কিস্তি-১৮
বাসায় পৌঁছে দুঃসংবাদটা শুনলো অহনা। আজ ভোর সাড়ে পাঁচটায় নীদ মারা গেছে। সকাল সাতটায় অহনার মোবাইলে ফোন এসেছে। ফোন রিসিভ করেছেন রাবেয়া খাতুন। বিমানবন্দরে ফোন নিয়ে যায়নি অহনা। তা নাহলে সে-ই খবরটা জানতে পারতো।
রাবেয়া খাতুন জানালেন- কে ফোন করেছে নাম বলেনি। ফোন করে তোকে চাইলো। বললাম- এয়ারপোর্ট গেছে। তখন বললো- ওকে একটা খবর দেবেন। ওর বান্ধবী নীদ মারা গেছে।
গত দু’দিন থেকে মন ভাল নেই অহনার। কোন কারণ ছাড়াই মনটা খারাপ। বিষণ্নতা কাটছে না। অহনা খেয়াল করেছে- কোন দুঃসংবাদ পাওয়ার আগে তার এ রকম হয়। আজ সেই সংবাদটা পেল।
পারভেজ জানতে চাইলো কে নীদ? অহনা জানায়- নীদ তার বান্ধবী। খুব ঘনিষ্ঠ বান্ধবী যাকে বলে। বন্ধু-বান্ধব বহু থাকে। তার মধ্যে দু’একজন থাকে একটু আলাদা। যাকে বলে গলায় গলায় ভাব। নীদ ছিল তেমন। অহনা পারভেজকে বললো- তুমি রেস্ট নাও। আমি নীদকে দেখে আসি। মা, নীদের লাশ বাসায় নিয়ে গেছে নাকি হাসপাতালে।
এখন বাজে ১০টা। ফোন করেছে সাতটায়। এখন বাসায়ই থাকার কথা।
পারভেজ বললো- দাঁড়াও অহনা, আমি যাবো তোমার সঙ্গে।
এতটা পথ জার্নি করে এসেছো। তুমি বড্ড টায়ার্ড। রেস্ট নাও। আমি এক নজর দেখেই চলে আসবো।
আমি মোটেও টায়ার্ড না। চলো।
জাফর সাহেবও যেতে চাইলেন। শরীর খারাপ তাই অহনা তাকে নিল না।
রাস্তায় বেরিয়ে ট্যাক্সি নিতে চাইলো পারভেজ। অহনা বললো- সামান্য পথ, রিকশায় যাওয়া যাবে।
একটা রিকশা ডেকে তাতে চড়ে বসলো ওরা। এই রিকশাওয়ালা ভাড়ার ব্যাপারে কিছু জানতে চাইলো না। কে জানে যাওয়ার পর ভাড়া নিয়ে গেঞ্জাম করে কিনা। কিছু রিকশাওয়ালা আছে ভাড়া না বলে যাত্রী উঠায়। যাওয়ার পর ভাড়া নিয়ে শুরু করে ক্যাচাল।
কড়া রোদ উঠেছে। ভ্যাপসা গরম। রোদ দেখে মনে হচ্ছে না এখন সকাল ১১টা। ঘেমে একাকার অহনা। তার নাকেও ঘাম জমেছে। যে নারীর নাক ঘামে সে নাকি খুব স্বামী সোহাগী হয়। মাথায় করে রাখে স্বামী। হাসলে যাদের গালে টোল পড়ে তারা হয় স্বামীখেকো। অল্প বয়সে বিধবা হয়। যদিও এসব কথা বিশ্বাস করে না অহনা।
রিকশা এগোচ্ছে না। রাস্তায় জ্যাম। রিকশায় বসে থাকতে অসহ্য লাগছে। অহনার ইচ্ছা করছে রিকশা থেকে নেমে হেঁটে রওনা দেয়। এরই মধ্যে তার কাঁধে হাত রাখে পারভেজ। অহনাকে তার দিকে টেনে আনতে চায়। তার ইচ্ছা- আরও একটু ঘনিষ্ঠ হয়ে যদি বসা যায়। এতে অহনার সায় থাকলেও গরমের জন্য ভাল্লাগছে না।
পারভেজ বলে- ওহ মাই গড! কোনদিনই কি এ দেশের উন্নতি হবে না? আমাদের ইতালিতে কিন্তু কখনও এমন হয় না অহনা। তুমি বিশ্বাস করতে পারবা না সবকিছু কেমন সাজানো। একেবারে ছবির মতোন। সবকিছু সিস্টেমের ভেতর চলে। আর এখানে! ওহ্ ভাবা যায় না। দম বন্ধ হয়ে আসে।
পারভেজ একাই কথা বলে চলে। অহনা চুপচাপ। নিরুত্তর। সে ভাল মন্দ কিছুই বলছে না। মাঝে-মধ্যে পারভেজের মুখের দিকে তাকায়। মৃদু হাসে। নীদ মারা গেছে এ জন্য তার মন খারাপ নাকি স্বামী আতঙ্কে ভুগছে বোঝা যাচ্ছে না। ব্যাপারটা আঁচ করতে পারে পারভেজ। বলে- বান্ধবীর জন্য কি তোমার মন খারাপ?
ভাল-মন্দ কিছু বলে না অহনা। স্বামীর দিকে তাকায়। পারভেজ সান্ত্বনা দেয়- দেখো, এ পৃথিবী দু’দিনের। এখানে আমরা কেউ থাকবো না। আজ আমি কাল তুমি- এই তো খেলা। এ নিয়ে চিন্তা করো না প্লিজ। আমি এতদিন পর ফিরে এসেছি, তুমি যদি এভাবে থাকো...।
অহনা খেয়াল করে কথাবার্তায় পরিবর্তন এসেছে পারভেজের। মাথা তুলে স্বামীর দিকে তাকায়। এরপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে প্রশ্ন করে- আচ্ছা তুমি তো রোমে থাকো।
হ্যাঁ, কেন বলো তো?
নীদের স্বামীও রোমে থাকে।
তাই নাকি, কোন জায়গায়?
তা জানি না।
কিছুক্ষণ থেমে থেকে আবার প্রশ্ন করে অহনা- আচ্ছা ইতালিতে এইডস-এর সংক্রমণ খুব বেশি?
মানে, বুঝলাম না।
বলছি এইডস আক্রান্ত লোকের সংখ্যা কত?
তা বলতে পারবো না। কিন্তু কেন, হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন?
না, এমনিই। কৌতূহল।
আচ্ছা, নীদের কি হয়েছিল।
খুব আস্ত করে অহনা বলে- এইডস।
অহনা কথা বলে। তবে সে কথায় প্রাণ নেই। ছন্দ নেই। নীদদের বাসার সামনে এসে থামে রিকশা। ওরা বাড়ির ভেতরে যায়।
চলবে
ধারাবাহিক উপন্যাস নগ্নবেলা কিস্তি-১
ধারাবাহিক উপন্যাস নগ্নবেলা কিস্তি-২
ধারাবাহিক উপন্যাস নগ্নবেলা কিস্তি-৩
নগ্নবেলা কিস্তি-৪
নগ্নবেলা-৫
নগ্নবেলা-৬
নগ্নবেলা-৭
নগ্নবেলা-৮
নগ্নবেলা-৯
নগ্নবেলা-১০
নগ্নবেলা-১১
নগ্নবেলা-১২
নগ্নবেলা-১৩
নগ্নবেলা-১৪
নগ্নবেলা-১৫
নগ্নবেলা-১৬
নগ্নবেলা-১৭
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।