনেকেই এরকম ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন জীবনের কোন না কোন সময় । সে সময় তা নিয়ে আলেম কিংবা বাকী যাদের সাথেই শেয়ার করেছি ,সবার একই বক্তব্য ছিল, " বড় বাঁচা বেঁচে গেছি সেদিন"।

তাই বলে কি মাছ ধরা ছেড়ে দিয়েছিলাম রাতের বেলায়?

না,তবে কমে গিয়েছিল অনেকটাই আগের তুলনায়। কমপক্ষে ৩/৪ জন না হলে আর যেতাম না রাতের বেলায় মাছ ধরতে এবং তা চালু ছিল অভিবাসীর খাতায় নাম উঠানোর আগ পর্যন্ত। আর এখনতো দিনের বেলায়ই নিজেদের পুকুরেই মাছ ধরার সাহস নেই আর অন্যদের পুকুর ও রাতের বেলা!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! দূর কি বাত । (মানুষ বেড়ে যাওয়া ,ভাগা-ভাগির জটিলতা ও প্রাণের ভয়ে)। কারন - এখন মানুষ এতটা হিংস্র হয়ে গেছে যে,সামান্য মাছ ধরার অপরাধেও যে কাউকে পিটিয়ে মেরে ফেলে-ফেলতে পারে দিন দুপুরে জীন-ভূতকে পায়ে ঠেলে।

আমরা সবাই ব্যক্তিগতভাবে আটকে থাকি-আছি জীবনে ঘটিত নানা ঘটনার স্মৃতিতে। স্মৃতি যদিও তৈরী হয় জীবনে ফেলে দিন তথা অতীতের নানা ঘটনায় তবে তা বিবেচিত হয় ভবিষ্যত জীবনের চাবিকাঠি হিসাবে। আমাদের এক জীবনে চলার পথের নানা কারণে, লক্ষ লক্ষ ঘটনা ও শত শত মুহূর্ত স্মৃতি হিসাবে চিরকাল থেকে যায় আমাদের/মানব মনে। তা হতে পারে ভাল কিংবা খারাপ স্মৃতি।তবে আমাদের সকলকেই জীবনে এমনভাবে চলা/উপভোগ করা উচিত, যাতে আমরা বেঁচে থাকতে পারি সবার স্মৃতিতে ও মনের মাঝে ভাল হিসাবে। আর তাই, আমাদের সবার সংসার জীবনে-কর্মজীবনে ও জীবনের নানা ক্ষেত্রেই একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস-শ্রদ্ধা-সম্মান-আস্থা-সহযোগিতা-সহমর্মিতার চর্চা করা উচিত। কারন- কাউকে ভালবাসলে সেই ভালবাসা হারিয়ে যায়না না, কখনই হারায় না। সময়ের ব্যবধানে তাতে ধুলো পড়তে পড়তে ভালোবাসা চাপা পড়ে থাকে এটা ঠিক তবে মনের মধ্যে, বুকের মধ্যে ভালোবাসা ঠিকই থাকে পজেটিভ/ভাল স্মৃতি হিসাবে। তাই অন্যের কাছে প্রত্যাশার লাগাম টেনে নিজের কাছে বেশী আশা করে আমাদের সবসময় ইতিবাচক কাজ-চিন্তা করা উচিত কারো স্মৃতিতে ভাল হিসাবে জায়গা করে নেবার জন্য।চলার পথে জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি (ভাল-খারাপ দুই), আবার অনেক কিছুই পাইনি। আর তাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত করে তার সাথে মিলিয়ে আমিও বলতে চাই - " জীবনে কী পেয়েছি,কি পাইনি তারই হিসাব মেলাতে মন মোর নহে রাজি আজ "।

কারন, স্মৃতি - তুমি বড়ই মজাদার (পজেটিভ হলে) ------- এবং বড়ই বেদনার (নেগেটিভ হলে) -------------,তা যে কোন শ্রেণী-পেশার মানুষই হোক না কেন।

=============================================

কভিডের কারনে গত কয়েক বছর যাবত এমনিতেই অনেক মানুষ জীবন-জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তার সাথে মরার উপর ঘাড়ার ঘা হিসাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অতিসম্প্রতি প্যালেস্টাইন-ইসরাইল সংকট সেই সমস্যার ডিনামাইটের পাহাড়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। এসবের সাথে সাথে দেশের দমবন্ধ করা রাজনৈতিক পরিবেশ ও দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার তাড়নায় সাধারন মানুষ দিশেহারা। আরো নানাবিধ কারনে বর্তমানে মানব জীবন খুবই কঠিন ও নির্মমতায় ভরা। সত্যিকার অর্থে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন কোন জিনিস নাই যা আমার-আপনার-আমাদের জীবনকে সহজ করে দিতে পারে বা ভাল কোন স্মৃতি উপহার দিতে পারে । জীবন এমনই,ছোট বড় বন্ধুর পথে ঘেরা । আর তাই এখন আমাদের সবার মন ও স্মৃতি পরিপূর্ণ থাকে জীবনের নানা অপ্রাপ্তি ও বেদনায়। আর সব অপ্রাপ্তি ও বেদনা থেকে বেরিয়ে ক্ষুদ্র এই মানব জীবনকে সহজ করতে সত্যিকার অর্থে আমাদের যা দরকার তা হল পজেটিভ মানষিকতার এবং দৃঢ় মানষিক শক্তি'র সাথে সাথে সীমিত প্রত্যাশার । দরকার যে কোন অবস্থায় আপনার-আমার বোধগম্যতা, যে কোন কিছুকে এবং যে কোন পরিস্থিতিতে মানিয়ে ও চালিয়ে নেওয়ার সাহস এবং পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি। এসব বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে সেগুলো হয়ত আপনার-আমার মানষিক শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে যা জীবনের ছোট ছোট আশা গুলি পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে এবং তৈরী হতে পারে একজীবনে মধুময় সব স্মৃতির ।

অন্যকে ভালবাসুন এবং যে কোন বিষয়ে প্রত্যাশা সীমিত রাখুন। কারন- প্রত্যাশা আর ভালোবাসা একে অন্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভালোবাসায় থাকে বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, সম্মান, আস্থা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা, অনুভব। কাউকে ভালবাসলে সেই ভালবাসা হারিয়ে যায়না না, কখনই হারায় না। সময়ের ব্যবধানে তাতে ধুলো পড়তে পড়তে ভালোবাসা চাপা পড়ে থাকে এটা ঠিক তবে মনের মধ্যে, বুকের মধ্যে ভালোবাসা ঠিকই থাকে। তাই অন্যের কাছে প্রত্যাশার লাগাম টেনে নিজের কাছে বেশী আশা করে আমাদের সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করা উচিত। ইতিবাচক চিন্তাভাবনা আমাদের জীবনকে সহজ করে দেয়,ফলে জীবনে জটিলতা সৃষ্টি হয় না।যার জীবনে যতটা ইতিবাচক চিন্তা, তার জীবন ততটা সহজ। আমাদের জীবনের গড়পড়তা সব সমস্যার শুরু হয় আমাদের মাথা থেকে। আর তাই নিজের মাথাকে সব সময় ইতিবাচক ধারণা তৈরি করার কাজে ব্যস্ত রাখুন। আমি-আপনি ইতিবাচক থাকলে পৃথিবী ইতিবাচক হবেই।সব সময় ধৈর্যশীল থাকার অভ্যাস করুন। যার যা সম্মান তাকে তার চেয়ে বেশি সম্মান দেখান (তবে তৈল মর্দন নয়)। কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার আগে নিজেকে তার জায়গায় কল্পনা করুন, দেখা যাবে জীবনের অনেক কিছু হিসাবই মিলে গেছে। চলার পথ সহজ হয়ে গেছে। জীবনে চলার পথে কোন জটিলতা তৈরী না করে, অধিক না ভেবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকাই আনন্দের এবং এক জীবনে আনন্দে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের আশে-পাশের সহজলভ্য উপকরণ গুলি দিয়ে যদি নিজের জীবন-সময়-সমাজকে সবসময় রাঙিয়ে তুলতে পারি তাহলে এই আমরা সাধারন মানুষগুলিই অসাধারন হিসাবে বেঁচে থাকব পরবর্তী প্রজন্মের স্মৃতিতে।


=============================================================
কৃতজ্ঞতা স্বীকার - " সামু এবং সামু কর্তৃপক্ষ'কে" - যারা আমাকে এমন একটা সুযোগ দিয়েছেন নিজেকে জানার-বুঝার এবং এত সব জ্ঞানী-গুণীদের মিলনমেলা এই ব্লগে এতটা সময় কাটানোর জন্য এবং নিজের চিন্তা-ভাবনা অন্যের সাথে শেয়ার করার সুযোগ দানের জন্য।


পূর্ববতী পোস্ট -

" হিজি ;) বিজি " - ২ - আমি এবং আমার বই পড়া ও কিছু লেখার চেষ্টা - Click This Link
" হিজি :(( বিজি " - ১ - ব্লগে আমার ১০০ (শততম) পোস্ট , ( প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার খেরোখাতা )- Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০২৩ দুপুর ১২:১০
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মসজিদ না কী মার্কেট!

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৮ ই মে, ২০২৪ সকাল ১০:৩৯

চলুন প্রথমেই মেশকাত শরীফের একটা হাদীস শুনি৷

আবু উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহুদীদের একজন বুদ্ধিজীবী রাসুল দ. -কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন জায়গা সবচেয়ে উত্তম? রাসুল দ. নীরব রইলেন। বললেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সচিব, পিএইচডি, ইন্জিনিয়ার, ডাক্তারদের মুখ থেকে আপনি হাদিস শুনতে চান?

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৮ ই মে, ২০২৪ সকাল ১১:৪৫


,
আপনি যদি সচিব, পিএইচডি, ইন্জিনিয়ার, ডাক্তারদের মুখ থেকে হাদিস শুনতে চান, ভালো; শুনতে থাকুন। আমি এসব প্রফেশানেলদের মুখ থেকে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, বাজেট,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আকুতি

লিখেছেন অধীতি, ১৮ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৪:৩০

দেবোলীনা!
হাত রাখো হাতে।
আঙ্গুলে আঙ্গুল ছুঁয়ে বিষাদ নেমে আসুক।
ঝড়াপাতার গন্ধে বসন্ত পাখি ডেকে উঠুক।
বিকেলের কমলা রঙের রোদ তুলে নাও আঁচল জুড়ে।
সন্ধেবেলা শুকতারার সাথে কথা বলো,
অকৃত্রিম আলোয় মেশাও দেহ,
উষ্ণতা ছড়াও কোমল শরীরে,
বহুদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক- এর নুডুলস

লিখেছেন করুণাধারা, ১৮ ই মে, ২০২৪ রাত ৮:৫২



অনেকেই জানেন, তবু ক এর গল্পটা দিয়ে শুরু করলাম, কারণ আমার আজকের পোস্ট পুরোটাই ক বিষয়ক।


একজন পরীক্ষক এসএসসি পরীক্ষার অংক খাতা দেখতে গিয়ে একটা মোটাসোটা খাতা পেলেন । খুলে দেখলেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্প্রিং মোল্লার কোরআন পাঠ : সূরা নং - ২ : আল-বাকারা : আয়াত নং - ১

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৮ ই মে, ২০২৪ রাত ১০:১৬

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আল্লাহর নামের সাথে যিনি একমাত্র দাতা একমাত্র দয়ালু

২-১ : আলিফ-লাম-মীম


আল-বাকারা (গাভী) সূরাটি কোরআনের দ্বিতীয় এবং বৃহত্তম সূরা। সূরাটি শুরু হয়েছে আলিফ, লাম, মীম হরফ তিনটি দিয়ে।
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×