শেষ কিস্তি
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক শেষ করে ভেতরে ঢোকার আগে অহনার কাছে আসে পারভেজ। হাত ধরে বলে- আমাকে ক্ষমা করে দিও। তোমার ওপর অনেক জুলুম করেছি। জোর খাটাতে চেষ্টা করেছি। যা মোটেও উচিত হয়নি। এ জন্য আমি দুঃখিত ও লজ্জিত। সম্ভব হলে ক্ষমা করে দিও। আসলে আমি ভুলে গিয়েছিলাম আমার পরিচয়। আমার সীমাবদ্ধতা।
দু’চোখ উপচে অশ্রুর ধারা উথলে পড়ে। কাঁপা কণ্ঠের উচ্চারণ- আসলে আমার মান-অপমান বোধ খুব কম। ছোটকাল থেকে সকলের মুখে তা-ই শুনে এসেছি। টাকার জন্য জীবনে নিজেকে কত জায়গায় কতভাবে বিকিয়েছি। মানুষের লাথি, ধাক্কা খেতে খেতে কেমন ভোঁতা হয়ে গেছি। কোন কিছুতেই গা করি নি। শিক্ষাও নেই নি। অথচ দেখো- তোমার একটা কথা আমাকে বড় বেশি অপমানিত করলো। আমার সমস্ত সত্ত্বা ও অস্তিত্বে সজোরে প্রচণ্ড একটা ধাক্কা। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর কাছ থেকেও...। যাকে আমি জীবন দিয়ে ভালবাসি। তবে আজ মনে হয় এটার খুব বেশি দরকার ছিল। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এই নাও, এটা ধরো। এখন খুলবে না। আমি যখন ভেতরে চলে যাবো। কিংবা বিমানে উঠে যাবো তখন এটা খুলবে। আসি, ভাল থেকো। সুখে থেকো।
অহনাকে কিছু বলার সুযোগ দিল না পারভেজ। খামটা হাতে ধরিয়ে দিয়ে হনহন করে ছুটে গেল ভেতরে। গ্লাসের মধ্য দিয়ে দেখা যায় নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে পারভেজ ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণের মধ্যে বিমান আকাশে উড়বে। অহনার বুকে সহস্র তোলপাড়। কি আছে এই খামে। পারভেজ কি তাকে চিরমুক্তি দিয়ে গেল। এটা কি ডিভোর্স পেপার! অহনার হাত কাঁপছে। খামটা খুলবে কি খুলবে না সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় নেয়। খামটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখে। এরপর আস্তে আস্তে খোলে। কতগুলো মেডিকেল রিপোর্ট আর ছোট্ট একটা চিরকুট। কিসের মেডিকেল রিপোর্ট এগুলো। চোখ ঘুরে বেড়ায় পাতা থেকে পাতায়। সর্বশেষ চিরকুটে গিয়ে থামে-
অহনা
আমি অশিক্ষিত হতে পারি। কিন্তু অসৎ নই। একটা রিপোর্টের জন্য তুমি আমাকে যে কষ্ট দিলে তা মনে থাকবে চিরদিন। আমার ওপর তোমার বিশ্বাস নেই, আস্থা নেই। তোমার সব বিশ্বাস রিপোর্টে। এগুলো সেই বিশ্বাসের দলিল। একবার ভাবলে না তোমাকে কতটা ভালবাসি। অহনা, বিশ্বাস করো আমার জীবনে তুমিই একমাত্র নারী। তোমাকে ছাড়া দ্বিতীয় কোন নারীকে আমি ছুঁয়ে দেখিনি। কোনদিন ছুঁতে পারবোও না। আমি চলে যাচ্ছি। যাওয়ার আগে তোমাকে বিশ্বাস ও আস্থার দলিল দিয়ে গেলাম। আর কোনদিন আমি দেশে ফিরে আসবো না। না, আমি তোমাকে ডিভোর্স দিতে পারবো না। তবে তুমি ইচ্ছা করলে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য কাউকে নিয়ে সুখের সংসার সাজাতে পারো। পারলে ক্ষমা করে দিও।
ইতি
পারভেজ
চিঠি পড়ে স্থির থাকতে পারে না অহনা। সারা শরীরে লাভার বিচ্ছুরণ ঘটে। খামটা বুকে চেপে ধরে বসে পড়ে। ঝিম ধরে সারা গায়ে। কি তীব্র অবশতা তাকে বরফের মতো শক্ত করে তুলছে। নড়ার বৃথা চেষ্টা করছে। মোজাইক করা মেঝেটাকে মনে হচ্ছে কাঁদায় মাখামাখি। তার পা টেনে ধরছে। মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা। হৃদয়ে দহন- এটা তুমি কি করলে পারভেজ। আমার একটা পজেটিভ বিষয় তুমি নেগেটিভ হিসেবে নিলা। একবারও আমার দিকটা চিন্তা করলে না। চিৎকার করে বলে- নিপুণ তোর দুলাভাইকে থামা।
পারভেজকে বহনকারী বিমান তখন আকাশে ডানা মেলে ধরেছে। অহনার চোখ আটকে থাকে সেদিকে। দেখতে দেখতে দৃষ্টিশক্তির সীমানা অতিক্রম করে বিমান। আকাশে তখন অঝোর ধারায় কান্না।
সমাপ্ত
ধারাবাহিক উপন্যাস নগ্নবেলা কিস্তি-১
ধারাবাহিক উপন্যাস নগ্নবেলা কিস্তি-২
ধারাবাহিক উপন্যাস নগ্নবেলা কিস্তি-৩
নগ্নবেলা কিস্তি-৪
নগ্নবেলা-৫
নগ্নবেলা-৬
নগ্নবেলা-৭
নগ্নবেলা-৮
নগ্নবেলা-৯
নগ্নবেলা-১০
নগ্নবেলা-১১
নগ্নবেলা-১২
নগ্নবেলা-১৩
নগ্নবেলা-১৪
নগ্নবেলা-১৫
নগ্নবেলা-১৬
নগ্নবেলা-১৭
নগ্নবেলা-১৮
নগ্নবেলা-১৯
নগ্নবেলা-২০
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই
ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।