somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রক্তকাঞ্চন

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আন গো ডালা গাঁথ গো মালা,
আন মাধবী মালতী অশোকমঞ্জরী, আয় তোরা আয়।
আন করবী রঙ্গন কাঞ্চন রজনীগন্ধা প্রফুল্লমল্লিকা, আয় তোরা আয়।

----- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -----


রক্তকাঞ্চন
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : কাঞ্চনার, কাঞ্চনক, পাকারি, রক্তপুষ্পক, লালকাঞ্চন
Common Name : Orchid tree, Camel's foot tree, Kachnar, Mountain ebony, Red flowered bauhinia, Napoleon's hat, Paper mulberry, Poor man's orchid, Variegated orchid tree.
Scientific Name : Bauhinia variegata



নানান ধরনের কাঞ্চন ফুল দেখতে পাওয়া যায়। রং, আকার, ধরনের বিবেচনায় তাদের সংখ্যা একেবারে কম নয়। তবে আমাদের বাংলাদেশে সাধারণত তিন ধরনের কাঞ্চনই বেশী দেখা যায়। শ্বেতকাঞ্চন, দেবকাঞ্চন এবং রক্তকাঞ্চন। এদের মধ্যে দেবকাঞ্চন চোখে পড়ে তুলনায় কম, শ্বেতকাঞ্চন এবং রক্তকাঞ্চনের আধিক্যই বেশী। তাছাড়া হাইব্রীড কাঞ্চনও আছে।



রক্তকাঞ্চন এক প্রকারের অলঙ্কারিক বৃক্ষ। এরা ছোট আকারের কষ্ট সহিষ্ণু গাছ। গাছে কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা বেশ শক্ত ও খাটো। তবে মাঝে মধ্যে বেশ বড় আকারের রক্তাঞ্চনের গাছও দেখতে পাওয়া যায়।

রক্তকাঞ্চন পত্রঝরা ভারতীয় প্রজাতির গাছ। শীত ও বসন্তে রক্তকাঞ্চনের অনেক পাতা ঝরে গিয়ে গাছে বেগুনি রঙের সুগন্ধী ফুলে ভরে যায়। যখন পত্রহীন রক্তকাঞ্চন গাছ রক্তিম ফুলে ফুলে গাছ ভরে যায় তখন তা দেখতে অসাধারণ লাগে। যদিও এমন রূপ সব সময় সব গাছে দেখা যায় না। ফুটন্ত ফুলে রূপসী কাঞ্চন গাছ সবার নজর কাড়ে। শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে এক বা একাধিক ফুল ফুটতে দেখা যায়। শীতের শেষে ফুল ফোটা শুরু হয়ে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত গাছে ফুল থাকে। গাছে কয়েক মাস ধরে ফুল ফোটলেও মৌসুমের শুরুতে গাছে বেশি সংখ্যক ফুল ফোটে।

ফাল্গুনে বিকশিত
কাঞ্চন ফুল ,
ডালে ডালে পুঞ্জিত
আম্রমুকুল।

----- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -----



রক্তকাঞ্চন ফুল মূলত ঘন মেজেন্টা রঙের। ফুলে বড় বড় পাঁচটি পাপড়ি থাকে। পাঁচটি পাপড়ির ঠিক মাঝের পাপড়িটি অন্যগুলির চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম। মাঝের পাপড়িটির গোড়ার দিকে গাঢ় বেগুনি রঙের কারুকার্য থাকে। ফুলের মাঝে কাস্তের মতো বাঁকানো পরাগদণ্ড থাকে। রক্তকাঞ্চন ঘন মেজেন্টা রঙের হলেও এর একটি সাদা রঙের প্রকারভেদও আছে।

ফুল শেষে গাছে ফল হয়। ফল দেখতে শিমের মতো চ্যাপ্টা সবুজ। ফল পরিপক্ক হলে শুকিয়ে ফেটে বীজগুলো চার পাশে ছড়িয়ে পড়ে। বীজ ও ডাল কাটিংয়ের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা যায়।

অদূরে ফুটেছে নেবু ফুল,
গাছ ভরেছে গোলকচাঁপায়,
কোণের গাছে ধরেছে কাঞ্চন,
কুড়চি-শাখা ফুলের তপস্যায় মহাশ্বেতা।

----- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -----



বসন্তের মাঝামাঝি গাছে নতুন পাতা গজায়। রক্তকাঞ্চন বা যেকোনো কাঞ্চন গাছের পাতা কিন্তু বেশ দেখতে। অন্য যেকোনো গাছের পাতার চেয়ে অনেক বেশী আলাদা হয়। পাতা গুলি হৃদয় আকৃতির মাঝারি সাইজের হয়। পাতা দেখে খুব সহজেই কাঞ্চন গাছ চেনা যায়। তবে সেটি কোন কাঞ্চন তা পাতা দেখে অনুমান করা কঠিন।

অনেকই রক্তকাঞ্চন ফুলকে দেবকাঞ্চনের সাথে মিলেয়ে ফেলে। দুটি আলাদা করার সবচেয়ে সহজ বিষয় হচ্ছে ফুল ফুটার সময়। দেবকাঞ্চন ফুটে হেমন্ত ও শীতে। এই সময় রক্তক্ঞ্চন ফুটে না। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ফুলের পাপড়ি। দেবকাঞ্চনের পাপড়ি মুক্ত, আর রক্তকাঞ্চনের পাপড়ি একটার উপরে আরেকটি উঠে আসে।



ছবি তোলার স্থান : উত্তর বাড্ড, ঢাকা, বাংলাদেশ।
ছবি তোলার তারিখ : ৬ই জানুয়ারি, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ।
তথ্য সূত্র : অন্তর্জাল।
ছবি ও বর্ণনা : নিজ।


=================================================================

আজি যত কুসুম কলি ফুটিলো কাননে

অশোক, অর্কিড, অলকানন্দা, অলকানন্দা (বেগুনী), অলকানন্দা (হলুদ), অ্যালামন্ডা (বেগুনী), আকন্দ, আমরুল, অপরাজিতা, আফ্রিকান টিউলিপ,
উগান্ডা শিখা, উর্বশী, উর্বসী, এরোমেটিক জুঁই, এ্যালামন্ডা (বেগুনী)
কলাবতী, কচুরিপানা ফুল, কসমস, কালো পঙ্গপাল, কর্ণফ্লাওয়ার, কন্টকলতা, ক্যালেনডুলা, কামান গোলা, কাগজ ফুল, কালো বাদুড় ফুল, কাঁটামুকুট, কন্টকমুকুট, কাঞ্চনার, কৃষ্ণচূড়া, খাড়া মুরালি
গাঁদা, গেন্ধা, গন্ধা, রক্তগাঁদা, গামারি, গামার, গাম্বার, গোলাপ, গোলাপি আমরুল, গ্লুকাস ক্যাসিয়া, গৌরিচৌরি, গিরিপুষ্প, গুলেটু, ঘোড়া চক্কর
চন্দ্রপ্রভা, চন্দ্রমুখী চন্দ্রমল্লিকা (হালকা গোলাপি), চন্দ্রমুখী চন্দ্রমল্লিকা (সাদা), চন্দ্রমুখী চন্দ্রমল্লিকা (লালচে গোলাপি), চন্দ্রমুখী চন্দ্রমল্লিকা (কমলা), চন্দ্রমল্লিকা (হলুদ-সাদা), ছোটপানা
জবা, সাদা জবা, ঝুমকো জবা, লঙ্কা জবা, পঞ্চমুখী জবা, বহুদল জবা, রক্ত জবা, হলুদ জবা, ক্রিম জবা, গোলাপী জবা
জারবেরা, জ্যাকারান্ডা, ঝুমকোলতা, ঝুমকো জবা
ডালিয়া, তমাল, তারাঝরা
দাঁতরাঙ্গা, দাদমর্দন, দেবকাঞ্চন, দোলনচাঁপা, ধুতুরা
নাগেশ্বর, নাগচম্পা, নাগলিঙ্গম, নীল হুড়হুড়ে, নীল জ্যাকারান্ডা, নীল বনলতা, নীল লতা, নীল-পারুল, নীল-পারুল লতা, নয়নতারা,
পপী, পুন্নাগ, পারুল লতা, পঞ্চমুখী জবা, পুর্তলিকা, পুত্তলিকা, পটপটি
ফাল্গুনমঞ্জরী, ফুরুস (সাদা)
বরুণ, বড়নখা, বিড়াল নখা, বিলাই আঁচড়া, বাদুড় ফুল, বাগানবিলাস, বাসন্তীলতা, বোগেনভিলিয়া, বোতল ব্রাশ, ব্লিডিং হার্ট, বন পালং, বন তেজপাতা, বার্মিজ গোলাপি সোনাইল, ভাট ফুল
মাধবীলতা, মাধবিকা, মধুমঞ্জরি, মিয়ানমার ফুল,
রঙ্গন, রুক্সিনী, রক্তক, রুদ্রপলাশ, রাজ অশোক, রাজ অশোক, রাধীকা নাচন, রাধাচূড়া, রত্নগণ্ডি, রাণীচূড়া, রসুন্ধি লতা, রুয়েলিয়া, রক্ত জবা, রক্তকাঞ্চন, রক্তপুষ্পক
লতা মাধবী, লতা পারুল, লাল আকন্দ, লাল কাঞ্চন, লাল শাপলা
শাপলা (সাদা), শাপলা (লাল), শিউলি, শেফালি, শেফালিকা, শিবজটা, শিবঝুল, শিমুল, শ্বেত অপরাজিতা, শ্বেত পুষ্পা, শ্বেত অকন্দ
সন্ধ্যামালতী, সুলতান চাঁপা, সুখ মুরালি, সোনাপাতি, সিদ্ধেশ্বর, সিদ্ধেশ্বরা, সোকরে
হাতি জোলাপ,

অশোক ফুলের ছবি, নাগেশ্বর ও ভমর, পলাশ ফুটেছে......, ডালিয়া, ধুতরা ফুল, একটি দাঁতরাঙ্গা ফুল

মিষ্টি জলপাইয়ের ফুল, ডালের ফুল, চুকাই ফুল, চুকুর ফুল, সরষে ফুল, সর্রিষা ফুল, তিল ফুল, বিষকাটালি, পাহাড়ি বিষকাটালি,

বাংলাদেশের সংরক্ষিত উদ্ভিদের সচিত্র তালিকা, অশোক সমগ্র, কৃষ্ণচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া ও কনকচূড়া বিতর্ক, পলাশ ও পারিজাত পরিচিতি, চাঁপা নিয়ে চাপাবাজি, আতা কাহিনী, বিলম্ব, মাছি ফাঁদ উদ্ভিদ, জল জমানি পাতা, শিউলি
=================================================================
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:৫৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরীক্ষা পদ্ধতি ছাড়া ছাত্রছাত্রীদের মেধা যাচাই এর দ্বীতিয় কোন বিকল্প নাই

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২৩ দুপুর ২:০৯

শিক্ষার্থীদের আনন্দময় পরিবেশে পড়ানোর পাশাপাশি মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে দক্ষতা, সৃজনশীলতা, জ্ঞান ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে শেখাতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। এক্ষেত্রে উন্নত দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি *****************************

লিখেছেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২৩ বিকাল ৩:০০

বাংলাদেশে এক সময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ছিল সর্বোচ্চ ২৭ বছর আর অবসরের বয়সসীমা ছিল ৫৭ বছর। এটা হয়তো সেই সময়ের জন্য সঠিক ছিল। পরবর্তী কালে সময়ের প্রয়োজনে সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের উৎপাতে ফেসবুক ইউজ করা কষ্টসাধ্য

লিখেছেন ডার্ক ম্যান, ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ১০:০৬

নতুন করে ফেসবুক ইউজ করা শুরু করেছি কয়েকদিন ধরে। ২/৩ জন ছাড়া তেমন কাউকে এড করা হয় নি । কিন্তু তাতে ফেসবুকের সম্ভবত গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। ফেসবুক এমন অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হে অনন্ত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ১১:১০



হে অনন্ত দিবা-নিশি ভাবনা আমার
প্রাণ-মন এক করে অবিরত চলে
অন্তহীন হে অসীম কার কথা বলে,
সিক্তচোখ, প্রতিক্ষণে নিত্য সাধনায়?
দৃষ্টি চলে অবিরত ছড়ানো অপার
রূপরাশি মুগ্ধতায়, তাতে মন দোলে
আনন্দে অনিন্দ চিত্তে মহাকৌতুহলে
প্রতিটি সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ও নব্য, আধুনিক ও রপ্তানিযোগ্য শিক্ষাবিদ!

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ১২:১৮


চিত্রঃ অন্তর্জাল


নতুন শিক্ষা কারিকুলাম চালু হইছে দেশে।

বরাবরের মত জাতির সিংহভাগই ধারণা করছে এই শিক্ষা ব্যবস্থা কোনো কাজের ই না।

এই শিক্ষা ব্যাবস্থা দেশের শিক্ষারে পংগু কইরা দিবে, জাতির মেরুদণ্ড ভাইংগা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×