কিস্তি-১৯
বিছানায় শুয়ে আছেন জাফর সাহেব। বেশ হয়রান লাগছে। তিনি হাঁফাচ্ছেন। যেন কমপক্ষে এক ঘণ্টা দৌড়ে এসেছেন এই মাত্র। অথচ শুয়ে আছেন রাত ৯টা থেকে। এখন সাড়ে ১১টা। আড়াই ঘণ্টা ধরে তিনি বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছেন। ঘুম আসছে না। মাথার ওপর ফুল স্পিডে ফ্যান ঘুরছে। তবুও ঘামছেন। রাত যত বাড়ছে ঘামও ততই বাড়ছে। মনে হচ্ছে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী তেতে উঠছে। আসলে রাত যত বাড়ে পৃথিবী তত শীতল হয়। জাফর সাহেবের বেলায় হয়েছে তার উল্টো।
রাবেয়া খাতুন মাথায় তেল মালিশ করে দিয়েছেন। কোন কাজ হচ্ছে না। কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করেও উত্তর পাচ্ছেন না।
অহনা তার রুমে। সঙ্গে পারভেজ। এটা-ওটা নিয়ে কথা বলছে তারা। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার অহনাকে একান্তে পেতে চেয়েছে পারভেজ। অহনা নানা কথার ছলে তাকে নিবৃত্ত করছে। বলছে- বড় জার্নি করে এসেছো। আজ রেস্ট নাও। আমি তো আর চলে যাচ্ছি না। যা হবার কাল হবে। কিন্তু পারভেজ তা মানতে চাইছে না। অহনা ফাঁক-ফোকর খোঁজছে কিভাবে পারভেজের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। সুযোগটা এরই মধ্যে এলো। সামি এসে বললো- আপু, মা কানতাছে। বাবা যেন কেমন করছে।
তড়িঘড়ি করে ওঠে গেল অহনা। বললো- তুমি ঘুমাও, আমি দেখে আসি।
অহনাকে দেখে কিছুটা স্বস্তি বোধ করছেন জাফর সাহেব। বালিশের কাছে বসে মাথায় হাত বুলাচ্ছে সে। বাবার কাছে জানতে চাইছে কেমন লাগছে। বেশি খারাপ লাগলে চলো হাসপাতালে যাই। জাফর সাহেব বললেন- এখন অনেকটা সুস্থবোধ করছি। তুই বস আমার কাছে।
রাবেয়া খাতুনকে ঘুমিয়ে যেতে বললেন জাফর সাহেব। কিন্তু তিনি ঘুমাতে যাচ্ছেন না। বার বার বলছেন- ওঘরে পারভেজ একা। অহনার ওখানে যাওয়া উচিত।
বিছানায় একা ছটফট করছে পারভেজ। তার ঘুম আসছে না। অহনা আসছে না কেন বুঝতে পারছে না। রাত তিনটা পর্যন্ত অহনার জন্য অপেক্ষা করে বিছানা থেকে নামলো সে। শ্বশুরের রুমের সামনে গিয়ে বললো- অহনা, বাবার শরীর এখন কেমন।
অহনা বললো- ভেতরে এসো।
জাফর সাহেবকে দেখলো পারভেজ। টুকটাক কথাও হলো। বুঝতে পারলো আজ আর অহনাকে একান্তে পাওয়া যাবে না। সে ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লো।
পারভেজ চলে যাওয়ার পর ভান ভণিতার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন জাফর সাহেব। ছলছল চোখে বার বার মেয়ের দিকে তাকাচ্ছেন। ভেতরে চাপা উত্তেজনা কাজ করছে। কিছু বলতে গিয়েও পারছেন না বলে মনে হচ্ছে। অহনা সাহায্য করে বাবাকে।
বাবা কিছু বলবে?
এবার আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেন না জাফর সাহেব। আবেগ উথলে ওঠে।
মারে, আমারে মাফ করে দিস।
এ কথা বলছো কেন বাবা।
তোর কাছে আমি মস্ত অপরাধী। সব দোষ আমার। কেন আমি পারলাম না।
কি পারো নাই বাবা।
তোর বিয়েটা ঠেকাতে।
এবার বাবার অসুস্থতা, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার কারণটা বুঝতে পারে অহনা। সান্ত্বনা দিয়ে বলে-
মিছেই তুমি চিন্তা করছো বাবা। পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পত্তি তুমি আমায় দিয়েছো। তাহলো- শিক্ষা। শিক্ষা কখনও ভুল করে না বাবা। আমি জানি আমাকে কি করতে হবে। তুমি নিশ্চিন্ত থাকো।
বাবার বিস্ফারিত চোখ শূন্যে। কন্যার মুখের দিকে তাকাতে যেন লজ্জা পাচ্ছেন। ঠোঁট দু’টি কাঁপছে। বিগলে উঠছে চোখের জল।
অহনা স্থির, অনড়। তার তীক্ষ্ন দৃষ্টি বাবার ওপর স্থাপিত। খুব নাভার্স হয়ে পড়েছেন বাবা। নীদের শেষ পরিণতি তাকে দুর্বল করে তুলেছে। ভেতরে থর কাঁপুনি টের পায় অহনা। নিজের সঙ্গে কথা বলে- কষ্ট আমারও হচ্ছে বাবা। স্বামী ফিরে এসেছে। কোথায় সোনালি সময় কাটাবো। হারিয়ে যাবো অজানায়। উন্মদনায় উদ্ভাসিত হবো। আর আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। নিজেকে গুটিয়ে রাখছি। ভয় শঙ্কা আমাকেও তাড়া করছে। এরপর ঘোরে পরে যায় অহনা- বাসর রাত, উহ্ কি অদ্ভুত এক আচ্ছন্নতায় মিলিত হয়েছি তার সঙ্গে। আনন্দের সঙ্গে কি ভয়ানক বিষযন্ত্রণা। সুখ, কষ্টের এমন স্ববিরোধী প্রতিক্রিয়ায় ছটফট করেছি। ক্রমশ হিংস্র হয়ে ওঠা পুরুষটি সব প্রতিরোধ ঠেলে নিরন্তর এগোচ্ছে। ভয় পাচ্ছো? জানতে চায় সে। আমি আরও সঙ্কুচিত হওয়ার চেষ্টা করি। সব বাধার প্রাচীর ভেঙে ফেলে সে। আমার কম্পিত দেহ নিয়ে উন্মত্ত খেলায় মেতে ওঠে। আমি ব্যথায় ককিয়ে উঠি। উদ্ভূত এক অচেনা শব্দ বেরিয়ে আসে মুখ থেকে। সে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে। আমার উষ্ণরক্তে উথাল-পাতাল শুরু হয়। কণ্ঠনির্গত যন্ত্রণাধ্বনি উপেক্ষা করে তার সঙ্গে অংশ নিতে বাধ্য করে। তারপর এক অমোঘ অবশতায়, ক্লান্তিতে ঘুম আসে। ঘুমাতে পারিনি। তন্দ্রা এসেছিল মাত্র। আবার সে চড়াও হয়। আবার...আবার।
ফজরের আযান শুনে ঘুম ভেঙে যায় রাবেয়া খাতুনের। দেখেন- পিতার শয্যাপাশে বসে আছে অহনা। ঘুমে চোখ ঢুলুঢুলু। ডেকে ঘরে পাঠায়। ততক্ষণে চারদিক ফর্সা হয়ে এসেছে।
চলবে
ধারাবাহিক উপন্যাস নগ্নবেলা কিস্তি-১
ধারাবাহিক উপন্যাস নগ্নবেলা কিস্তি-২
ধারাবাহিক উপন্যাস নগ্নবেলা কিস্তি-৩
নগ্নবেলা কিস্তি-৪
নগ্নবেলা-৫
নগ্নবেলা-৬
নগ্নবেলা-৭
নগ্নবেলা-৮
নগ্নবেলা-৯
নগ্নবেলা-১০
নগ্নবেলা-১১
নগ্নবেলা-১২
নগ্নবেলা-১৩
নগ্নবেলা-১৪
নগ্নবেলা-১৫
নগ্নবেলা-১৬
নগ্নবেলা-১৭
নগ্নবেলা-১৮
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।